গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জাল নোটের প্রচলন প্রতিরোধ এবং এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলার উৎসব প্রিয় মিলনায়তনে এই জনসচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, মুকসুদপুর শাখা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মুকসুদপুর উপজেলা কোর্ট মসজিদের মোয়াজ্জেম কাজী হাফিজুর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন বাটিকামারি কলেজের অধ্যক্ষ বাবু শিশির কুমার মন্ডল।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ মনজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিন্সিপাল অফিস, গোপালগঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। কর্মশালায় মূল রিসোর্স পার্সন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা অফিসের যুগ্ম পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা ও উপস্থাপনা করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, মুকসুদপুর শাখার ম্যানেজার রতন কুমার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ মনজুর রহমান বলেন, জাল নোট দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি সমন্বিত সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সবাইকে আসল নোটের বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার এবং যেকোনো সন্দেহজনক নোট লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাল নোট শনাক্তকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। আর্থিক লেনদেনের সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে জাল নোটের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, আসল ও নকল নোট চেনার সহজ উপায়গুলো প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে, তবেই এ অপরাধের লাগাম টানা সম্ভব। তিনি সোনালী ব্যাংকের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ছিরু মিয়া বলেন, জাল নোট প্রতিরোধে শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মশালাটিতে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের এক বিশাল সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল বসার টুল্টু এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু।
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ: মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান লেবু, সাধারণ সম্পাদক কাজী মোঃ ওহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও আরেফিন মুক্তা, দপ্তর সম্পাদক পরেশ কুমার বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ মোঃ রাজু মিয়া এবং কার্যকরী সদস্য নূর আলম শেখ ও মিরান গাজী।
রিপোর্টার্স ইউনিটি ও উপজেলা প্রেসক্লাব: মুকসুদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি তারিকুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক বাদশা মিয়া এবং উপজিলা প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক শরিফুল রোমান ।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য সুধীজন এই কর্মশালায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, জাল নোট প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ ধরনের অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ জুন ২০২৬
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জাল নোটের প্রচলন প্রতিরোধ এবং এ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (২০ জুন) সকাল ১০টায় উপজেলার উৎসব প্রিয় মিলনায়তনে এই জনসচেতনতামূলক কর্মশালার আয়োজন করে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, মুকসুদপুর শাখা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মুকসুদপুর উপজেলা কোর্ট মসজিদের মোয়াজ্জেম কাজী হাফিজুর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন বাটিকামারি কলেজের অধ্যক্ষ বাবু শিশির কুমার মন্ডল।
মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা অফিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ মনজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, প্রিন্সিপাল অফিস, গোপালগঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ। কর্মশালায় মূল রিসোর্স পার্সন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক, খুলনা অফিসের যুগ্ম পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সঞ্চালনা ও উপস্থাপনা করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি, মুকসুদপুর শাখার ম্যানেজার রতন কুমার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ মনজুর রহমান বলেন, জাল নোট দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় হুমকি। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ব্যাংক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে একটি সমন্বিত সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সবাইকে আসল নোটের বিভিন্ন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানার এবং যেকোনো সন্দেহজনক নোট লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাল নোট শনাক্তকরণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। আর্থিক লেনদেনের সময় সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে জাল নোটের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, আসল ও নকল নোট চেনার সহজ উপায়গুলো প্রান্তিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে, তবেই এ অপরাধের লাগাম টানা সম্ভব। তিনি সোনালী ব্যাংকের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ ছিরু মিয়া বলেন, জাল নোট প্রতিরোধে শুধু ব্যাংকিং খাত নয়, গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে তিনি সাংবাদিকদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মশালাটিতে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের এক বিশাল সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন:
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম রাজু, পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল বসার টুল্টু এবং সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টু।
প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ: মুকসুদপুর প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান লেবু, সাধারণ সম্পাদক কাজী মোঃ ওহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন ও আরেফিন মুক্তা, দপ্তর সম্পাদক পরেশ কুমার বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ মোঃ রাজু মিয়া এবং কার্যকরী সদস্য নূর আলম শেখ ও মিরান গাজী।
রিপোর্টার্স ইউনিটি ও উপজেলা প্রেসক্লাব: মুকসুদপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি তারিকুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক বাদশা মিয়া এবং উপজিলা প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক শরিফুল রোমান ।
এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, স্থানীয় ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি এবং গণ্যমান্য সুধীজন এই কর্মশালায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির বলেন, জাল নোট প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই এ ধরনের অপরাধ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

আপনার মতামত লিখুন