মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত দিল্লি, বিরোধীদের মোদি ভবন ঘেরাও

দিল্লিতে লাঠিপেটার পরদিন হাজারো তরুণের বিক্ষোভ, মোদি-অমিত শাহর পদত্যাগ চাইলেন রাহুল

দিল্লিতে লাঠিপেটার পরদিন হাজারো তরুণের বিক্ষোভ, মোদি-অমিত শাহর পদত্যাগ চাইলেন রাহুল
সিজেপির দাবির প্রতি সমর্থন জানাতে যন্তর-মন্তরে জড়ো হয় হাজারো তরুণ। সোমবার দিল্লিতে। ছবি : সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটার পরদিন ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে আবারও রাজপথে নেমেছেন কয়েক হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মূলত এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল ও দুপুরের দিকে যন্তর-মন্তরের আশপাশ কিছুটা ফাঁকা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকেলে সেখানে তরুণদের উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে বাড়ে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল সোমবারের পুলিশি বলপ্রয়োগ ও লাঠিপেটার ঘটনা তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পকে আরও দৃঢ় ও জোরালো করেছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানাতে আজ মঙ্গলবার যন্তর-মন্তরে যায় পার্লামেন্টের বামপন্থী এমপিদের একটি প্রতিনিধিদল। সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁরা সোমবারের বিতর্কিত পুলিশি অ্যাকশনের ঘটনায় পার্লামেন্টে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিপিআই (এম)-এর রাজ্যসভার এমপি জন ব্রিটাস, এ এ রহিম, ভি শিবদাসন এবং সিপিআইয়ের পি সন্দোশ কুমার। এ ছাড়া ছিলেন সিপিআই (এম)-এর লোকসভার সদস্য অমরা রাম ও সু ভেঙ্কটেশন। অন্যদিকে এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পাওয়ারও শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজখবর নিতে যন্তর-মন্তরে যান বলে তাঁর দল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও তাঁদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আজ দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, যেসব দেশপ্রেমিক ভারতীয় বিশ্বাস করেন আমাদের ছাত্ররা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তারা কংগ্রেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে যোগ দিন।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের এই বিক্ষোভের সময় সাবেক ছাত্রনেতা ও কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কংগ্রেসের এমপি সুখজিন্দর সিং বলেন, এমপিদেরই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশ কী করছে একবার ভেবে দেখুন। অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ সুখজিন্দর সিংকেও আটক করে গাড়িতে তোলে।

কংগ্রেসের এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৪টি সুস্পষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে: ১. পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান। ২. প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পার্লামেন্টে বিস্তারিত আলোচনা। ৩. ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। ৪. আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।


বিকেলে কংগ্রেসের রাজপথের কর্মসূচি শুরুর পরপরই এক্স পোস্টে কড়া বার্তা দেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘গতকাল সোমবার ভারতের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, সেটির জবাব চাইতে আমরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, এমনকি সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। ভারতের কোটি কোটি যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।

বিষয় : ভারত দিল্লি ককরোচ জনতা পার্টি বিক্ষোভ সমাবেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


দিল্লিতে লাঠিপেটার পরদিন হাজারো তরুণের বিক্ষোভ, মোদি-অমিত শাহর পদত্যাগ চাইলেন রাহুল

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পার্লামেন্ট অভিমুখী মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটার পরদিন ঐতিহাসিক যন্তর-মন্তরে আবারও রাজপথে নেমেছেন কয়েক হাজার তরুণ ও শিক্ষার্থী। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মূলত এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।

আজ মঙ্গলবার সকাল ও দুপুরের দিকে যন্তর-মন্তরের আশপাশ কিছুটা ফাঁকা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকেলে সেখানে তরুণদের উপস্থিতি লক্ষণীয়ভাবে বাড়ে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, গতকাল সোমবারের পুলিশি বলপ্রয়োগ ও লাঠিপেটার ঘটনা তাঁদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পকে আরও দৃঢ় ও জোরালো করেছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানাতে আজ মঙ্গলবার যন্তর-মন্তরে যায় পার্লামেন্টের বামপন্থী এমপিদের একটি প্রতিনিধিদল। সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁরা সোমবারের বিতর্কিত পুলিশি অ্যাকশনের ঘটনায় পার্লামেন্টে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন সিপিআই (এম)-এর রাজ্যসভার এমপি জন ব্রিটাস, এ এ রহিম, ভি শিবদাসন এবং সিপিআইয়ের পি সন্দোশ কুমার। এ ছাড়া ছিলেন সিপিআই (এম)-এর লোকসভার সদস্য অমরা রাম ও সু ভেঙ্কটেশন। অন্যদিকে এনসিপি (এসপি) প্রধান শরদ পাওয়ারও শিক্ষার্থীদের সার্বিক খোঁজখবর নিতে যন্তর-মন্তরে যান বলে তাঁর দল সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও তাঁদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আজ দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, যেসব দেশপ্রেমিক ভারতীয় বিশ্বাস করেন আমাদের ছাত্ররা ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য, তারা কংগ্রেসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে যোগ দিন।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের এই বিক্ষোভের সময় সাবেক ছাত্রনেতা ও কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কংগ্রেসের এমপি সুখজিন্দর সিং বলেন, এমপিদেরই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ ছাত্রদের সঙ্গে পুলিশ কী করছে একবার ভেবে দেখুন। অবশ্য কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ সুখজিন্দর সিংকেও আটক করে গাড়িতে তোলে।

কংগ্রেসের এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ৪টি সুস্পষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়েছে: ১. পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদান। ২. প্রশ্নপত্র ফাঁস ও সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে পার্লামেন্টে বিস্তারিত আলোচনা। ৩. ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। ৪. আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাছে সরকারের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।


বিকেলে কংগ্রেসের রাজপথের কর্মসূচি শুরুর পরপরই এক্স পোস্টে কড়া বার্তা দেন বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, ‘গতকাল সোমবার ভারতের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, সেটির জবাব চাইতে আমরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে মিছিল করেছি। সরকার কোনো দায়িত্ব নিতে চায় না, এমনকি সংসদেও এ নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। ভারতের কোটি কোটি যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো