মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ইসলামি রীতি ভেঙে খামেনির দাফনে কেন ৪ মাসের বিলম্ব? ব্যাখ্যা দিল তেহরান

মৃত্যুর ৪ মাস পর দাফন হচ্ছেন খামেনি: তেহরান জুড়ে নজিরবিহীন প্রস্তুতি, যোগ দেবেন বিশ্বনেতারা

মৃত্যুর ৪ মাস পর দাফন হচ্ছেন খামেনি: তেহরান জুড়ে নজিরবিহীন প্রস্তুতি, যোগ দেবেন বিশ্বনেতারা
ছবি : সংগৃহীত

মৃত্যুর দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে দাফন হতে যাচ্ছে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। ইসলামি নীতিতে সাধারণত মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব দাফনের বিধান থাকলেও খামেনির ক্ষেত্রে এই নজিরবিহীন বিলম্ব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়ালেও ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চরম নিরাপত্তা সংকটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

৮৬ বছর বয়সে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় খামেনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ ইতিমধ্যে তেহরানে নিয়ে আসা হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তিন দিনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে, যাতে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর মরদেহ পর্যায়ক্রমে ইরানের বিভিন্ন শহর (তেহরান, কোম, মাশহাদ) এবং ইরাকের শিয়া পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।

ইরান সরকারের দাবি, এটি হতে যাচ্ছে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। যেখানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। এই বিশাল জনতার জন্য ইতিমধ্যে পরিবহন, আবাসন ও খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ ভারত, চীন, আফগানিস্তান ও ককেশাস অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

দীর্ঘ চার মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ কোথায় এবং কীভাবে রাখা হয়েছিল—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, মরদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছিল। তবে এই দাবি নাকচ করে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামি বিধান মেনেই মরদেহ বিশেষ শীতল সংরক্ষণাগারে (হিমায়িত অবস্থায়) রাখা হয়েছিল।

সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, ইসলামে রাসায়নিক উপায়ে মরদেহ সংরক্ষণ (এমবামিং) নিরুৎসাহিত করা হলেও, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শীতল তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। ইরানের ফরেনসিক মর্গগুলোতে এই আধুনিক ব্যবস্থা থাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চার মাস মরদেহ হিমায়িত রাখা অস্বাভাবিক নয়।

খামেনির এই শেষকৃত্যকে ঘিরে কেবল ধর্মীয় আবেগই নয়, স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে তেহরান। কোম শহরের জুমার ইমাম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ সাঈদি স্পষ্ট করেই বলেছেন—

শহীদ নেতার জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি কার্যত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে আরেকটি গণভোট হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের সব জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক মতের মানুষকে এই শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই উপস্থিতিই হবে সন্ত্রাস ও বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের ঐক্যবদ্ধ জবাব। অনুষ্ঠানের সরকারি প্রতীকেও খামেনির মুষ্টিবদ্ধ হাতের পাশে স্লোগান লেখা হয়েছে—আমাদের উঠে দাঁড়াতেই হবে।


বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরকার এই বিশাল সমাগম দিয়ে জাতীয় ঐক্য ও শক্তির প্রদর্শনী করতে চাইলেও ভেতরের চিত্রটা আলাদা। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক দমনে অনেক ইরানি ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ। খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হলেও, হামলার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাবার এই ঐতিহাসিক শেষকৃত্যেও তিনি উপস্থিত থাকবেন না বলে জানা গেছে।

বিষয় : মধ্যপ্রাচ্য মৃত্যু ইরান মরদেহ ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরান যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


মৃত্যুর ৪ মাস পর দাফন হচ্ছেন খামেনি: তেহরান জুড়ে নজিরবিহীন প্রস্তুতি, যোগ দেবেন বিশ্বনেতারা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

মৃত্যুর দীর্ঘ চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে দাফন হতে যাচ্ছে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। ইসলামি নীতিতে সাধারণত মৃত্যুর পর যত দ্রুত সম্ভব দাফনের বিধান থাকলেও খামেনির ক্ষেত্রে এই নজিরবিহীন বিলম্ব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুজব ছড়ালেও ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চরম নিরাপত্তা সংকটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।

৮৬ বছর বয়সে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলায় খামেনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির মরদেহ ইতিমধ্যে তেহরানে নিয়ে আসা হয়েছে। রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তিন দিনের জন্য তাঁর মরদেহ রাখা হবে, যাতে লাখ লাখ সাধারণ মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এরপর মরদেহ পর্যায়ক্রমে ইরানের বিভিন্ন শহর (তেহরান, কোম, মাশহাদ) এবং ইরাকের শিয়া পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান মাশহাদের ঐতিহাসিক ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে তাকে দাফন করা হবে।

ইরান সরকারের দাবি, এটি হতে যাচ্ছে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া। যেখানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। এই বিশাল জনতার জন্য ইতিমধ্যে পরিবহন, আবাসন ও খাবারের বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফসহ ভারত, চীন, আফগানিস্তান ও ককেশাস অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা এই শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

দীর্ঘ চার মাস ধরে আয়াতুল্লাহ খামেনির মরদেহ কোথায় এবং কীভাবে রাখা হয়েছিল—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল। কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, মরদেহ অস্থায়ীভাবে দাফন করা হয়েছিল। তবে এই দাবি নাকচ করে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসলামি বিধান মেনেই মরদেহ বিশেষ শীতল সংরক্ষণাগারে (হিমায়িত অবস্থায়) রাখা হয়েছিল।

সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক বিশ্লেষক ড. মোহাম্মদ ওমর ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানান, ইসলামে রাসায়নিক উপায়ে মরদেহ সংরক্ষণ (এমবামিং) নিরুৎসাহিত করা হলেও, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শীতল তাপমাত্রায় দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। ইরানের ফরেনসিক মর্গগুলোতে এই আধুনিক ব্যবস্থা থাকায় যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চার মাস মরদেহ হিমায়িত রাখা অস্বাভাবিক নয়।

খামেনির এই শেষকৃত্যকে ঘিরে কেবল ধর্মীয় আবেগই নয়, স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তাও দিচ্ছে তেহরান। কোম শহরের জুমার ইমাম আয়াতুল্লাহ মোহাম্মদ সাঈদি স্পষ্ট করেই বলেছেন—

শহীদ নেতার জানাজায় মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি কার্যত ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে আরেকটি গণভোট হিসেবে বিবেচিত হবে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান দেশের সব জাতিগোষ্ঠী ও রাজনৈতিক মতের মানুষকে এই শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই উপস্থিতিই হবে সন্ত্রাস ও বিদেশি চাপের বিরুদ্ধে ইরানি জনগণের ঐক্যবদ্ধ জবাব। অনুষ্ঠানের সরকারি প্রতীকেও খামেনির মুষ্টিবদ্ধ হাতের পাশে স্লোগান লেখা হয়েছে—আমাদের উঠে দাঁড়াতেই হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরকার এই বিশাল সমাগম দিয়ে জাতীয় ঐক্য ও শক্তির প্রদর্শনী করতে চাইলেও ভেতরের চিত্রটা আলাদা। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক দমনে অনেক ইরানি ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ। খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হলেও, হামলার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি। তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বাবার এই ঐতিহাসিক শেষকৃত্যেও তিনি উপস্থিত থাকবেন না বলে জানা গেছে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো