টানা ১৫ দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় অন্তত ৫০টি হাওরের কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে আকস্মিক জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর এক ফসলি জমির ধান। পানিবন্দি ধানগাছে পচন ধরায় নিরুপায় হয়ে কৃষকেরা সেই আধা-পাকা ধান কেটে গরুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে সারা বছরের একমাত্র খোরাকি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাওরবাসী। স্থানীয় কৃষকদের মতে, অপরিকল্পিত বাঁধ এবং প্রয়োজনীয় স্লুইচগেট (জলকপাট) না থাকায় পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা এই বিপর্যয়কে আরও উসকে দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রামের এক হাজারেরও বেশি কৃষক পরিবার। এছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর অংশের নজরখালি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ৮২টি গ্রামের কৃষকের কপাল পুড়েছে। রামসার সাইটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ না করায় প্রতিবছর কৃষকেরা নিজস্ব খরচে এটি মেরামত করলেও এবার তা করা হয়নি।
বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামের কৃষক মো. মুজিবুর রহমান জানান, তার ১০-১২ কিয়ার জমির মধ্যে প্রায় ৮ কিয়ারই পানির নিচে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ধানের থোড় আসার মুহূর্তে পানি চলে এল। এখন আমাদের পথে বসার দশা। একই হাহাকার টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি জানান, আরও এক সপ্তাহ বৃষ্টি চললে অবশিষ্ট ধান রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সুনামগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাওরে ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে পানি সরে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।
বিষয় : সুনামগঞ্জ দৈনিক নতুন আলো হাওরাঞ্চল কৃষক ধান

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
টানা ১৫ দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় অন্তত ৫০টি হাওরের কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে আকস্মিক জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর এক ফসলি জমির ধান। পানিবন্দি ধানগাছে পচন ধরায় নিরুপায় হয়ে কৃষকেরা সেই আধা-পাকা ধান কেটে গরুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে সারা বছরের একমাত্র খোরাকি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাওরবাসী। স্থানীয় কৃষকদের মতে, অপরিকল্পিত বাঁধ এবং প্রয়োজনীয় স্লুইচগেট (জলকপাট) না থাকায় পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা এই বিপর্যয়কে আরও উসকে দিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রামের এক হাজারেরও বেশি কৃষক পরিবার। এছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর অংশের নজরখালি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ৮২টি গ্রামের কৃষকের কপাল পুড়েছে। রামসার সাইটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ না করায় প্রতিবছর কৃষকেরা নিজস্ব খরচে এটি মেরামত করলেও এবার তা করা হয়নি।
বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামের কৃষক মো. মুজিবুর রহমান জানান, তার ১০-১২ কিয়ার জমির মধ্যে প্রায় ৮ কিয়ারই পানির নিচে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ধানের থোড় আসার মুহূর্তে পানি চলে এল। এখন আমাদের পথে বসার দশা। একই হাহাকার টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি জানান, আরও এক সপ্তাহ বৃষ্টি চললে অবশিষ্ট ধান রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সুনামগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাওরে ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে পানি সরে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।

আপনার মতামত লিখুন