মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬

বালিয়াকান্দিতে আগাম ফুলকপিতে ভয়াবহ পচন রোগ, মারাত্মক ক্ষতির মুখে চাষিরা

বালিয়াকান্দিতে আগাম ফুলকপিতে ভয়াবহ পচন রোগ, মারাত্মক ক্ষতির মুখে চাষিরা

বাড়ে খরচের ধকল, মেলে না সমাধান: গাংনীতে আমন খেতে মাজরা ও গোড়া পচা রোগের হানা

বাড়ে খরচের ধকল, মেলে না সমাধান: গাংনীতে আমন খেতে মাজরা ও গোড়া পচা রোগের হানা

পাইকগাছার নার্সারিগুলোতে গুটি কলমের ব্যস্ততা, শ্রমসংকটে বাড়তি খরচের চাপ

পাইকগাছার নার্সারিগুলোতে গুটি কলমের ব্যস্ততা, শ্রমসংকটে বাড়তি খরচের চাপ

ফরিদপুরে কৃষিতে নতুন দিগন্ত: সালথায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ!

ফরিদপুরে কৃষিতে নতুন দিগন্ত: সালথায় প্রথমবারের মতো ৮ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ!

হাওরে কৃষকের হাহাকার: পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ডুবছে সোনালি স্বপ্ন

হাওরে কৃষকের হাহাকার: পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে ডুবছে সোনালি স্বপ্ন

সবুজ মাঠ এখন সোনালি রঙে রঙিন: হাসি ফুটবে কি মুকসুদপুরের কৃষকের মুখে?

সবুজ মাঠ এখন সোনালি রঙে রঙিন: হাসি ফুটবে কি মুকসুদপুরের কৃষকের মুখে?

হলুদ প্রান্তরে কৃষকের হাসি: চরফ্যাশনে সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা

হলুদ প্রান্তরে কৃষকের হাসি: চরফ্যাশনে সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনা

গোপালগঞ্জে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন: সুফল পাবে কয়েক হাজার পরিবার।

গোপালগঞ্জে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন: সুফল পাবে কয়েক হাজার পরিবার।

রাতের আঁধারেও দিনের আলো: শার্শায় লাইট ইনডোর পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে বিপ্লব।

রাতের আঁধারেও দিনের আলো: শার্শায় লাইট ইনডোর পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে বিপ্লব।

রাতের আঁধারে মাঠজুড়ে জ্বলছে শত শত এলইডি বাল্ব। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোনো উৎসবের আলোকসজ্জা কিংবা বিদেশের আধুনিক কোনো খামার। যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলের তরুণ উদ্যোক্তা আবেদুর রহমান এই কৃত্রিম আলো বা লাইট ইনডোর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অমৌসুমে ড্রাগন চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন। শীতের প্রতিকূলতা কাটিয়ে এই পদ্ধতিতে ফলন বাড়ছে প্রায় তিন গুণ।

যেভাবে কাজ করে লাইট পদ্ধতি

সাধারণত শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় এবং সূর্যের আলোর অভাবে ড্রাগন গাছে ফুল ও ফল আসা কমে যায়। এই সমস্যা সমাধানে ১০ বিঘা জমিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী শত শত এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন আবেদুর।

  • সময়সূচি: প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা এবং ভোররাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় এই আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়।
  • বিজ্ঞান: কৃত্রিম এই আলোর ফলে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে, যা শীতের আমেজেও গাছকে ফুল ও ফল দিতে সহায়তা করে।

বিনিয়োগ ও আয়ের হিসাব

উদ্যোক্তা আবেদুর রহমান জানান, ১০ বিঘা জমিতে এই প্রযুক্তিসহ বাগান সাজাতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তবে এর বিপরীতে বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। একবার বাগান করলে টানা ১০ বছর ফলন পাওয়া যায়। ভরা মৌসুমের চেয়ে অমৌসুমে ড্রাগন উৎপাদন করতে পারলে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা যায়, যা কৃষকদের জন্য বড় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পর্যটন ও বাণিজ্যের নতুন কেন্দ্র

আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই ড্রাগন বাগান এখন শুধু কৃষিক্ষেত্র নয়, বরং দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থী রাশেদুর রহমান রাশু বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত যত বাড়ে, আলোর ঝলকানি তত বাড়ে। গোটা এলাকা আলোকিত হয়ে সুন্দর এক রূপ ধারণ করে।

এসব বাগানের ড্রাগন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এমনকি ঢাকার ব্যবসায়ীরাও বাগান থেকে সরাসরি ড্রাগন সংগ্রহ করছেন।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। তিনি বলেন, অসময়ে ড্রাগন প্রাপ্তির জন্য কৃষকরা আর্টিফিশিয়াল লাইটিং ব্যবহার করছেন। এর ফলে তারা ভালো বাজারমূল্য পাচ্ছেন। কৃষি অফিস থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


রাতের আঁধারেও দিনের আলো: শার্শায় লাইট ইনডোর পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে বিপ্লব।

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬

featured Image

রাতের আঁধারে মাঠজুড়ে জ্বলছে শত শত এলইডি বাল্ব। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোনো উৎসবের আলোকসজ্জা কিংবা বিদেশের আধুনিক কোনো খামার। যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোলের তরুণ উদ্যোক্তা আবেদুর রহমান এই কৃত্রিম আলো বা লাইট ইনডোর প্রযুক্তি ব্যবহার করে অমৌসুমে ড্রাগন চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন। শীতের প্রতিকূলতা কাটিয়ে এই পদ্ধতিতে ফলন বাড়ছে প্রায় তিন গুণ।

যেভাবে কাজ করে লাইট পদ্ধতি

সাধারণত শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় এবং সূর্যের আলোর অভাবে ড্রাগন গাছে ফুল ও ফল আসা কমে যায়। এই সমস্যা সমাধানে ১০ বিঘা জমিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী শত শত এলইডি বাল্ব স্থাপন করেছেন আবেদুর।

  • সময়সূচি: প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা এবং ভোররাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় এই আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়।
  • বিজ্ঞান: কৃত্রিম এই আলোর ফলে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে, যা শীতের আমেজেও গাছকে ফুল ও ফল দিতে সহায়তা করে।

বিনিয়োগ ও আয়ের হিসাব

উদ্যোক্তা আবেদুর রহমান জানান, ১০ বিঘা জমিতে এই প্রযুক্তিসহ বাগান সাজাতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তবে এর বিপরীতে বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। একবার বাগান করলে টানা ১০ বছর ফলন পাওয়া যায়। ভরা মৌসুমের চেয়ে অমৌসুমে ড্রাগন উৎপাদন করতে পারলে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা যায়, যা কৃষকদের জন্য বড় আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পর্যটন ও বাণিজ্যের নতুন কেন্দ্র

আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই ড্রাগন বাগান এখন শুধু কৃষিক্ষেত্র নয়, বরং দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দর্শনার্থী রাশেদুর রহমান রাশু বলেন, সন্ধ্যা থেকে রাত যত বাড়ে, আলোর ঝলকানি তত বাড়ে। গোটা এলাকা আলোকিত হয়ে সুন্দর এক রূপ ধারণ করে।

এসব বাগানের ড্রাগন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যশোরসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এমনকি ঢাকার ব্যবসায়ীরাও বাগান থেকে সরাসরি ড্রাগন সংগ্রহ করছেন।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার সাহা জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। তিনি বলেন, অসময়ে ড্রাগন প্রাপ্তির জন্য কৃষকরা আর্টিফিশিয়াল লাইটিং ব্যবহার করছেন। এর ফলে তারা ভালো বাজারমূল্য পাচ্ছেন। কৃষি অফিস থেকে আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছি।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো