সার, কীটনাশক ও ধান রোপণের মজুরি বৃদ্ধির চাপে এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। এর ওপর আমন ধানের শীষ বের হওয়ার মুহূর্তে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাঠগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষতিকর মাজরা পোকা ও মারাত্মক গোড়া পচা রোগ। বাজারে পাওয়া বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক বারবার প্রয়োগ করেও মিলছে না আশানুরূপ সুফল। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে বাড়তি ওষুধের খরচ, অন্যদিকে কঙ্কালসার হতে যাওয়া ধানখেত দেখে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার করমদী, তেরাইলসহ বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, একের পর এক আমন খেতের ধানের গোড়া পচে ছাই হয়ে যাচ্ছে এবং মাঝখানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে আসছে। কৃষক মিজানুর রহমান ও রুবেল হোসেন জানান, শিষ বের হওয়ার মুখেই রোগের উপদ্রব শুরু হওয়ায় তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিঘা প্রতি যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান পাওয়ার কথা, বর্তমান পরিস্থিতে সেই ফলন অর্ধেকের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা করছেন কৃষক আব্দুল মতিন। অনেক কৃষকের অভিযোগ, রোগ নিয়ন্ত্রণের এই দুর্যোগে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ে সময়মতো পরামর্শ মিলছে না।
তবে কৃষি বিভাগের দাবি, চাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক কারণে পোকার প্রকোপ কিছুটা দেখা দিলেও তা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাজরা পোকার বিস্তার রোধে খেত থেকে কিছুটা দূরে ‘আলোকফাঁদ’ বসিয়ে মথ দমনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া খেতের বর্তমান অবস্থা নিয়ন্ত্রণে প্রতি ৫টি মরা শীষের বিপরীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইনসিপিয়ো ২০ এসসি, ভিরতাকো ৪০ ডব্লিউজি কিংবা বেল্ট এক্সপার্ট ৪৮ এসসি প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি অফিসের তদারকি অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সার, কীটনাশক ও ধান রোপণের মজুরি বৃদ্ধির চাপে এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। এর ওপর আমন ধানের শীষ বের হওয়ার মুহূর্তে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার মাঠগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে ক্ষতিকর মাজরা পোকা ও মারাত্মক গোড়া পচা রোগ। বাজারে পাওয়া বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক বারবার প্রয়োগ করেও মিলছে না আশানুরূপ সুফল। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে বাড়তি ওষুধের খরচ, অন্যদিকে কঙ্কালসার হতে যাওয়া ধানখেত দেখে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সরেজমিনে উপজেলার করমদী, তেরাইলসহ বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, একের পর এক আমন খেতের ধানের গোড়া পচে ছাই হয়ে যাচ্ছে এবং মাঝখানের শীষ শুকিয়ে সাদা হয়ে আসছে। কৃষক মিজানুর রহমান ও রুবেল হোসেন জানান, শিষ বের হওয়ার মুখেই রোগের উপদ্রব শুরু হওয়ায় তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিঘা প্রতি যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ১৬ থেকে ১৮ মণ ধান পাওয়ার কথা, বর্তমান পরিস্থিতে সেই ফলন অর্ধেকের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা করছেন কৃষক আব্দুল মতিন। অনেক কৃষকের অভিযোগ, রোগ নিয়ন্ত্রণের এই দুর্যোগে কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে মাঠপর্যায়ে সময়মতো পরামর্শ মিলছে না।
তবে কৃষি বিভাগের দাবি, চাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৪ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক কারণে পোকার প্রকোপ কিছুটা দেখা দিলেও তা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাজরা পোকার বিস্তার রোধে খেত থেকে কিছুটা দূরে ‘আলোকফাঁদ’ বসিয়ে মথ দমনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া খেতের বর্তমান অবস্থা নিয়ন্ত্রণে প্রতি ৫টি মরা শীষের বিপরীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইনসিপিয়ো ২০ এসসি, ভিরতাকো ৪০ ডব্লিউজি কিংবা বেল্ট এক্সপার্ট ৪৮ এসসি প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি অফিসের তদারকি অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

আপনার মতামত লিখুন