ঐতিহাসিক এই রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এর আগে গত ২০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেছিলেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে গত বছরের ২১ অক্টোবর থেকে আপিল বিভাগে টানা শুনানি শুরু হয়। রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। এছাড়া বিএনপির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শুনানি করেন। ১০ দিনের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই ঐতিহাসিক রায় দেন।
শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছিলেন, আদালত কোনো সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। বরং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এমন একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চায়, যা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখবে এবং বারবার বিঘ্নিত হবে না।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, গত দেড় দশকে দেশে মানুষ শাসিতের পরিবর্তে শোষিত হয়েছে। গুম, খুন এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সব সিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজপথ থেকেই নির্ধারিত হয়েছে দেশের ভবিষ্যৎ। জনগণের এই ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই।
১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলেও ২০১১ সালে তৎকালীন আপিল বিভাগ এটি বাতিল ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে ব্যবস্থাটি চিরতরে বিলুপ্ত করেছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ চারটি পক্ষ পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন দাখিল করে।
এই রায় প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠিত হলো। এর ফলে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হলো, যা দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মার্চ ২০২৬
ঐতিহাসিক এই রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এর আগে গত ২০ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেছিলেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে গত বছরের ২১ অক্টোবর থেকে আপিল বিভাগে টানা শুনানি শুরু হয়। রিটকারী বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। এছাড়া বিএনপির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান শুনানি করেন। ১০ দিনের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এই ঐতিহাসিক রায় দেন।
শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছিলেন, আদালত কোনো সাময়িক সমাধান দিতে চায় না। বরং নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে এমন একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধান চায়, যা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব রাখবে এবং বারবার বিঘ্নিত হবে না।
শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, গত দেড় দশকে দেশে মানুষ শাসিতের পরিবর্তে শোষিত হয়েছে। গুম, খুন এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সব সিস্টেম ধ্বংস করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজপথ থেকেই নির্ধারিত হয়েছে দেশের ভবিষ্যৎ। জনগণের এই ক্ষমতাকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই।
১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলেও ২০১১ সালে তৎকালীন আপিল বিভাগ এটি বাতিল ঘোষণা করে। এর প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকার পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে ব্যবস্থাটি চিরতরে বিলুপ্ত করেছিল। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ চারটি পক্ষ পৃথকভাবে রিভিউ আবেদন দাখিল করে।
এই রায় প্রকাশের মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা প্রতিষ্ঠিত হলো। এর ফলে পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হওয়ার পথ সুগম হলো, যা দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

আপনার মতামত লিখুন