এবং বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন!—১৯৯৭ সালের ১৩ই এপ্রিল মালয়েশিয়ার কিলাত ক্লাব মাঠ থেকে ভেসে আসা এই একটিমাত্র বাক্য কোটি বাঙালির মনে যে আনন্দের জোয়ার এনে দিয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিল একটিই পরিচিত কণ্ঠ। স্বতন্ত্র স্বর, আবেগাপ্লুত বচনভঙ্গি আর রোমাঞ্চকর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে মাতিয়ে রেখেছেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত।
১৯৬৫ সালের ১০ মে জন্ম নেওয়া এই ক্রীড় ব্যক্তিত্বের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়। বাবা শারাফাত হোসেন চৌধুরীর তিন ভাই ও তিন বোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত পরবর্তীতে ঢাকার ঐতিহাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রিচি বেনোর প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ধারাভাষ্যকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ধারাভাষ্যকার হিসেবে অডিশনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ বেতারেও সুযোগ পান। প্রখ্যাত ‘প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে’ রোমানিয়া বনাম ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি দিয়ে শুরু হয় তাঁর ঐতিহাসিক যাত্রা।
যে সময়ে দেশে খেলাধুলার সমার্থক ছিল শুধুই ফুটবল, সেই সময়ে রেডিওর মাইক্রোফোনে ক্রিকেটকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে জনপ্রিয় করে তোলার অন্যতম কারিগর তিনি। দেশের ক্রিকেট ও ফুটবলের অসংখ্য ঐতিহাসিক বিজয়ের আগাম কিংবা চূড়ান্ত খবর প্রথম ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর সুরের তরঙ্গে। নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে টানা ১৮টি বিশ্বকাপে সরাসরি ধারাভাষ্য দেওয়ার বিরল বিশ্বরেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় মাঝেমধ্যেই স্মৃতিকাতর বা নস্টালজিক হয়ে পড়া শারাফাত ভাইয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ১৯৯৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে মোহাম্মদ রফিকের ব্যাটিংয়ের সময় কিংবা ওমানের বিরুদ্ধে জয়ের পর তাঁর আবেগঘন "সাবাশ বাংলাদেশ" বচন এখনও ক্রীড়াপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘোরে। এ ছাড়া "স্কয়ার কাট করে বল পাঠিয়ে দিলেন লং অন দিয়ে সোজা সীমানার বাইরে" কিংবা "চমৎকার শট, এক্সেলেন্ট লেগ গ্লান্স"—তাঁর এমন কিছু মজাদার ও ব্যতিক্রমী বিবরণ ধারাভাষ্য জগতে তাঁকে বিশেষ এক স্থান দিয়েছে।
খেলাধুলার বাইরেও শারাফাত একজন সফল করপোরেট ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টি সদস্য এবং ইউনিক গ্রুপের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি বেশ কিছু নাটক ও বিজ্ঞাপনেও নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক সংবাদপত্র ‘দৈনিক বাংলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে মিডিয়া জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ধারাভাষ্যকার গড়ে তুলতে ২০১৭ সালে ‘কমেন্টেটর হান্ট’ প্রতিযোগিতার প্রধান নির্বাচক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ধারাভাষ্যের ধরন বদলালেও চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাতের নাম আজও বাংলাদেশি ক্রীড়া ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে গাঁথা।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এবং বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন!—১৯৯৭ সালের ১৩ই এপ্রিল মালয়েশিয়ার কিলাত ক্লাব মাঠ থেকে ভেসে আসা এই একটিমাত্র বাক্য কোটি বাঙালির মনে যে আনন্দের জোয়ার এনে দিয়েছিল, তার নেপথ্যে ছিল একটিই পরিচিত কণ্ঠ। স্বতন্ত্র স্বর, আবেগাপ্লুত বচনভঙ্গি আর রোমাঞ্চকর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে মাতিয়ে রেখেছেন জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত।
১৯৬৫ সালের ১০ মে জন্ম নেওয়া এই ক্রীড় ব্যক্তিত্বের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায়। বাবা শারাফাত হোসেন চৌধুরীর তিন ভাই ও তিন বোনের পরিবারে বেড়ে ওঠা চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত পরবর্তীতে ঢাকার ঐতিহাসিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার রিচি বেনোর প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ধারাভাষ্যকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তখন তিনি নবম শ্রেণির ছাত্র। ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ধারাভাষ্যকার হিসেবে অডিশনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ বেতারেও সুযোগ পান। প্রখ্যাত ‘প্রেসিডেন্ট গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে’ রোমানিয়া বনাম ইন্দোনেশিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি দিয়ে শুরু হয় তাঁর ঐতিহাসিক যাত্রা।
যে সময়ে দেশে খেলাধুলার সমার্থক ছিল শুধুই ফুটবল, সেই সময়ে রেডিওর মাইক্রোফোনে ক্রিকেটকে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে জনপ্রিয় করে তোলার অন্যতম কারিগর তিনি। দেশের ক্রিকেট ও ফুটবলের অসংখ্য ঐতিহাসিক বিজয়ের আগাম কিংবা চূড়ান্ত খবর প্রথম ছড়িয়ে পড়েছে তাঁর সুরের তরঙ্গে। নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে টানা ১৮টি বিশ্বকাপে সরাসরি ধারাভাষ্য দেওয়ার বিরল বিশ্বরেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
ধারাভাষ্য দেওয়ার সময় মাঝেমধ্যেই স্মৃতিকাতর বা নস্টালজিক হয়ে পড়া শারাফাত ভাইয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ১৯৯৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে মোহাম্মদ রফিকের ব্যাটিংয়ের সময় কিংবা ওমানের বিরুদ্ধে জয়ের পর তাঁর আবেগঘন "সাবাশ বাংলাদেশ" বচন এখনও ক্রীড়াপ্রেমীদের মুখে মুখে ঘোরে। এ ছাড়া "স্কয়ার কাট করে বল পাঠিয়ে দিলেন লং অন দিয়ে সোজা সীমানার বাইরে" কিংবা "চমৎকার শট, এক্সেলেন্ট লেগ গ্লান্স"—তাঁর এমন কিছু মজাদার ও ব্যতিক্রমী বিবরণ ধারাভাষ্য জগতে তাঁকে বিশেষ এক স্থান দিয়েছে।
খেলাধুলার বাইরেও শারাফাত একজন সফল করপোরেট ব্যক্তিত্ব। তিনি প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টি সদস্য এবং ইউনিক গ্রুপের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর পাশাপাশি বেশ কিছু নাটক ও বিজ্ঞাপনেও নিজের উপস্থিতির জানান দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম ঐতিহাসিক সংবাদপত্র ‘দৈনিক বাংলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে মিডিয়া জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ক্রীড়াঙ্গনে নতুন ধারাভাষ্যকার গড়ে তুলতে ২০১৭ সালে ‘কমেন্টেটর হান্ট’ প্রতিযোগিতার প্রধান নির্বাচক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ধারাভাষ্যের ধরন বদলালেও চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাতের নাম আজও বাংলাদেশি ক্রীড়া ইতিহাসের সাথে গভীরভাবে গাঁথা।

আপনার মতামত লিখুন