নেপাল ও তিব্বতের মহাবিপর্যয়: ৩৫ দেশের দেড় হাজার নাগরিক নিখোঁজ, নিহত বেড়ে ৩৩৫
নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্ত জুড়ে দেখা দেওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৩৫টি দেশের নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি। বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের বরাতে এএফপি ১ হাজার ৩৮১ জন নিখোঁজের কথা বললেও, অন্য এক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার বলে নিশ্চিত করেছে।এদিকে পরিস্থিতি যতই উন্মোচিত হচ্ছে, ততই বাড়ছে মৃতের মিছিল। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই মহাবিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৩৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে কেবল নেপালেই মারা গেছেন ৩৩২ জন। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া তিব্বত অংশে ৩ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট'-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল পুলিশের দেওয়া বেলা দেড়টার হিসাব অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে চিতওয়ান ও নওয়ালপরাসি ইস্ট এলাকায়। সেখানে যথাক্রমে ১০৮ ও ৬২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ধাদিংয়ে ২৭, গোরখায় ২০, রাসুওয়ায় ১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৫, নুয়াকোটে ১২ এবং তানাহুনে ৯ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে।জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সবশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, নেপালের স্থানীয় বাসিন্দা, নিরাপত্তাকর্মী ও দেশি-বিদেশি পর্যটক মিলে এখনও অন্তত ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিপরীতে তিব্বতে ৫৫৮ জন নিখোঁজের তথ্য জানিয়ে ২ জন স্থানীয় গ্রামবাসীকে জীবিত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে চীন।হিমালয়ের দুর্গম পর্বতশৃঙ্গ আরোহণ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের উদ্দেশ্যে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে পর্যটকরা নেপালে আসেন। পাশাপাশি তিব্বত ও নেপালের বিভিন্ন পবিত্র স্থানে বিপুল সংখ্যক হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী তীর্থযাত্রী সমবেত হন। যার কারণে নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা এতটা বেশি। এএফপির তালিকায় ভারতের ১৭৮, চীনের ১০০, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৪, ইউক্রেনের ৫৩, মালয়েশিয়ার ৫০, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1173]বিশেষজ্ঞ ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, দুর্যোগের ভয়াবহতা এবং যোগাযোগের কাঠামোগত ক্ষতির কারণে এখনও চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। দ্বৈত নাগরিকত্ব, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজ ও নিহতের পরিসংখ্যানে আরও পরিবর্তন আসতে পারে।