বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ (One Child One Tree) স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আজ ২৯ জুন (সোমবার) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে এই পরিবেশবান্ধব ও দূরদর্শী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই দেশব্যাপী চারা রোপণের যে জোয়ার শুরু হয়েছে, তার ঢেউ এসে লেগেছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরেও। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আজ দুপুরে মুকসুদপুর সরকারি সাবের মিয়া জসিমুদ্দিন (এসজে) মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
এদিন দুপুরের পর থেকেই এসজে স্কুল প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সবুজায়নের এই উৎসবে অংশ নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আগে থেকেই জড়ো হন। এবারের কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য ছিল পরিবেশের বহুমাত্রিক উপকারিতা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে স্কুল প্রাঙ্গণের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে তিন ধরনের গাছের চারা রোপণ করা হয়—
১. পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন জাতের ফলজ বৃক্ষ, ২. কাঠের জোগান ও দীর্ঘমেয়াদি ছায়ার জন্য বনজ বৃক্ষ, এবং ৩. প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন দুর্লভ ওষুধি গাছের চারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিজে হাতে চারা রোপণ করে কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির। তিনি চারা রোপণ শেষে গাছের সঠিক পরিচর্যার ওপর জোর দেন।
পরিবেশ সুরক্ষার এই মহতি উদ্যোগে বিদ্যালয় চত্বরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। চারা রোপণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র মন্ডল, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মসিউর রহমান মিন্টু, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আ. কাইয়ুম শরীফ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান বিপ্লব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
মাঠে চারা রোপণ পর্ব শেষ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের মূল মিলনায়তনে (হলরুম) এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ দর্শনের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিটি শিশু যদি একটি করে গাছ লাগায় এবং তার পরিচর্যা করে, তবে আগামী দিনে বাংলাদেশ একটি সবুজ ও নিরাপদ বদ্বীপে পরিণত হবে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির বলেন, গাছ লাগানো কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা বা একদিনের দায়িত্ব নয়। যে চারাগুলো আজ রোপণ করা হলো, সেগুলো যেন অবহেলায় নষ্ট না হয়, তার জন্য নিয়মিত পানি দেওয়া ও বেড়া দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।
প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র মন্ডল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের রোপণ করা ওষুধি ও ফলজ গাছগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ছায়া, ফল ও অক্সিজেন দেবে। পরিবেশের প্রতি এই দায়বদ্ধতা আমাদের ধরে রাখতে হবে।
সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬
বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ (One Child One Tree) স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। আজ ২৯ জুন (সোমবার) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পর্যায়ে এই পরিবেশবান্ধব ও দূরদর্শী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরপরই দেশব্যাপী চারা রোপণের যে জোয়ার শুরু হয়েছে, তার ঢেউ এসে লেগেছে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরেও। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আজ দুপুরে মুকসুদপুর সরকারি সাবের মিয়া জসিমুদ্দিন (এসজে) মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।
এদিন দুপুরের পর থেকেই এসজে স্কুল প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সবুজায়নের এই উৎসবে অংশ নিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আগে থেকেই জড়ো হন। এবারের কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য ছিল পরিবেশের বহুমাত্রিক উপকারিতা নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যে স্কুল প্রাঙ্গণের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে তিন ধরনের গাছের চারা রোপণ করা হয়—
১. পুষ্টির চাহিদা মেটাতে বিভিন্ন জাতের ফলজ বৃক্ষ, ২. কাঠের জোগান ও দীর্ঘমেয়াদি ছায়ার জন্য বনজ বৃক্ষ, এবং ৩. প্রাথমিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন দুর্লভ ওষুধি গাছের চারা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নিজে হাতে চারা রোপণ করে কর্মসূচির শুভ সূচনা করেন মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদ আশিক কবির। তিনি চারা রোপণ শেষে গাছের সঠিক পরিচর্যার ওপর জোর দেন।
পরিবেশ সুরক্ষার এই মহতি উদ্যোগে বিদ্যালয় চত্বরে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। চারা রোপণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন— অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র মন্ডল, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মসিউর রহমান মিন্টু, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আ. কাইয়ুম শরীফ এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মেহেদী হাসান বিপ্লব। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
মাঠে চারা রোপণ পর্ব শেষ হওয়ার পর বিদ্যালয়ের মূল মিলনায়তনে (হলরুম) এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড ওয়ান ট্রি’ দর্শনের প্রশংসা করে বলেন, প্রতিটি শিশু যদি একটি করে গাছ লাগায় এবং তার পরিচর্যা করে, তবে আগামী দিনে বাংলাদেশ একটি সবুজ ও নিরাপদ বদ্বীপে পরিণত হবে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মাহমুদ আশিক কবির বলেন, গাছ লাগানো কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা বা একদিনের দায়িত্ব নয়। যে চারাগুলো আজ রোপণ করা হলো, সেগুলো যেন অবহেলায় নষ্ট না হয়, তার জন্য নিয়মিত পানি দেওয়া ও বেড়া দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষার্থীদেরই নিতে হবে।
প্রধান শিক্ষক সুনীল চন্দ্র মন্ডল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকের রোপণ করা ওষুধি ও ফলজ গাছগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ছায়া, ফল ও অক্সিজেন দেবে। পরিবেশের প্রতি এই দায়বদ্ধতা আমাদের ধরে রাখতে হবে।
সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন