মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো
আপডেট : রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬

সাতটি ছড়া আর রঘুনন্দন পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে রোমাঞ্চ

সবুজের মায়াজালে ঘেরা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান : ছুটির দিনে ঘুরে আসুন অরণ্যের গভীরে

সবুজের মায়াজালে ঘেরা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান : ছুটির দিনে ঘুরে আসুন অরণ্যের গভীরে
ছবি : সংগৃহীত

প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। যারা ইট-পাথরের দেয়াল থেকে মুক্তি পেতে চান, তাদের জন্য ২৪৩ হেক্টর এলাকার এই ঘন অরণ্য হতে পারে সেরা পছন্দ। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যানটি বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র।

নামকরণের সার্থকতা ও ইতিহাস

একসময় এই বনের নাম ছিল রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট । উদ্যানের ভেতরে ছোট-বড় সাতটি পাহাড়ি ছড়া প্রবাহিত হওয়ার কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি। উদ্যানের চারপাশে ছড়িয়ে আছে ৯টি চা বাগান, যার মধ্যে পশ্চিমে সাতছড়ি ও পূর্বে চাকলাপুঞ্জি চা বাগান পর্যটকদের বাড়তি মুগ্ধতা যোগায়।

রোমাঞ্চকর তিনটি ট্রেইল

পর্যটকদের বনের গভীরে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে নিসর্গ’ প্রকল্পের আওতায় তিনটি আলাদা ট্রেইল বা হাঁটার পথ তৈরি করা হয়েছে :

  • আধা ঘণ্টার ট্রেইল: ১ কিমি দীর্ঘ এই ট্রেইল দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় বনের ভেতরের একমাত্র গ্রাম ‘টিপরা পাড়া’-তে।
  • এক ঘণ্টার ট্রেইল: জীববৈচিত্র্য দেখতে চাইলে এই পথটি দারুণ। এখানে নানা প্রজাতির গাছ ও পাখির মেলা দেখা যায়।
  • তিন ঘণ্টার ট্রেইল: এটি ৬ কিমি দীর্ঘ এবং রোমাঞ্চপ্রিয়দের জন্য সেরা। এই পথে গেলে দেখা মিলবে বিশাল আগর বাগান। বিশেষ করে পাখি প্রেমীদের জন্য এটি স্বর্গের মতো।

জীববৈচিত্র্যের মেলা

সাতছড়ি উদ্যানে দেখা মেলে গর্জন, কড়ই, চাঁপালিশ ও শিমুলের মতো বিশালাকার সব বৃক্ষের। বন্যপ্রাণের মধ্যে এখানে রয়েছে বিরল প্রজাতির উল্লুক, লজ্জাবতী বানর, মায়াহরিণ, গন্ধগোকুল ও মেছোবিড়াল। এছাড়া বিচিত্র সব সাপের দেখা মেলাও এখানে স্বাভাবিক।


কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে সড়কপথে সাতছড়ির দূরত্ব প্রায় ১৩০-১৭৯ কিলোমিটার।

  • বাসে: ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে হবিগঞ্জগামী বাসে উঠতে হবে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মাধবপুর সায়হাম চত্বর থেকে ডান দিকে মোড় নিয়ে চা বাগানের আঁকাবাঁকা পথ ধরে মাত্র কয়েক কিমি এগুলেই উদ্যানের দেখা মিলবে।
  • ট্রেনে: ঢাকা থেকে ট্রেনে শায়েস্তাগঞ্জ নেমে বাস বা সিএনজি যোগে মাধবপুর অথবা চুনারুঘাট হয়ে উদ্যানে পৌঁছানো যায়।                                                                                                                                                                                    https://www.teachers.gov.bd/blog/details/807826

বনের ভেতরে সহায়তার জন্য তথ্য কেন্দ্র থেকে গাইড সংগ্রহের সুবিধাও রয়েছে। তবে মনে রাখবেন, বন আমাদের সম্পদ। ভ্রমণে গিয়ে বনের শান্তি বিঘ্নিত হয় এমন কিছু করবেন না এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলবেন না।

Image

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক নতুন আলো

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬


সবুজের মায়াজালে ঘেরা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান : ছুটির দিনে ঘুরে আসুন অরণ্যের গভীরে

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার রঘুনন্দন পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান। যারা ইট-পাথরের দেয়াল থেকে মুক্তি পেতে চান, তাদের জন্য ২৪৩ হেক্টর এলাকার এই ঘন অরণ্য হতে পারে সেরা পছন্দ। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই উদ্যানটি বর্তমানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র।

নামকরণের সার্থকতা ও ইতিহাস

একসময় এই বনের নাম ছিল রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট । উদ্যানের ভেতরে ছোট-বড় সাতটি পাহাড়ি ছড়া প্রবাহিত হওয়ার কারণে এর নামকরণ করা হয়েছে সাতছড়ি। উদ্যানের চারপাশে ছড়িয়ে আছে ৯টি চা বাগান, যার মধ্যে পশ্চিমে সাতছড়ি ও পূর্বে চাকলাপুঞ্জি চা বাগান পর্যটকদের বাড়তি মুগ্ধতা যোগায়।

রোমাঞ্চকর তিনটি ট্রেইল

পর্যটকদের বনের গভীরে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে নিসর্গ’ প্রকল্পের আওতায় তিনটি আলাদা ট্রেইল বা হাঁটার পথ তৈরি করা হয়েছে :

  • আধা ঘণ্টার ট্রেইল: ১ কিমি দীর্ঘ এই ট্রেইল দিয়ে হেঁটে যাওয়া যায় বনের ভেতরের একমাত্র গ্রাম ‘টিপরা পাড়া’-তে।
  • এক ঘণ্টার ট্রেইল: জীববৈচিত্র্য দেখতে চাইলে এই পথটি দারুণ। এখানে নানা প্রজাতির গাছ ও পাখির মেলা দেখা যায়।
  • তিন ঘণ্টার ট্রেইল: এটি ৬ কিমি দীর্ঘ এবং রোমাঞ্চপ্রিয়দের জন্য সেরা। এই পথে গেলে দেখা মিলবে বিশাল আগর বাগান। বিশেষ করে পাখি প্রেমীদের জন্য এটি স্বর্গের মতো।

জীববৈচিত্র্যের মেলা

সাতছড়ি উদ্যানে দেখা মেলে গর্জন, কড়ই, চাঁপালিশ ও শিমুলের মতো বিশালাকার সব বৃক্ষের। বন্যপ্রাণের মধ্যে এখানে রয়েছে বিরল প্রজাতির উল্লুক, লজ্জাবতী বানর, মায়াহরিণ, গন্ধগোকুল ও মেছোবিড়াল। এছাড়া বিচিত্র সব সাপের দেখা মেলাও এখানে স্বাভাবিক।


কীভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে সড়কপথে সাতছড়ির দূরত্ব প্রায় ১৩০-১৭৯ কিলোমিটার।

  • বাসে: ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে হবিগঞ্জগামী বাসে উঠতে হবে। সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের মাধবপুর সায়হাম চত্বর থেকে ডান দিকে মোড় নিয়ে চা বাগানের আঁকাবাঁকা পথ ধরে মাত্র কয়েক কিমি এগুলেই উদ্যানের দেখা মিলবে।
  • ট্রেনে: ঢাকা থেকে ট্রেনে শায়েস্তাগঞ্জ নেমে বাস বা সিএনজি যোগে মাধবপুর অথবা চুনারুঘাট হয়ে উদ্যানে পৌঁছানো যায়।                                                                                                                                                                                    https://www.teachers.gov.bd/blog/details/807826

বনের ভেতরে সহায়তার জন্য তথ্য কেন্দ্র থেকে গাইড সংগ্রহের সুবিধাও রয়েছে। তবে মনে রাখবেন, বন আমাদের সম্পদ। ভ্রমণে গিয়ে বনের শান্তি বিঘ্নিত হয় এমন কিছু করবেন না এবং প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলবেন না।


দৈনিক নতুন আলো

প্রকাশক : সাদিয়া নূর পূর্ণ
সম্পাদক : নাহিদ হোসেন
নির্বাহী সম্পাদক : মোঃ ছিরু মিয়া

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত দৈনিক নতুন আলো