দরজার হাতলটা আবার নড়ল।
একবার।
দু'বার।
নীলার বুকের ভেতর ধকধক শব্দ হচ্ছে।
তার হাতে বাবার চিঠি।
চিঠির শেষ লাইনটা সে এখনো পড়তে পারেনি—
কাউকে বিশ্বাস করো না, বিশেষ করে...
তারপর আর কিছু নেই।
কারণ সেই মুহূর্তেই দরজায় শব্দ হয়েছিল।
নীলা দ্রুত চিঠিটা ভাঁজ করে নিজের ওড়নার ভেতর লুকিয়ে ফেলল।
— কে?
বাইর থেকে মায়ের কণ্ঠ ভেসে এলো।
— নীলা? তুই ভেতরে?
নীলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
দরজা খুলতেই মা অবাক হয়ে বললেন,
— এত রাতে এই ঘরে কী করছিস?
— বাবার কথা মনে পড়ছিল।
রওশন আরা বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
— তোর বাবা এই ঘরটা খুব ভালোবাসত।
কথাটা বলতে গিয়ে যেন তার চোখ ভিজে উঠল।
পরদিন সকাল।
নীলা ঘুম থেকে উঠেই আরিয়ানকে ফোন দিল।
আরিয়ান যেন ফোনের অপেক্ষাতেই ছিল।
— কিছু পেয়েছ?
— বাবার একটা চিঠি।
ফোনের ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
— চিঠিতে কী লেখা?
— বাবা কাউকে বিশ্বাস না করতে বলেছেন।
— আর?
— বাকিটা পড়ার আগেই মা এসে গিয়েছিল।
আরিয়ান গভীর গলায় বলল,
— চিঠিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
— কেন?
— কারণ তোমার বাবা বুঝতে পেরেছিলেন তার সঙ্গে কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
বিকেলে আরিয়ানের সঙ্গে দেখা হলো শহরের পুরনো লাইব্রেরির সামনে।
আরিয়ান আজ অন্যরকম গম্ভীর।
তার হাতে একটা ফাইল।
— এটা দেখো।
ফাইল খুলতেই কয়েকটি পুরনো নথি বেরিয়ে এলো।
একটি ছিল জমির দলিল।
অন্যটি একটি উত্তরাধিকার সনদ।
নীলা অবাক হয়ে বলল,
— এসব কী?
— তোমার দাদার সম্পত্তির কাগজ।
— কিন্তু এসব তো আমাদের বাড়িতে আছে।
— না।
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
— তোমাদের বাড়িতে যা আছে, তার অনেক কিছুই বদলে ফেলা হয়েছে।
নীলা স্তব্ধ হয়ে গেল।
— মানে?
আরিয়ান একটি কাগজ সামনে ধরল।
— এখানে দেখো।
কাগজে স্পষ্ট লেখা—
দাদার সম্পত্তির ৬০ শতাংশ বড় ছেলে সাইফুর রহমানের নামে যাবে।
সাইফুর রহমান।
নীলার বাবা।
কিন্তু বাস্তবে তাদের পরিবার কখনো সেই সম্পত্তি পায়নি।
সবকিছু চলে গিয়েছিল চাচা করিমের হাতে।
— তাহলে চাচা মিথ্যা বলেছিলেন?
আরিয়ান উত্তর দিল না।
বরং আরেকটি কাগজ এগিয়ে দিল।
কাগজের নিচে সাক্ষী হিসেবে দুটি নাম লেখা।
প্রথম নাম—
করিম উদ্দিন।
দ্বিতীয় নাম—
কাদের মিয়া।
নীলার মাথা ঘুরে উঠল।
চাচা করিম।
আর কাদের চাচা।
দু'জনই সেই উইলের সাক্ষী!
সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরতেই নীলা দেখল ড্রইংরুমে অদ্ভুত নীরবতা।
চাচা করিম এসেছেন।
সঙ্গে কাদের চাচাও।
দু'জন খুব নিচু গলায় কথা বলছেন।
নীলা ঢুকতেই কথাবার্তা থেমে গেল।
করিম চাচা হাসলেন।
— কেমন আছিস মা?
আজ সেই হাসিটা কেমন যেন কৃত্রিম লাগল।
রাতে নিজের ঘরে বসে নীলা বাবার চিঠিটা আবার খুলল।
শেষ অংশটা পড়ার জন্য।
চিঠির ভাঁজের ভেতরে আরও একটি ছোট কাগজ লুকানো ছিল।
আগে সে খেয়াল করেনি।
কাগজটায় মাত্র একটি ঠিকানা।
আর নিচে লেখা—
সত্য জানতে চাইলে এই মানুষটাকে খুঁজে বের করো।
নামের দিকে তাকিয়ে নীলার নিঃশ্বাস আটকে গেল।
কারণ নামটা সে আগে কখনো শোনেনি।
কিন্তু আরিয়ানের পদবির সঙ্গে নামটির পদবি হুবহু মিল।
বিষয় : উপন্যাস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জুন ২০২৬
দরজার হাতলটা আবার নড়ল।
একবার।
দু'বার।
নীলার বুকের ভেতর ধকধক শব্দ হচ্ছে।
তার হাতে বাবার চিঠি।
চিঠির শেষ লাইনটা সে এখনো পড়তে পারেনি—
কাউকে বিশ্বাস করো না, বিশেষ করে...
