কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও আগের বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আবদুল হালিম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এসআরবি (সাবেক র্যাব) মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খয়েরপুর গ্রামে স্থানীয় মান্নান-বকুল গ্রুপ এবং ইউসুফ মেম্বার-মেহেদী গ্রুপের সমর্থক ও অনুসারিদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল হালিম ওই গ্রামের মৃত কালাম সর্দারের ছেলে এবং তিনি ইউসুফ মেম্বারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মসজিদের ব্যাটারি চুরি এবং এলাকায় নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত তিন দিন ধরে এলাকাটি অশান্ত ছিল এবং একে অপরের লোকজনকে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটে। শনিবার ভোরে চাপাইগাছি বিলের পার্শ্ববর্তী স্থানে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। এ সময় আবদুল হালিম নিজ ঘর থেকে বের হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের একটি বাড়ির ছাদ থেকে ছোড়া বল্লম (ফালা) তাঁর গলায় এসে বিদ্ধ হয়। এরপরই উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ১০ জন আহত হন।
গুরুতর জখম অবস্থায় আবদুল হালিমকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। আহতদের মধ্যে একজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের ছেলে হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পুরোনো বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হলেও প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিল। বকুলের উসকানিতে মান্নান ও খালেকসহ কয়েকজন আমার বাবাকে লক্ষ্য করে ফালা মেরে হত্যা করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মান্নান-বকুল গ্রুপের বকুলকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। বর্তমানে এলাকা থমথমে থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার ও আগের বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আবদুল হালিম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও এসআরবি (সাবেক র্যাব) মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খয়েরপুর গ্রামে স্থানীয় মান্নান-বকুল গ্রুপ এবং ইউসুফ মেম্বার-মেহেদী গ্রুপের সমর্থক ও অনুসারিদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত আবদুল হালিম ওই গ্রামের মৃত কালাম সর্দারের ছেলে এবং তিনি ইউসুফ মেম্বারের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মসজিদের ব্যাটারি চুরি এবং এলাকায় নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত তিন দিন ধরে এলাকাটি অশান্ত ছিল এবং একে অপরের লোকজনকে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটে। শনিবার ভোরে চাপাইগাছি বিলের পার্শ্ববর্তী স্থানে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। এ সময় আবদুল হালিম নিজ ঘর থেকে বের হলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের একটি বাড়ির ছাদ থেকে ছোড়া বল্লম (ফালা) তাঁর গলায় এসে বিদ্ধ হয়। এরপরই উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে অন্তত ১০ জন আহত হন।
গুরুতর জখম অবস্থায় আবদুল হালিমকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য তাঁর লাশ মর্গে পাঠায় পুলিশ।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল। আহতদের মধ্যে একজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
নিহতের ছেলে হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পুরোনো বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধান করা হলেও প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের ক্রমাগত হুমকি দিয়ে আসছিল। বকুলের উসকানিতে মান্নান ও খালেকসহ কয়েকজন আমার বাবাকে লক্ষ্য করে ফালা মেরে হত্যা করেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মান্নান-বকুল গ্রুপের বকুলকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানান, সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। বর্তমানে এলাকা থমথমে থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

আপনার মতামত লিখুন