মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

আন্তর্জাতিক

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস: ৮শ’ বিদেশি সহ দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ

নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস: ৮শ’ বিদেশি সহ দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ
ছবি: সংগৃহীত

হিমালয় পর্বতমালাঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে কেঁপে উঠেছে নেপাল এবং চীনের তিব্বত সীমান্ত। ধ্বংসস্তূপের নিচে ও তীব্র স্রোতে আটকা পড়ে প্রায় ৮০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যটক ও তীর্থযাত্রীসহ দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার তিব্বতের রাজধানী লাসার সাথে নেপালের কাঠমান্ডুকে যুক্ত করা অন্যতম জনপ্রিয় ও দুর্গম ট্রেকিং রুট রাসুয়া অঞ্চলে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে। নিখোঁজদের মধ্যে দুই ডজনেরও বেশি দেশের নাগরিক রয়েছেন। পুলিশি সূত্রের ধারণা, মৃতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ায় লাশ উদ্ধারের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবি নারায়ণ কাফ্লে।

নেপালের পুলিশ ও পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, তাদের সীমানায় নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে অন্তত ৫০০ জনই ভিনদেশি। এর মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনা সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ ৫৫৮ জনের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশী। সীমান্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত চীন ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা প্ল্যানেট ল্যাবসের তোলা ভূ-উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) ছবি বিশ্লেষণ করে ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, চরম উষ্ণতায় হঠাৎ বিশাল হিমবাহ ভেঙে উপত্যকায় আছড়ে পড়ার কারণেই এ মহাবিপর্যয়ের সৃষ্টি।

কানাডার ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড্যান শুগার জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে থাকা বিশাল এক বরফের খণ্ড প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে উপত্যকায় খসে পড়ে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা আগেই অস্বাভাবিক গরমে বরফ দ্রুত গলতে শুরু করেছিল।

পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, ভৌগোলিকভাবে কার্বন নিঃসরণকারী দুই বৃহৎ দেশ ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থিত হওয়ার কারণে নেপালের পাহাড়গুলো দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব ছাড়াও দুর্ঘটনার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে ওই এলাকায় ঘটে যাওয়া মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প কিংবা অতিরিক্ত অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণ এই হিমধসের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।


বর্তমানে পুরো সবুজ উপত্যকাটি বাদামি রঙের কাদা, পাথর ও পলির ঘন স্তরে বিলীন হয়ে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

বিষয় : বন্যা নেপাল ভূমিধস তিব্বত

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস: ৮শ’ বিদেশি সহ দেড় হাজার মানুষ নিখোঁজ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

হিমালয় পর্বতমালাঘেঁষা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে কেঁপে উঠেছে নেপাল এবং চীনের তিব্বত সীমান্ত। ধ্বংসস্তূপের নিচে ও তীব্র স্রোতে আটকা পড়ে প্রায় ৮০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যটক ও তীর্থযাত্রীসহ দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বুধবার তিব্বতের রাজধানী লাসার সাথে নেপালের কাঠমান্ডুকে যুক্ত করা অন্যতম জনপ্রিয় ও দুর্গম ট্রেকিং রুট রাসুয়া অঞ্চলে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে। নিখোঁজদের মধ্যে দুই ডজনেরও বেশি দেশের নাগরিক রয়েছেন। পুলিশি সূত্রের ধারণা, মৃতের সংখ্যা ১৬৫ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ায় লাশ উদ্ধারের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আবি নারায়ণ কাফ্লে।

নেপালের পুলিশ ও পর্যটন বিভাগ জানিয়েছে, তাদের সীমানায় নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে অন্তত ৫০০ জনই ভিনদেশি। এর মধ্যে ভারতের ১৭৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক রয়েছেন।

অন্যদিকে, চীনা সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের জিরং কাউন্টিতে নিখোঁজ ৫৫৮ জনের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশী। সীমান্ত এলাকায় এখন পর্যন্ত চীন ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মহাকাশ গবেষণা সংস্থা প্ল্যানেট ল্যাবসের তোলা ভূ-উপগ্রহের (স্যাটেলাইট) ছবি বিশ্লেষণ করে ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, চরম উষ্ণতায় হঠাৎ বিশাল হিমবাহ ভেঙে উপত্যকায় আছড়ে পড়ার কারণেই এ মহাবিপর্যয়ের সৃষ্টি।

কানাডার ক্যালগারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড্যান শুগার জানান, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উঁচুতে থাকা বিশাল এক বরফের খণ্ড প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে উপত্যকায় খসে পড়ে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা আগেই অস্বাভাবিক গরমে বরফ দ্রুত গলতে শুরু করেছিল।

পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, ভৌগোলিকভাবে কার্বন নিঃসরণকারী দুই বৃহৎ দেশ ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থিত হওয়ার কারণে নেপালের পাহাড়গুলো দ্রুত বরফ হারাচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব ছাড়াও দুর্ঘটনার ঠিক কয়েক মুহূর্ত আগে ওই এলাকায় ঘটে যাওয়া মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প কিংবা অতিরিক্ত অনিয়ন্ত্রিত অবকাঠামো নির্মাণ এই হিমধসের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে পুরো সবুজ উপত্যকাটি বাদামি রঙের কাদা, পাথর ও পলির ঘন স্তরে বিলীন হয়ে এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো