বৃষ্টিটা সেদিন খুব অদ্ভুত ছিল।
জানালার কাঁচ বেয়ে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়ছিল, আর নীল দাঁড়িয়ে ছিল বারান্দায়। হাতে আধখাওয়া সিগারেট, চোখে একরাশ ক্লান্তি।
অনেকদিন ধরেই সে বুঝতে পারছিল—মায়া বদলে গেছে।
আগের মতো আর ফোন করে না, রাত জেগে গল্প করতে চায় না, ছোট ছোট কথায় হাসে না।
সবকিছু কেমন যেন হিসাব করে চলে।
একসময় মায়া নীলের দিকে তাকিয়ে থাকত মুগ্ধ হয়ে।
নীলের এলোমেলো চুল, রাগী মুখ, হঠাৎ অভিমান—সবকিছুতেই সে ভালোবাসা খুঁজে পেত।
আর এখন?
এখন মায়ার চোখে শুধু দূরত্ব।
সেদিন রাতে হঠাৎ মায়ার একটা মেসেজ এলো—
কথা আছে।
নীলের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
কারণ কিছু কিছু শব্দ মানুষ আগেই চিনে যায়।
কথা আছে মানেই সবসময় নতুন কিছু না, কখনো কখনো শেষ হয়ে যাওয়ার আগের দরজাও।
মায়ার সঙ্গে দেখা হলো পুরোনো সেই লেকের ধারে।
যেখানে একদিন দুজনে বসে ভবিষ্যতের গল্প করেছিল।
আজ একই জায়গা, অথচ সবকিছু অচেনা।
মায়া চুপচাপ ছিল।
নীল তাকিয়ে দেখল, মেয়েটা আগের চেয়ে আরও সুন্দর হয়েছে।
শুধু তার চোখদুটো আর আগের মতো নেই।
নীল হঠাৎ আস্তে করে বলল,
তুমি বদলাইয়া গেছো।
মায়া কিছু বলল না।
নীল আবার বলল,
এখন আর তুমি আমারে ভালোবাসো না… এইটা আমি টের পাই। তোমার চোখে এখন আর আমার জন্য মুগ্ধতা নাই।
হাওয়াটা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল।
মায়া নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।
নীল মৃদু হেসে বলল,
গাছ যেমন নতুন পাতা পাইয়া ঝইরা যাওয়া পাতার মায়া ভুইলা যায়… আমার প্রতি তুমি তেমন উদাসীন হইয়া গেছো।
মায়ার চোখে তখন পানি চিকচিক করছিল।
তবু সে কিছু বলছিল না।
কিছুক্ষণ পরে নীল খুব শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,
একটা কথা বলবে?
হুম…
আমারে ছাইড়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত… ঠিক কতদিন ধইরা নিয়েছো?
প্রশ্নটা শুনে মায়া ভেঙে পড়ল।
কারণ সত্যি হলো—
হুট করে কেউ কাউরে ছাইড়া যায় না।
যাওয়ার আগে মানুষ নিজের ভেতরে হাজারবার বিদায় নেয়।
ভালোবাসার সঙ্গে স্বার্থের হিসাব মেলায়।
কষ্টের চেয়ে শান্তি বেশি দরকার হয়ে যায়।
মায়া কাঁপা গলায় বলল,
অনেকদিন ধইরাই…
নীল মাথা নিচু করে হেসে ফেলল।
অদ্ভুত সেই হাসি।
যেখানে কান্না ছিল, অভিমান ছিল, কিন্তু রাগ ছিল না।
কারণ সে বুঝে গিয়েছিল—
ভালোবাসা কখনো জোর করে ধরে রাখা যায় না।
যে মানুষ একসময় বুকের ভেতর ঘর বানাইছিল, সে মানুষই একদিন নীরবে সেই ঘর ছাড়তে শিখে যায়।
বৃষ্টি তখন আরও জোরে নামছিল।
মায়া একবার নীলের দিকে তাকিয়েছিল।
হয়তো শেষবারের মতো।
আর নীল মনে মনে শুধু একটা কথাই বলেছিল—
তুমি সুখে থাকো…
কারণ আমারে ভুলে যাওয়া যদি তোমার শান্তি হয়, তাইলে সেই শান্তির কাছে আমি হারতেই রাজি।
বিষয় : গল্প

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
বৃষ্টিটা সেদিন খুব অদ্ভুত ছিল।
জানালার কাঁচ বেয়ে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়ছিল, আর নীল দাঁড়িয়ে ছিল বারান্দায়। হাতে আধখাওয়া সিগারেট, চোখে একরাশ ক্লান্তি।
অনেকদিন ধরেই সে বুঝতে পারছিল—মায়া বদলে গেছে।
আগের মতো আর ফোন করে না, রাত জেগে গল্প করতে চায় না, ছোট ছোট কথায় হাসে না।
সবকিছু কেমন যেন হিসাব করে চলে।
একসময় মায়া নীলের দিকে তাকিয়ে থাকত মুগ্ধ হয়ে।
নীলের এলোমেলো চুল, রাগী মুখ, হঠাৎ অভিমান—সবকিছুতেই সে ভালোবাসা খুঁজে পেত।
আর এখন?
এখন মায়ার চোখে শুধু দূরত্ব।
সেদিন রাতে হঠাৎ মায়ার একটা মেসেজ এলো—
কথা আছে।
নীলের বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
কারণ কিছু কিছু শব্দ মানুষ আগেই চিনে যায়।
কথা আছে মানেই সবসময় নতুন কিছু না, কখনো কখনো শেষ হয়ে যাওয়ার আগের দরজাও।
মায়ার সঙ্গে দেখা হলো পুরোনো সেই লেকের ধারে।
যেখানে একদিন দুজনে বসে ভবিষ্যতের গল্প করেছিল।
আজ একই জায়গা, অথচ সবকিছু অচেনা।
মায়া চুপচাপ ছিল।
নীল তাকিয়ে দেখল, মেয়েটা আগের চেয়ে আরও সুন্দর হয়েছে।
শুধু তার চোখদুটো আর আগের মতো নেই।
নীল হঠাৎ আস্তে করে বলল,
তুমি বদলাইয়া গেছো।
মায়া কিছু বলল না।
নীল আবার বলল,
এখন আর তুমি আমারে ভালোবাসো না… এইটা আমি টের পাই। তোমার চোখে এখন আর আমার জন্য মুগ্ধতা নাই।
হাওয়াটা হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেল।
মায়া নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।
নীল মৃদু হেসে বলল,
গাছ যেমন নতুন পাতা পাইয়া ঝইরা যাওয়া পাতার মায়া ভুইলা যায়… আমার প্রতি তুমি তেমন উদাসীন হইয়া গেছো।
মায়ার চোখে তখন পানি চিকচিক করছিল।
তবু সে কিছু বলছিল না।
কিছুক্ষণ পরে নীল খুব শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল,
একটা কথা বলবে?
হুম…
আমারে ছাইড়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত… ঠিক কতদিন ধইরা নিয়েছো?
প্রশ্নটা শুনে মায়া ভেঙে পড়ল।
কারণ সত্যি হলো—
হুট করে কেউ কাউরে ছাইড়া যায় না।
যাওয়ার আগে মানুষ নিজের ভেতরে হাজারবার বিদায় নেয়।
ভালোবাসার সঙ্গে স্বার্থের হিসাব মেলায়।
কষ্টের চেয়ে শান্তি বেশি দরকার হয়ে যায়।
মায়া কাঁপা গলায় বলল,
অনেকদিন ধইরাই…
নীল মাথা নিচু করে হেসে ফেলল।
অদ্ভুত সেই হাসি।
যেখানে কান্না ছিল, অভিমান ছিল, কিন্তু রাগ ছিল না।
কারণ সে বুঝে গিয়েছিল—
ভালোবাসা কখনো জোর করে ধরে রাখা যায় না।
যে মানুষ একসময় বুকের ভেতর ঘর বানাইছিল, সে মানুষই একদিন নীরবে সেই ঘর ছাড়তে শিখে যায়।
বৃষ্টি তখন আরও জোরে নামছিল।
মায়া একবার নীলের দিকে তাকিয়েছিল।
হয়তো শেষবারের মতো।
আর নীল মনে মনে শুধু একটা কথাই বলেছিল—
তুমি সুখে থাকো…
কারণ আমারে ভুলে যাওয়া যদি তোমার শান্তি হয়, তাইলে সেই শান্তির কাছে আমি হারতেই রাজি।

আপনার মতামত লিখুন