সেদিনের বিকেলটার কথা আজও ভুলতে পারে না অর্ণব।
আকাশজুড়ে কালো মেঘ ছিল, টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছিল শহরের অলিগলিতে।
রাস্তার পাশের ছোট্ট চায়ের দোকানটায় দাঁড়িয়ে অর্ণব চুপচাপ বৃষ্টি দেখছিল।
হঠাৎ পিছন থেকে পরিচিত এক কণ্ঠ ভেসে এলো—
এই যে মিস্টার, আমাকে একটা প্রেমপত্র দিবা?
অর্ণব ঘুরে তাকাতেই থমকে গেল।
নীল শাড়ি পরে বৃষ্টিতে ভেজা মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেহরিন।
চোখে সেই চিরচেনা মায়া, ঠোঁটে দুষ্টু হাসি।
অর্ণব কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বলল,
আমি—তোমাকে প্রেমপত্র লিখবো?
মেহরিন মৃদু হেসে মাথা নেড়ে বলল,
হ্যাঁ, শুধু আমার জন্য।
বৃষ্টির শব্দের মাঝেও যেন মুহূর্তটা থেমে গিয়েছিল।
অর্ণবের বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল।
কারণ মেহরিন ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভ্যাস।
অর্ণব ধীরে ধীরে মেহরিনের কাছে এগিয়ে এসে বলল,
জানো, এই বর্ষায় তোমাকে খুব কাছে পেতে মন চায়।
মেহরিন বিস্মিত চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
বর্ষা এসে গেছে নাকি?
অর্ণব হেসে বলেছিল,
তোমার নীল শাড়ি আর বৃষ্টি ভেজা মুখটাই তো আমার বর্ষা।
মেহরিন কিছু বলল না।
শুধু লাজুক হেসে মাথাটা নিচু করল।
সেই হাসিটুকু দেখেই অর্ণবের মনে হয়েছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হয়তো এটাই।
তারপর অনেক সময় কেটে গেল।
জীবনের ব্যস্ততা, বাস্তবতার দূরত্ব—সব মিলিয়ে দু’জন এখন দুই শহরে থাকে।
আগের মতো প্রতিদিন কথা হয় না, হঠাৎ দেখা হওয়াও হয় না।
তবু বৃষ্টি নামলেই অর্ণবের মনে পড়ে সেই বিকেলের কথা।
মনে পড়ে নীল শাড়ি পরা মেয়েটার কথা, যে একদিন খুব সহজভাবে বলেছিল—
আমাকে একটা প্রেমপত্র দিবা?
অনেকবার প্রেমপত্র লিখতে বসেছে অর্ণব।
কাগজে প্রথমে লিখেছে—
প্রিয় মেহরিন,
তারপর আর কিছু লিখতে পারেনি।
কারণ কিছু মানুষকে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
তাদের শুধু অনুভব করা যায়।
তবু এক রাতে, জানালার পাশে বসে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে অর্ণব শেষ পর্যন্ত লিখেছিল—
প্রিয় মেহরিন,
তুমি জানো? আজও বৃষ্টি নামলে আমার মনে হয়, পৃথিবীর সব ঋতু মিলে তোমার নাম হয়ে গেছে।
তোমার সেই নীল শাড়ির বিকেলটা আজও আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি।
যদি কোনোদিন আবার দেখা হয়, আমি তোমাকে আর কোনো প্রশ্ন করবো না…
শুধু নিঃশব্দে তোমার হাতে এই প্রেমপত্রটা তুলে দেব। কারণ আমার সব ভালোবাসার শুরু আর শেষ—তুমি।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
সেদিনের বিকেলটার কথা আজও ভুলতে পারে না অর্ণব।
আকাশজুড়ে কালো মেঘ ছিল, টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছিল শহরের অলিগলিতে।
রাস্তার পাশের ছোট্ট চায়ের দোকানটায় দাঁড়িয়ে অর্ণব চুপচাপ বৃষ্টি দেখছিল।
হঠাৎ পিছন থেকে পরিচিত এক কণ্ঠ ভেসে এলো—
এই যে মিস্টার, আমাকে একটা প্রেমপত্র দিবা?
অর্ণব ঘুরে তাকাতেই থমকে গেল।
নীল শাড়ি পরে বৃষ্টিতে ভেজা মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেহরিন।
চোখে সেই চিরচেনা মায়া, ঠোঁটে দুষ্টু হাসি।
অর্ণব কিছুক্ষণ অবাক হয়ে তাকিয়ে থেকে বলল,
আমি—তোমাকে প্রেমপত্র লিখবো?
মেহরিন মৃদু হেসে মাথা নেড়ে বলল,
হ্যাঁ, শুধু আমার জন্য।
বৃষ্টির শব্দের মাঝেও যেন মুহূর্তটা থেমে গিয়েছিল।
অর্ণবের বুকের ভেতর কেমন অদ্ভুত একটা অনুভূতি হচ্ছিল।
কারণ মেহরিন ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভ্যাস।
অর্ণব ধীরে ধীরে মেহরিনের কাছে এগিয়ে এসে বলল,
জানো, এই বর্ষায় তোমাকে খুব কাছে পেতে মন চায়।
মেহরিন বিস্মিত চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
বর্ষা এসে গেছে নাকি?
অর্ণব হেসে বলেছিল,
তোমার নীল শাড়ি আর বৃষ্টি ভেজা মুখটাই তো আমার বর্ষা।
মেহরিন কিছু বলল না।
শুধু লাজুক হেসে মাথাটা নিচু করল।
সেই হাসিটুকু দেখেই অর্ণবের মনে হয়েছিল, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দৃশ্য হয়তো এটাই।
তারপর অনেক সময় কেটে গেল।
জীবনের ব্যস্ততা, বাস্তবতার দূরত্ব—সব মিলিয়ে দু’জন এখন দুই শহরে থাকে।
আগের মতো প্রতিদিন কথা হয় না, হঠাৎ দেখা হওয়াও হয় না।
তবু বৃষ্টি নামলেই অর্ণবের মনে পড়ে সেই বিকেলের কথা।
মনে পড়ে নীল শাড়ি পরা মেয়েটার কথা, যে একদিন খুব সহজভাবে বলেছিল—
আমাকে একটা প্রেমপত্র দিবা?
অনেকবার প্রেমপত্র লিখতে বসেছে অর্ণব।
কাগজে প্রথমে লিখেছে—
প্রিয় মেহরিন,
তারপর আর কিছু লিখতে পারেনি।
কারণ কিছু মানুষকে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
তাদের শুধু অনুভব করা যায়।
তবু এক রাতে, জানালার পাশে বসে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে অর্ণব শেষ পর্যন্ত লিখেছিল—
প্রিয় মেহরিন,
তুমি জানো? আজও বৃষ্টি নামলে আমার মনে হয়, পৃথিবীর সব ঋতু মিলে তোমার নাম হয়ে গেছে।
তোমার সেই নীল শাড়ির বিকেলটা আজও আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতি।
যদি কোনোদিন আবার দেখা হয়, আমি তোমাকে আর কোনো প্রশ্ন করবো না…
শুধু নিঃশব্দে তোমার হাতে এই প্রেমপত্রটা তুলে দেব। কারণ আমার সব ভালোবাসার শুরু আর শেষ—তুমি।

আপনার মতামত লিখুন