মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

৭৯ মিনিটেও ২-০: ৪ মিনিটের ঝড় ও এনজোর শেষ মুহূর্তের গোলে কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা!

পেনাল্টি মিসের প্রতিশোধ! মিশরকে কাঁদিয়ে আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন

পেনাল্টি মিসের প্রতিশোধ! মিশরকে কাঁদিয়ে আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন
ছবি: সংগৃহীত

আগের দিনই নরওয়ের কাছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিদায় দেখে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মাঠের লড়াইয়ে নামার পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছিল। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু এরপরই ফুটবল বিশ্ব দেখল আলবিসেলেস্তেদের এক অবিশ্বাস্য ও রূপকথার প্রত্যাবর্তন। মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নাটকীয় জয়ের সাথে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

লড়াইয়ের শুরুটা আর্জেন্টিনার জন্য ছিল চরম হতাশার। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট বেশ এলোমেলো ফুটবল খেলে মাঝমাঠে বারবার বল হারায় মেসিরা। এই সুযোগে ম্যাচের ১৫ মিনিটেই গোলের দেখা পায় মিশর। মারওয়ান আত্তিরার দারুণ ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান ইয়াসের ইব্রাহিম।

পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা ১৯ মিনিটেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায়। তবে পেনাল্টি থেকে স্পট কিক নিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে তাঁর নেওয়া শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের। এরপর ম্যাচের ২৮ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের বুলেট হেড এবং ৩৯ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের আক্রমণও প্রাচীর হয়ে রুখে দেন শোবের। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার বাড়ালেও উল্টো ম্যাচের ৬৭ মিনিটে গোল খেয়ে বসে। এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে মিশরের লিড দ্বিগুণ (২-০) করেন মোস্তাফা জিকো। যখন মনে হচ্ছিল ব্রাজিলের মতো আর্জেন্টিনাও অঘটনের শিকার হতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই শুরু হয় মেসি ম্যাজিক।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির মাপা ক্রস থেকে দারুণ হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (২-১)। এই গোলের ৪ মিনিট পরই (৮৩ মিনিটে) ডি-বক্সের ভেতর একক নৈপুণ্যে চোখধাঁধানো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান স্বয়ং অধিনায়ক মেসি (২-২)।


ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) মিশরের আক্রমণ রুখে দিয়ে পাল্টা কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে বল পেয়ে মিশরের জালে বল জড়াতে ভুল করেননি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। পুরো ম্যাচে এই প্রমবারের মতো লিড নেয় আলবিসেলেস্তেরা (৩-২)। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে অবিশ্বাস্য এক জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে স্কালোনির দল।

বিষয় : ফুটবল লিওনেল মেসি আর্জেন্টিনা ফুটবল দল মিসর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


পেনাল্টি মিসের প্রতিশোধ! মিশরকে কাঁদিয়ে আর্জেন্টিনার মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন

প্রকাশের তারিখ : ০৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

আগের দিনই নরওয়ের কাছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের বিদায় দেখে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মাঠের লড়াইয়ে নামার পর সেই আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছিল। ম্যাচের ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু এরপরই ফুটবল বিশ্ব দেখল আলবিসেলেস্তেদের এক অবিশ্বাস্য ও রূপকথার প্রত্যাবর্তন। মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নাটকীয় জয়ের সাথে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।

লড়াইয়ের শুরুটা আর্জেন্টিনার জন্য ছিল চরম হতাশার। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট বেশ এলোমেলো ফুটবল খেলে মাঝমাঠে বারবার বল হারায় মেসিরা। এই সুযোগে ম্যাচের ১৫ মিনিটেই গোলের দেখা পায় মিশর। মারওয়ান আত্তিরার দারুণ ক্রস থেকে নিখুঁত হেডে বল জালে পাঠান ইয়াসের ইব্রাহিম।

পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া আর্জেন্টিনা ১৯ মিনিটেই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায়। তবে পেনাল্টি থেকে স্পট কিক নিয়ে গোল করতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ডান দিকের নিচু কোণ ঘেঁষে তাঁর নেওয়া শটটি দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মিশরীয় গোলকিপার মোস্তফা শোবের। এরপর ম্যাচের ২৮ মিনিটে ম্যাক অ্যালিস্টারের বুলেট হেড এবং ৩৯ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের আক্রমণও প্রাচীর হয়ে রুখে দেন শোবের। ফলে ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে আর্জেন্টিনা আক্রমণের ধার বাড়ালেও উল্টো ম্যাচের ৬৭ মিনিটে গোল খেয়ে বসে। এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল করে মিশরের লিড দ্বিগুণ (২-০) করেন মোস্তাফা জিকো। যখন মনে হচ্ছিল ব্রাজিলের মতো আর্জেন্টিনাও অঘটনের শিকার হতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই শুরু হয় মেসি ম্যাজিক।

ম্যাচের ৭৯ মিনিটে লিওনেল মেসির মাপা ক্রস থেকে দারুণ হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (২-১)। এই গোলের ৪ মিনিট পরই (৮৩ মিনিটে) ডি-বক্সের ভেতর একক নৈপুণ্যে চোখধাঁধানো গোল করে দলকে সমতায় ফেরান স্বয়ং অধিনায়ক মেসি (২-২)।


ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ম্যাচের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) মিশরের আক্রমণ রুখে দিয়ে পাল্টা কাউন্টার অ্যাটাকে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে বল পেয়ে মিশরের জালে বল জড়াতে ভুল করেননি মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। পুরো ম্যাচে এই প্রমবারের মতো লিড নেয় আলবিসেলেস্তেরা (৩-২)। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে অবিশ্বাস্য এক জয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে স্কালোনির দল।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো