২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় এক জাঁকজমকপূর্ণ সামিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছিল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক। পাহাড়, চরাঞ্চল কিংবা গভীর সমুদ্রে উচ্চগতির ইন্টারনেটের স্বপ্ন দেখিয়েছিল এই প্রযুক্তি। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এর বিস্তার নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংকের প্রসারে প্রধান বাধা এর উচ্চমূল্য। যেখানে বাংলাদেশে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকায় আনলিমিটেড ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে স্টারলিংকের কিট এবং মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি সাধারণ মানুষের জন্য এখনো বড় বোঝা।
সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার শাহ আহমেদুর কবির বলেন, আমরা স্টারলিংককে ফাইবারের বিকল্প ভাবছি না; এটি বরং একটি পরিপূরক প্রযুক্তি। দুর্গম এলাকায় যেখানে ফাইবার পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেখানেই এর প্রকৃত প্রয়োজন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও সাশ্রয়ী প্যাকেজ আনা সম্ভব হতে পারে।
সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে সাড়া কম থাকলেও করপোরেট ও লজিস্টিক খাতে স্টারলিংকের ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) সিনিয়র ম্যানেজার আসাদ বিন ইউসুফ জানান, রেলওয়ে এবং সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের পাইলট প্রকল্পে স্টারলিংক দারুণ সফল হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
মোবাইল ফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সেবার কাঠামো ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ কোনো সার্ভিস সেন্টার না থাকা এবং ডাটা ক্যারি-ফরোয়ার্ড সুবিধা না থাকা বড় ঘাটতি। কিট বা সেবার মূল্য এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্ধারণ করে দেয়নি।
রাজশাহীর ফ্রিল্যান্সার তানভীর হোসেন মনে করেন, গতি ও স্থায়িত্বের গ্যারান্টি থাকলে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে, তবে অবশ্যই দাম কমাতে হবে। অন্যদিকে, বরিশালের কলেজ শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম গ্রামীণ জনপদে ইন্টারনেটের মান উন্নত করতে এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আমাজনের প্রজেক্ট কুইপারের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রবেশ করলে প্রতিযোগিতা বাড়বে, যার ফলে দাম কমতে পারে। আপাতত বাংলাদেশে স্টারলিংক একটি বিপুল সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে থাকলেও এর বিস্তার এখনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অবকাঠামোগত বাস্তবতার এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬
২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় এক জাঁকজমকপূর্ণ সামিটের মাধ্যমে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছিল ইলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক। পাহাড়, চরাঞ্চল কিংবা গভীর সমুদ্রে উচ্চগতির ইন্টারনেটের স্বপ্ন দেখিয়েছিল এই প্রযুক্তি। তবে এক বছর পেরিয়ে গেলেও সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে এর বিস্তার নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্টারলিংকের প্রসারে প্রধান বাধা এর উচ্চমূল্য। যেখানে বাংলাদেশে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকায় আনলিমিটেড ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে স্টারলিংকের কিট এবং মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি সাধারণ মানুষের জন্য এখনো বড় বোঝা।
সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার শাহ আহমেদুর কবির বলেন, আমরা স্টারলিংককে ফাইবারের বিকল্প ভাবছি না; এটি বরং একটি পরিপূরক প্রযুক্তি। দুর্গম এলাকায় যেখানে ফাইবার পৌঁছানো সম্ভব নয়, সেখানেই এর প্রকৃত প্রয়োজন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে আরও সাশ্রয়ী প্যাকেজ আনা সম্ভব হতে পারে।
সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে সাড়া কম থাকলেও করপোরেট ও লজিস্টিক খাতে স্টারলিংকের ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিএল) সিনিয়র ম্যানেজার আসাদ বিন ইউসুফ জানান, রেলওয়ে এবং সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের পাইলট প্রকল্পে স্টারলিংক দারুণ সফল হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।
মোবাইল ফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ সেবার কাঠামো ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ কোনো সার্ভিস সেন্টার না থাকা এবং ডাটা ক্যারি-ফরোয়ার্ড সুবিধা না থাকা বড় ঘাটতি। কিট বা সেবার মূল্য এখনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্ধারণ করে দেয়নি।
রাজশাহীর ফ্রিল্যান্সার তানভীর হোসেন মনে করেন, গতি ও স্থায়িত্বের গ্যারান্টি থাকলে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে, তবে অবশ্যই দাম কমাতে হবে। অন্যদিকে, বরিশালের কলেজ শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম গ্রামীণ জনপদে ইন্টারনেটের মান উন্নত করতে এই প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে আমাজনের প্রজেক্ট কুইপারের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান বাজারে প্রবেশ করলে প্রতিযোগিতা বাড়বে, যার ফলে দাম কমতে পারে। আপাতত বাংলাদেশে স্টারলিংক একটি বিপুল সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি হিসেবে থাকলেও এর বিস্তার এখনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অবকাঠামোগত বাস্তবতার এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

আপনার মতামত লিখুন