ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আধুনিক মালয়েশিয়ার প্রতিটি অবকাঠামোয় মিশে আছে বাংলাদেশি কর্মীদের ঘাম ও মেধা। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের এই শ্রমনির্ভর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন বারবার হোঁচট খাচ্ছে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দুর্নীতি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটের কারণে। যার ফলে ২০২৪ সালে এসে আবারও বন্ধ রয়েছে কর্মী নিয়োগ।
উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতা ও ঢাকা অঞ্চল থেকে আখ ও রাবার চাষের জন্য বাঙালিদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পোর্ট ডিকসনের বাঙালি পাড়া আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী। সত্তরের দশকে মালয়েশিয়া যখন কৃষি থেকে শিল্পনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর শুরু করে, তখন থেকেই বাংলাদেশিরা সেখানে নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা খাতে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। বর্তমানে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ৮ম বৃহত্তম বিনিয়োগ অংশীদার।
বিগত দুই দশকে অন্তত চারবার বড় ধরনের সংকটে পড়েছে এই শ্রমবাজার:
সরকারিভাবে মালয়েশিয়া গমনে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা খরচ নির্ধারণ করা হলেও, বাস্তবে কর্মীদের গুনতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই ঋণের বোঝা শোধ করতে গিয়ে কর্মীরা যে শ্রম দেয়, তা অনেক ক্ষেত্রে জোর জবরদস্তি শ্রম বা আধুনিক দাসত্ব ও মানবপাচার-এর সংজ্ঞায় পড়ে যাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মালয়েশিয়ার শ্রম মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বাংলাদেশ সরকার তদন্ত করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রমাণ পেলেও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আইনি পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে কেবল সার্ভার লক করার মতো সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সিআইডি ও দুদকের মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন থাকায় মালয়েশিয়া সরকারের কাছে বাজার খোলার বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ বা ১০১টি এজেন্সির সিন্ডিকেট নয়, বরং জাপানের কর্মী নিয়োগ মডেল অনুসরণ করা উচিত। জাপানে ওটিইটি (OTIT) এর অধীনে ৯৫টি বাংলাদেশি এজেন্সি তালিকাভুক্ত হয়ে স্বচ্ছভাবে কাজ করছে।
সানওয়ে ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. খালেদ শুকরান বলেন, বাংলাদেশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নাগরিকদের জোর জবরদস্তি ও মানবপাচারের দিকে ঠেলে দেবে, নাকি স্বস্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। মালয়েশিয়ার আগামীর বাজার এই স্বচ্ছতার ওপরই নির্ভর করছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মার্চ ২০২৬
ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে আধুনিক মালয়েশিয়ার প্রতিটি অবকাঠামোয় মিশে আছে বাংলাদেশি কর্মীদের ঘাম ও মেধা। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে দুই দেশের এই শ্রমনির্ভর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন বারবার হোঁচট খাচ্ছে অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, দুর্নীতি এবং রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেটের কারণে। যার ফলে ২০২৪ সালে এসে আবারও বন্ধ রয়েছে কর্মী নিয়োগ।
উনিশ শতকে ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতা ও ঢাকা অঞ্চল থেকে আখ ও রাবার চাষের জন্য বাঙালিদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পোর্ট ডিকসনের বাঙালি পাড়া আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী। সত্তরের দশকে মালয়েশিয়া যখন কৃষি থেকে শিল্পনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর শুরু করে, তখন থেকেই বাংলাদেশিরা সেখানে নির্মাণ, উৎপাদন ও সেবা খাতে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। বর্তমানে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ৮ম বৃহত্তম বিনিয়োগ অংশীদার।
বিগত দুই দশকে অন্তত চারবার বড় ধরনের সংকটে পড়েছে এই শ্রমবাজার:
সরকারিভাবে মালয়েশিয়া গমনে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা খরচ নির্ধারণ করা হলেও, বাস্তবে কর্মীদের গুনতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা। জাতিসংঘের প্রতিবেদন ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এই ঋণের বোঝা শোধ করতে গিয়ে কর্মীরা যে শ্রম দেয়, তা অনেক ক্ষেত্রে জোর জবরদস্তি শ্রম বা আধুনিক দাসত্ব ও মানবপাচার-এর সংজ্ঞায় পড়ে যাচ্ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মালয়েশিয়ার শ্রম মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বাংলাদেশ সরকার তদন্ত করে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রমাণ পেলেও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর কোনো আইনি পদক্ষেপ দৃশ্যমান নয়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে কেবল সার্ভার লক করার মতো সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সিআইডি ও দুদকের মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন থাকায় মালয়েশিয়া সরকারের কাছে বাজার খোলার বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ১০ বা ১০১টি এজেন্সির সিন্ডিকেট নয়, বরং জাপানের কর্মী নিয়োগ মডেল অনুসরণ করা উচিত। জাপানে ওটিইটি (OTIT) এর অধীনে ৯৫টি বাংলাদেশি এজেন্সি তালিকাভুক্ত হয়ে স্বচ্ছভাবে কাজ করছে।
সানওয়ে ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. খালেদ শুকরান বলেন, বাংলাদেশকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা নাগরিকদের জোর জবরদস্তি ও মানবপাচারের দিকে ঠেলে দেবে, নাকি স্বস্তির কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। মালয়েশিয়ার আগামীর বাজার এই স্বচ্ছতার ওপরই নির্ভর করছে।

আপনার মতামত লিখুন