মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

১৮শ বছরের প্রাচীন রহস্যের হাতছানি: যশোরের মণিরামপুরের ‘দমদম পীরস্থান’

১৮শ বছরের প্রাচীন রহস্যের হাতছানি: যশোরের মণিরামপুরের ‘দমদম পীরস্থান’

যশোরের মণিরামপুর বাজার থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ভোজগাতি ইউনিয়নের দোনার গ্রামে নিভৃতে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল ইতিহাস। স্থানীয়দের কাছে যা ‘দমদম পীরস্থান’ নামে পরিচিত, প্রত্নতাত্ত্বিক খননে দেখা গেছে সেটি আসলে ১৮শ বছরেরও বেশি প্রাচীন এক জনপদের ধ্বংসাবশেষ। যিশুখ্রিস্টের জন্মের সমসাময়িক এই স্থাপত্যশৈলী আমাদের নিয়ে যায় এক সুপ্রাচীন অতীতে।

যেভাবে উন্মোচিত হলো মাটির নিচের ইতিহাস

১৯৮৬ সালে স্থানীয়রা মাদ্রাসার জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রথম প্রাচীন ইটের গাঁথুনি খুঁজে পান। পরবর্তীতে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে খনন শুরু করলে বেরিয়ে আসে এক বিশাল মন্দিরের অস্তিত্ব। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় মোট ১৮টি কক্ষ এবং গর্ভগৃহের ভেতরে ছোট-বড় ২৪টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই মন্দিরটি মূলত দুটি পৃথক যুগে নির্মিত এবং সম্প্রসারিত হয়েছিল।

তিন ধর্মের মিলনস্থল ও বিরল প্রত্নবস্তু

এই প্রত্নস্থলটি এক বিরল নিদর্শন, যেখানে তিনটি ভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতার ছাপ পাওয়া যায়:

  • বৌদ্ধ ও জৈন ঐতিহ্য: খননকালে পাওয়া বুদ্ধমূর্তি, পদ্মপাপড়ি খচিত ইট এবং ১৩তম জৈন তীর্থঙ্কর মল্লিনাথের বিগ্রহ ইঙ্গিত দেয় যে এটি এক সময় বৌদ্ধ ও জৈনদের উপাসনালয় ছিল।
  • মুসলিম ঐতিহ্য: মন্দিরটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর কোনো সুফি সাধক এখানে আস্তানা গাড়লে এটি 'পীরস্থান' হিসেবে পরিচিতি পায়।
  • দুর্লভ আবিষ্কার: খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতকের ‘এন্টিমনির কাজল শলাকা’ এবং ‘রুলেটেড’ মৃৎপাত্রের আবিষ্কার একে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মন্দিরের মর্যাদা দিয়েছে।

‘দমদম’ নামের রহস্য ও অলৌকিক লোককথা

প্রবীণদের মতে, এক সময় এই ঢিবির ওপর দিয়ে হাঁটার সময় মাটির নিচ থেকে ‘গুম গুম’ বা ‘দমদম’ শব্দ পাওয়া যেত, যা থেকেই এর নামকরণ। এই ঢিবিকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা:

  • কুমারী দিঘি: ঢিবির পাশেই রয়েছে বিশাল ‘কুমারী দিঘি’। লোকশ্রুতি আছে, অতীতে এই দিঘির কুয়ায় প্রার্থনা করলে অলৌকিকভাবে সোনার থালা-বাসন ভেসে উঠত।
  • অচিন বৃক্ষ: দিঘির পাড়ে রয়েছে তিনটি রহস্যময় ‘অচিন বৃক্ষ’। এই গাছগুলো বছরের ছয় মাস শুকনো কাঠের মতো থাকে এবং বাকি ছয় মাস নতুন পাতা ও সুগন্ধি ফুলে ভরে ওঠে—যা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না।

বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা

বর্তমানে এই প্রত্নস্থলটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বৌদ্ধ, জৈন এবং মুসলিম ঐতিহ্যের এমন সহাবস্থান বাংলাদেশে বিরল। ৮০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস জানান, শৈশবে তারা এই ঢিবিকে ভয় পেতেন এবং এর নিচে ‘সোনার শহর’ আছে বলে বিশ্বাস করতেন। সরকারিভাবে একে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এটি দেশের অন্যতম সেরা হেরিটেজ সাইট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


১৮শ বছরের প্রাচীন রহস্যের হাতছানি: যশোরের মণিরামপুরের ‘দমদম পীরস্থান’

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

যশোরের মণিরামপুর বাজার থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে ভোজগাতি ইউনিয়নের দোনার গ্রামে নিভৃতে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল ইতিহাস। স্থানীয়দের কাছে যা ‘দমদম পীরস্থান’ নামে পরিচিত, প্রত্নতাত্ত্বিক খননে দেখা গেছে সেটি আসলে ১৮শ বছরেরও বেশি প্রাচীন এক জনপদের ধ্বংসাবশেষ। যিশুখ্রিস্টের জন্মের সমসাময়িক এই স্থাপত্যশৈলী আমাদের নিয়ে যায় এক সুপ্রাচীন অতীতে।

যেভাবে উন্মোচিত হলো মাটির নিচের ইতিহাস

১৯৮৬ সালে স্থানীয়রা মাদ্রাসার জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে প্রথম প্রাচীন ইটের গাঁথুনি খুঁজে পান। পরবর্তীতে ২০০৪-০৫ অর্থবছরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে খনন শুরু করলে বেরিয়ে আসে এক বিশাল মন্দিরের অস্তিত্ব। চার বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় মোট ১৮টি কক্ষ এবং গর্ভগৃহের ভেতরে ছোট-বড় ২৪টি কক্ষ আবিষ্কৃত হয়। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, এই মন্দিরটি মূলত দুটি পৃথক যুগে নির্মিত এবং সম্প্রসারিত হয়েছিল।

তিন ধর্মের মিলনস্থল ও বিরল প্রত্নবস্তু

এই প্রত্নস্থলটি এক বিরল নিদর্শন, যেখানে তিনটি ভিন্ন ধর্ম ও সভ্যতার ছাপ পাওয়া যায়:

  • বৌদ্ধ ও জৈন ঐতিহ্য: খননকালে পাওয়া বুদ্ধমূর্তি, পদ্মপাপড়ি খচিত ইট এবং ১৩তম জৈন তীর্থঙ্কর মল্লিনাথের বিগ্রহ ইঙ্গিত দেয় যে এটি এক সময় বৌদ্ধ ও জৈনদের উপাসনালয় ছিল।
  • মুসলিম ঐতিহ্য: মন্দিরটি পরিত্যক্ত হওয়ার পর কোনো সুফি সাধক এখানে আস্তানা গাড়লে এটি 'পীরস্থান' হিসেবে পরিচিতি পায়।
  • দুর্লভ আবিষ্কার: খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় বা তৃতীয় শতকের ‘এন্টিমনির কাজল শলাকা’ এবং ‘রুলেটেড’ মৃৎপাত্রের আবিষ্কার একে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন মন্দিরের মর্যাদা দিয়েছে।

‘দমদম’ নামের রহস্য ও অলৌকিক লোককথা

প্রবীণদের মতে, এক সময় এই ঢিবির ওপর দিয়ে হাঁটার সময় মাটির নিচ থেকে ‘গুম গুম’ বা ‘দমদম’ শব্দ পাওয়া যেত, যা থেকেই এর নামকরণ। এই ঢিবিকে ঘিরে রয়েছে নানা লোককথা:

  • কুমারী দিঘি: ঢিবির পাশেই রয়েছে বিশাল ‘কুমারী দিঘি’। লোকশ্রুতি আছে, অতীতে এই দিঘির কুয়ায় প্রার্থনা করলে অলৌকিকভাবে সোনার থালা-বাসন ভেসে উঠত।
  • অচিন বৃক্ষ: দিঘির পাড়ে রয়েছে তিনটি রহস্যময় ‘অচিন বৃক্ষ’। এই গাছগুলো বছরের ছয় মাস শুকনো কাঠের মতো থাকে এবং বাকি ছয় মাস নতুন পাতা ও সুগন্ধি ফুলে ভরে ওঠে—যা দেশের আর কোথাও দেখা যায় না।

বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনা

বর্তমানে এই প্রত্নস্থলটি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গবেষকদের মতে, বৌদ্ধ, জৈন এবং মুসলিম ঐতিহ্যের এমন সহাবস্থান বাংলাদেশে বিরল। ৮০ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস জানান, শৈশবে তারা এই ঢিবিকে ভয় পেতেন এবং এর নিচে ‘সোনার শহর’ আছে বলে বিশ্বাস করতেন। সরকারিভাবে একে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এটি দেশের অন্যতম সেরা হেরিটেজ সাইট হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো