মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও কল্যাণসভা অনুষ্ঠিত

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি: সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

মুকসুদপুরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পদ্মায় দ্বিতীয় দফায় ভয়াবহ ভাঙন: বিলীন ৫০০ বিঘা আবাদি জমি

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

গোপালগঞ্জে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে মুকসুদপুরে মাঠ পর্যায়ের সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ ও ল্যাপটপ প্রদান

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মুকসুদপুরে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মতবিনিময় সভা

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

মেহেরপুরের গাংনীতে ঘন কুয়াশায় নামল শীতের আমেজ, সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন

সুনামগঞ্জে অকাল বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে ডুবছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন: তলিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক হাওরের কাঁচা ধান

সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে ডুবছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন: তলিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক হাওরের কাঁচা ধান
বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া ধানগাছ গরুকে খাওয়ানোর জন্য কেটে নিচ্ছেন কৃষক। গতকাল সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের টাঙ্গুয়ার হাওরে। ছবি : সংগৃহীত

টানা ১৫ দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় অন্তত ৫০টি হাওরের কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে আকস্মিক জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর এক ফসলি জমির ধান। পানিবন্দি ধানগাছে পচন ধরায় নিরুপায় হয়ে কৃষকেরা সেই আধা-পাকা ধান কেটে গরুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে সারা বছরের একমাত্র খোরাকি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাওরবাসী। স্থানীয় কৃষকদের মতে, অপরিকল্পিত বাঁধ এবং প্রয়োজনীয় স্লুইচগেট (জলকপাট) না থাকায় পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা এই বিপর্যয়কে আরও উসকে দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রামের এক হাজারেরও বেশি কৃষক পরিবার। এছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর অংশের নজরখালি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ৮২টি গ্রামের কৃষকের কপাল পুড়েছে। রামসার সাইটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ না করায় প্রতিবছর কৃষকেরা নিজস্ব খরচে এটি মেরামত করলেও এবার তা করা হয়নি।


বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামের কৃষক মো. মুজিবুর রহমান জানান, তার ১০-১২ কিয়ার জমির মধ্যে প্রায় ৮ কিয়ারই পানির নিচে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ধানের থোড় আসার মুহূর্তে পানি চলে এল। এখন আমাদের পথে বসার দশা। একই হাহাকার টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি জানান, আরও এক সপ্তাহ বৃষ্টি চললে অবশিষ্ট ধান রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সুনামগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাওরে ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে পানি সরে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।

বিষয় : সুনামগঞ্জ দৈনিক নতুন আলো হাওরাঞ্চল কৃষক ধান

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সুনামগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে ডুবছে হাজারো কৃষকের স্বপ্ন: তলিয়ে গেছে অর্ধশতাধিক হাওরের কাঁচা ধান

প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

টানা ১৫ দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জের ছোট-বড় অন্তত ৫০টি হাওরের কাঁচা ধান তলিয়ে গেছে। বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে আকস্মিক জলাবদ্ধতায় নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার হেক্টর এক ফসলি জমির ধান। পানিবন্দি ধানগাছে পচন ধরায় নিরুপায় হয়ে কৃষকেরা সেই আধা-পাকা ধান কেটে গরুকে খাওয়াতে বাধ্য হচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে সারা বছরের একমাত্র খোরাকি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন হাওরবাসী। স্থানীয় কৃষকদের মতে, অপরিকল্পিত বাঁধ এবং প্রয়োজনীয় স্লুইচগেট (জলকপাট) না থাকায় পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা এই বিপর্যয়কে আরও উসকে দিয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ও দক্ষিণ ইউনিয়নের অন্তত ৫০টি গ্রামের এক হাজারেরও বেশি কৃষক পরিবার। এছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওরের তাহিরপুর অংশের নজরখালি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ৮২টি গ্রামের কৃষকের কপাল পুড়েছে। রামসার সাইটের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই বাঁধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ না করায় প্রতিবছর কৃষকেরা নিজস্ব খরচে এটি মেরামত করলেও এবার তা করা হয়নি।


বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামের কৃষক মো. মুজিবুর রহমান জানান, তার ১০-১২ কিয়ার জমির মধ্যে প্রায় ৮ কিয়ারই পানির নিচে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ধানের থোড় আসার মুহূর্তে পানি চলে এল। এখন আমাদের পথে বসার দশা। একই হাহাকার টাঙ্গুয়ার হাওর গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমানের কণ্ঠেও। তিনি জানান, আরও এক সপ্তাহ বৃষ্টি চললে অবশিষ্ট ধান রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সুনামগঞ্জ কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাওরে ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি পানিতে আক্রান্ত হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, সপ্তাহখানেকের মধ্যে পানি সরে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো