ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের কালিযুগ গ্রামের শান্ত জলাভূমিটি এখন প্রাকৃতিকভাবে ফুটে থাকা ধবধবে সাদা পদ্মফুলের চাদরে ঢেকে গেছে। পীরগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই বিলটি এখন রূপ নিয়েছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্রে। ভোরের আলো ফুটতেই কিংবা পড়ন্ত বিকেলে যখন মৃদু বাতাসে শত শত সাদা পদ্ম দুলতে থাকে, তখন বিলের সৌন্দর্য দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী।
বর্তমানে এই মনোরম দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ভোরেই বিলে ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। তবে বিলে নামার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমানে শুধু একটি কাঠের সেতু বা ফুটব্রিজ ব্যবহার করেই দর্শনার্থীদের ঘুরতে হচ্ছে। দিনাজপুর থেকে আসা শাহানা পারভিন নামে এক দর্শনার্থী জানান, বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অপরূপ, তবে পর্যটকদের জন্য যদি নৌকার সুব্যবস্থা থাকত, তবে অভিজ্ঞতা আরও চমৎকার হতো।
ঢাকার বিইউপি থেকে আসা শিক্ষার্থী নাফিসা এই সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করার পাশাপাশি জানান, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ শৌচাগার, মানসম্মত রেস্তোরাঁ এবং সার্বিক পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তুললে এই স্থানটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তবে বিলে দর্শনার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত আনাগোনা ও অসচেতনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয় স্কুলছাত্রী নিগার জানায়, পদ্ম দেখে আনন্দ পেলেও কিছু মানুষকে ফুল ছিঁড়তে দেখে সে কষ্ট পেয়েছে। এছাড়া কালিযুগ গ্রামের স্থানীয় অধিবাসী চান বানিয়া জানান, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা এবং অনুমতি ছাড়া বসতবাড়িতে প্রবেশের কারণে স্থানীয়রা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, পদ্ম একটি প্রাকৃতিকভাবে ছড়িয়ে পড়া জলজ উদ্ভিদ। মূলত পাখির মাধ্যমে পদ্মের বীজ বাহিত হয়ে এই কালিযুগ পোরাবিলে এসেছে এবং তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিলটিকে রূপময় করে তুলেছে।
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিকী পদ্মের ওষুধি গুণের কথা উল্লেখ করে বলেন, জলাশয় ভরাটের কারণে বিলুপ্তপ্রায় এই ফুলটির বাণিজ্যিক চাষ ও সংরক্ষণ জরুরি।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার জানান, সাদা পদ্মের সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের আগমন ইতিবাচক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও ফুল না ছিঁড়ে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য তিনি দর্শনার্থীদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিলটি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় নজরদারি বজায় রাখবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের কালিযুগ গ্রামের শান্ত জলাভূমিটি এখন প্রাকৃতিকভাবে ফুটে থাকা ধবধবে সাদা পদ্মফুলের চাদরে ঢেকে গেছে। পীরগঞ্জ শহর থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই বিলটি এখন রূপ নিয়েছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম নয়নাভিরাম পর্যটন কেন্দ্রে। ভোরের আলো ফুটতেই কিংবা পড়ন্ত বিকেলে যখন মৃদু বাতাসে শত শত সাদা পদ্ম দুলতে থাকে, তখন বিলের সৌন্দর্য দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী।
বর্তমানে এই মনোরম দৃশ্য প্রত্যক্ষ করতে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ভোরেই বিলে ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। তবে বিলে নামার জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় বর্তমানে শুধু একটি কাঠের সেতু বা ফুটব্রিজ ব্যবহার করেই দর্শনার্থীদের ঘুরতে হচ্ছে। দিনাজপুর থেকে আসা শাহানা পারভিন নামে এক দর্শনার্থী জানান, বিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই অপরূপ, তবে পর্যটকদের জন্য যদি নৌকার সুব্যবস্থা থাকত, তবে অভিজ্ঞতা আরও চমৎকার হতো।
ঢাকার বিইউপি থেকে আসা শিক্ষার্থী নাফিসা এই সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করার পাশাপাশি জানান, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিরাপদ শৌচাগার, মানসম্মত রেস্তোরাঁ এবং সার্বিক পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তুললে এই স্থানটি দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তবে বিলে দর্শনার্থীদের অনিয়ন্ত্রিত আনাগোনা ও অসচেতনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয় স্কুলছাত্রী নিগার জানায়, পদ্ম দেখে আনন্দ পেলেও কিছু মানুষকে ফুল ছিঁড়তে দেখে সে কষ্ট পেয়েছে। এছাড়া কালিযুগ গ্রামের স্থানীয় অধিবাসী চান বানিয়া জানান, পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা এবং অনুমতি ছাড়া বসতবাড়িতে প্রবেশের কারণে স্থানীয়রা কিছুটা অস্বস্তিতে পড়ছেন।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, পদ্ম একটি প্রাকৃতিকভাবে ছড়িয়ে পড়া জলজ উদ্ভিদ। মূলত পাখির মাধ্যমে পদ্মের বীজ বাহিত হয়ে এই কালিযুগ পোরাবিলে এসেছে এবং তা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিলটিকে রূপময় করে তুলেছে।
অন্যদিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু বকর সিদ্দিকী পদ্মের ওষুধি গুণের কথা উল্লেখ করে বলেন, জলাশয় ভরাটের কারণে বিলুপ্তপ্রায় এই ফুলটির বাণিজ্যিক চাষ ও সংরক্ষণ জরুরি।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার জানান, সাদা পদ্মের সৌন্দর্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের আগমন ইতিবাচক। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও ফুল না ছিঁড়ে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য তিনি দর্শনার্থীদের আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিলটি সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে সঙ্গে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় নজরদারি বজায় রাখবে বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন