ভারতে অবৈধ পথে প্রবেশকারীদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো মামলা দেওয়া হবে না বলে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণার আগেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ সাতক্ষীরা ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত অঞ্চলে হাজির হচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ী হয়ে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এই সীমান্ত এলাকায় মানুষের ভিড় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার অধীনে হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকেই যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার আদি বাসিন্দা দাবি করা বহু নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হাসানুর গাজি জানান, শুরুর দিকে দৈনিক ১০-১২ জন করে আসলেও, গত কয়েকদিনে এই সংখ্যা কয়েকশতে গিয়ে ঠেকেছে। সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা স্বীকার করছেন যে, তারা চোরাই পথে ভারতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাস ও কাজকর্ম করছিলেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরে রাখা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের আদি নিবাসের ঠিকানা, পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করছেন এবং ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যাচাই-বাছাই শেষে হাকিমপুর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে আমোদিয়া নামক একটি হাঁটা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। অনেক সময় প্রক্রিয়া শেষ হতে রাত হয়ে যাওয়ায় তাদের স্বরূপনগর থানা এলাকায় গড়ে তোলা হোল্ডিং সেন্টার বা আটক শিবিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা শাওজি। তিনি জানান, বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাওয়া অনেকের কাছেই ভারতের আধার কার্ড, প্যান কার্ড এমনকি সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রও রয়েছে। খুলনার বাসিন্দা বাচ্চু মুন্সি নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। তবে বাধ সেধেছে ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। এই সংশোধিত তালিকা থেকে তার পরিবারের নাম বাদ পড়ে গেছে।
সীমান্তে অপেক্ষমাণ নাজমা ও রাইসা পারভিনের মতো অনেকেই জানান, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পর থেকেই পুলিশি কড়াকড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাড়িওয়ালারাও আর তাদের থাকতে দিতে চাইছেন না। ফলে বাধ্য হয়েই তারা সপরিবারে নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছেন। শাহিন আলম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, তিনি আর কখনো অবৈধ পথে ভারতে ফিরবেন না, ভবিষ্যতে এলে বৈধভাবে পাসপোর্ট নিয়েই বেড়াতে আসবেন।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
ভারতে অবৈধ পথে প্রবেশকারীদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো মামলা দেওয়া হবে না বলে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণার আগেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ সাতক্ষীরা ও উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত অঞ্চলে হাজির হচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ী হয়ে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই এই সীমান্ত এলাকায় মানুষের ভিড় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগর থানার অধীনে হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকেই যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার আদি বাসিন্দা দাবি করা বহু নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে ফেরার জন্য অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী হাসানুর গাজি জানান, শুরুর দিকে দৈনিক ১০-১২ জন করে আসলেও, গত কয়েকদিনে এই সংখ্যা কয়েকশতে গিয়ে ঠেকেছে। সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা স্বীকার করছেন যে, তারা চোরাই পথে ভারতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাস ও কাজকর্ম করছিলেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের প্রথমে একটি পরিত্যক্ত ঘরে রাখা হচ্ছে। সেখানে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাদের আদি নিবাসের ঠিকানা, পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করছেন এবং ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, যাচাই-বাছাই শেষে হাকিমপুর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে আমোদিয়া নামক একটি হাঁটা সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। অনেক সময় প্রক্রিয়া শেষ হতে রাত হয়ে যাওয়ায় তাদের স্বরূপনগর থানা এলাকায় গড়ে তোলা হোল্ডিং সেন্টার বা আটক শিবিরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তফা শাওজি। তিনি জানান, বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাওয়া অনেকের কাছেই ভারতের আধার কার্ড, প্যান কার্ড এমনকি সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্রও রয়েছে। খুলনার বাসিন্দা বাচ্চু মুন্সি নামের এক ব্যক্তি জানান, তিনি দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। তবে বাধ সেধেছে ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। এই সংশোধিত তালিকা থেকে তার পরিবারের নাম বাদ পড়ে গেছে।
সীমান্তে অপেক্ষমাণ নাজমা ও রাইসা পারভিনের মতো অনেকেই জানান, পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার আসার পর থেকেই পুলিশি কড়াকড়ি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাড়িওয়ালারাও আর তাদের থাকতে দিতে চাইছেন না। ফলে বাধ্য হয়েই তারা সপরিবারে নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছেন। শাহিন আলম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন, তিনি আর কখনো অবৈধ পথে ভারতে ফিরবেন না, ভবিষ্যতে এলে বৈধভাবে পাসপোর্ট নিয়েই বেড়াতে আসবেন।

আপনার মতামত লিখুন