তারপর আর কিছু নেই।
কারণ সেই মুহূর্তেই দরজায় শব্দ হয়েছিল।
নীলা দ্রুত চিঠিটা ভাঁজ করে নিজের ওড়নার ভেতর লুকিয়ে ফেলল।
— কে?
বাইর থেকে মায়ের কণ্ঠ ভেসে এলো।
— নীলা? তুই ভেতরে?
নীলা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।
দরজা খুলতেই মা অবাক হয়ে বললেন,
— এত রাতে এই ঘরে কী করছিস?
— বাবার কথা মনে পড়ছিল।
রওশন আরা বেগম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর ধীরে ধীরে বললেন,
— তোর বাবা এই ঘরটা খুব ভালোবাসত।
কথাটা বলতে গিয়ে যেন তার চোখ ভিজে উঠল।
পরদিন সকাল।
নীলা ঘুম থেকে উঠেই আরিয়ানকে ফোন দিল।
আরিয়ান যেন ফোনের অপেক্ষাতেই ছিল।
— কিছু পেয়েছ?
— বাবার একটা চিঠি।
ফোনের ওপাশে কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
— চিঠিতে কী লেখা?
— বাবা কাউকে বিশ্বাস না করতে বলেছেন।
— আর?
— বাকিটা পড়ার আগেই মা এসে গিয়েছিল।
আরিয়ান গভীর গলায় বলল,
— চিঠিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
— কেন?
— কারণ তোমার বাবা বুঝতে পেরেছিলেন তার সঙ্গে কিছু ঘটতে যাচ্ছে।
বিকেলে আরিয়ানের সঙ্গে দেখা হলো শহরের পুরনো লাইব্রেরির সামনে।
আরিয়ান আজ অন্যরকম গম্ভীর।
তার হাতে একটা ফাইল।
— এটা দেখো।
ফাইল খুলতেই কয়েকটি পুরনো নথি বেরিয়ে এলো।
একটি ছিল জমির দলিল।
অন্যটি একটি উত্তরাধিকার সনদ।
নীলা অবাক হয়ে বলল,
— এসব কী?
— তোমার দাদার সম্পত্তির কাগজ।
— কিন্তু এসব তো আমাদের বাড়িতে আছে।
— না।
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
— তোমাদের বাড়িতে যা আছে, তার অনেক কিছুই বদলে ফেলা হয়েছে।
নীলা স্তব্ধ হয়ে গেল।
— মানে?
আরিয়ান একটি কাগজ সামনে ধরল।
— এখানে দেখো।
কাগজে স্পষ্ট লেখা—
দাদার সম্পত্তির ৬০ শতাংশ বড় ছেলে সাইফুর রহমানের নামে যাবে।
সাইফুর রহমান।
নীলার বাবা।
কিন্তু বাস্তবে তাদের পরিবার কখনো সেই সম্পত্তি পায়নি।
সবকিছু চলে গিয়েছিল চাচা করিমের হাতে।
— তাহলে চাচা মিথ্যা বলেছিলেন?
আরিয়ান উত্তর দিল না।
বরং আরেকটি কাগজ এগিয়ে দিল।
কাগজের নিচে সাক্ষী হিসেবে দুটি নাম লেখা।
প্রথম নাম—
করিম উদ্দিন।
দ্বিতীয় নাম—
কাদের মিয়া।
নীলার মাথা ঘুরে উঠল।
চাচা করিম।
আর কাদের চাচা।
দু'জনই সেই উইলের সাক্ষী!
সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরতেই নীলা দেখল ড্রইংরুমে অদ্ভুত নীরবতা।
চাচা করিম এসেছেন।
সঙ্গে কাদের চাচাও।
দু'জন খুব নিচু গলায় কথা বলছেন।
নীলা ঢুকতেই কথাবার্তা থেমে গেল।
করিম চাচা হাসলেন।
— কেমন আছিস মা?
আজ সেই হাসিটা কেমন যেন কৃত্রিম লাগল।
রাতে নিজের ঘরে বসে নীলা বাবার চিঠিটা আবার খুলল।
শেষ অংশটা পড়ার জন্য।
চিঠির ভাঁজের ভেতরে আরও একটি ছোট কাগজ লুকানো ছিল।
আগে সে খেয়াল করেনি।
কাগজটায় মাত্র একটি ঠিকানা।
আর নিচে লেখা—
সত্য জানতে চাইলে এই মানুষটাকে খুঁজে বের করো।
নামের দিকে তাকিয়ে নীলার নিঃশ্বাস আটকে গেল।
কারণ নামটা সে আগে কখনো শোনেনি।
কিন্তু আরিয়ানের পদবির সঙ্গে নামটির পদবি হুবহু মিল।

আপনার মতামত লিখুন