মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

ইউরোপে অনিয়মিত সীমান্ত অনুপ্রবেশে বড় ধস!

ইউরোপে কমছে অবৈধ অনুপ্রবেশ: ৫ মাসে কমেছে ৪০ শতাংশ, নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর

ইউরোপে কমছে অবৈধ অনুপ্রবেশ: ৫ মাসে কমেছে ৪০ শতাংশ, নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর
ভূমধ্যসাগরে ইউরোপগামী একটি নৌকা। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অনিয়মিত বা অবৈধ সীমান্ত অনুপ্রবেশের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আজ শুক্রবার (১২ জুন) ইইউ-এর সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স (Frontex) তাদের প্রাথমিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফ্রন্টেক্সের হিসাব মতে, গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ইউরোপের সীমান্তগুলোতে প্রায় ৩৯,০০০ অনিয়মিত অনুপ্রবেশ রেকর্ড করা হয়েছে। মূলত মূল ট্রানজিট বা বিদায়ী দেশগুলোর কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ইইউ-এর পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ফলেই এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে।

অনিয়মিত অনুপ্রবেশ কমে আসার এই পরিসংখ্যানটি এমন এক ঐতিহাসিক সময়ে সামনে এলো, যখন আজ শুক্রবার (১২ জুন) থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে ইইউ-এর বহুল আলোচিত নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় আইন।

এই নতুন আইনের অধীনে ইইউ জোটের বহিঃসীমান্তে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত এবং মানসম্মত স্ক্রিনিং বা কঠোর যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যান্স লেইটেনস এই নতুন নিয়মকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন—

এই আইনের মাধ্যমে ইইউ সীমান্তে আসা সকলের জন্য একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে। এটি মূলত জোটের ২৭টি দেশের ভিন্ন ভিন্ন কার্যপদ্ধতিকে একটি একক ও শক্তিশালী নিয়মের আওতায় নিয়ে আসবে।

ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য সেন্ট্রাল এবং ইস্টার্ন মেডিটেরেনিয়ান (মধ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয়) রুটগুলো এখনো অভিবাসীদের কাছে সবচেয়ে ব্যস্ততম পথ হিসেবে রয়ে গেছে।

  • পশ্চিম আফ্রিকান রুট: এই রুটে অনুপ্রবেশের হার সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

  • ওয়েস্টার্ন মেডিটেরেনিয়ান (পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয়) রুট: এর বিপরীতে এই রুটে অনুপ্রবেশ উল্টো ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রধান কারণ ছিল আলজেরিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।


অভিবাসন চেষ্টার এই রুটভিত্তিক পটপরিবর্তন এবং অনুপ্রবেশের সংখ্যা কমলেও ভূমধ্যসাগরে নৌযানডুবি ও প্রাণহানির ঘটনা এখনো বিশ্ববাসীর জন্য একটি বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-র দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের এই ৫ মাসেই কেবল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ১,৩০০ মানুষ সাগরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। ইউরোপের সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়লেও উন্নত জীবনের আশায় মৃত্যুর এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এখনো পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না।

বিষয় : ইউরোপ অভিবাসন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


ইউরোপে কমছে অবৈধ অনুপ্রবেশ: ৫ মাসে কমেছে ৪০ শতাংশ, নতুন অভিবাসন আইন কার্যকর

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অনিয়মিত বা অবৈধ সীমান্ত অনুপ্রবেশের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আজ শুক্রবার (১২ জুন) ইইউ-এর সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্স (Frontex) তাদের প্রাথমিক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফ্রন্টেক্সের হিসাব মতে, গত জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ইউরোপের সীমান্তগুলোতে প্রায় ৩৯,০০০ অনিয়মিত অনুপ্রবেশ রেকর্ড করা হয়েছে। মূলত মূল ট্রানজিট বা বিদায়ী দেশগুলোর কঠোর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে ইইউ-এর পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ফলেই এই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমেছে।

অনিয়মিত অনুপ্রবেশ কমে আসার এই পরিসংখ্যানটি এমন এক ঐতিহাসিক সময়ে সামনে এলো, যখন আজ শুক্রবার (১২ জুন) থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে ইইউ-এর বহুল আলোচিত নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় আইন।

এই নতুন আইনের অধীনে ইইউ জোটের বহিঃসীমান্তে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত এবং মানসম্মত স্ক্রিনিং বা কঠোর যাচাইকরণ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হ্যান্স লেইটেনস এই নতুন নিয়মকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন—

এই আইনের মাধ্যমে ইইউ সীমান্তে আসা সকলের জন্য একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হবে। এটি মূলত জোটের ২৭টি দেশের ভিন্ন ভিন্ন কার্যপদ্ধতিকে একটি একক ও শক্তিশালী নিয়মের আওতায় নিয়ে আসবে।

ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে পৌঁছানোর জন্য সেন্ট্রাল এবং ইস্টার্ন মেডিটেরেনিয়ান (মধ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয়) রুটগুলো এখনো অভিবাসীদের কাছে সবচেয়ে ব্যস্ততম পথ হিসেবে রয়ে গেছে।

  • পশ্চিম আফ্রিকান রুট: এই রুটে অনুপ্রবেশের হার সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

  • ওয়েস্টার্ন মেডিটেরেনিয়ান (পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয়) রুট: এর বিপরীতে এই রুটে অনুপ্রবেশ উল্টো ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রধান কারণ ছিল আলজেরিয়া থেকে ইউরোপের উদ্দেশ্যে অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।


অভিবাসন চেষ্টার এই রুটভিত্তিক পটপরিবর্তন এবং অনুপ্রবেশের সংখ্যা কমলেও ভূমধ্যসাগরে নৌযানডুবি ও প্রাণহানির ঘটনা এখনো বিশ্ববাসীর জন্য একটি বড় উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-র দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের এই ৫ মাসেই কেবল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ১,৩০০ মানুষ সাগরে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন। ইউরোপের সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়লেও উন্নত জীবনের আশায় মৃত্যুর এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এখনো পুরোপুরি থামানো যাচ্ছে না।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো