— আচ্ছা, তুমি আমাকে এত ভালোবাসো কেন?
মেয়েটি প্রশ্নটা করেছিল এক বর্ষার সন্ধ্যায়।
জানালার কাঁচ বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা নেমে আসছিল ধীরে ধীরে।
দূরে কোথাও মাগরিবের আজান ভেসে আসছিল,
আর ছোট্ট টং দোকানের বেঞ্চে বসে আছে ছেলেটি
চায়ের কাপে ঠোঁট ছুঁইয়ে শুধু হাসছিল।
— হাসছো কেন?
উত্তর দাও।
মেয়েটি একটু অভিমান নিয়েই বলল।
ছেলেটি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীর স্বরে বলল—
— কারণটা বলতে পারি না।
— কেন?
— কারণ ভালোবাসার কোনো কারণ থাকলে,
একদিন সেই কারণ ফুরিয়ে যায়।
কিন্তু আমি তো তোমাকে কোনো কারণ ছাড়াই ভালোবেসে ফেলেছি।
মেয়েটি চুপ করে থাকলো।
বৃষ্টিটা যেন আরও একটু জোরে নামতে লাগল।
ছেলেটি আবার বলল—
— জানো,
আমি তোমার কাছে খুব বড় কিছু চাই না।
কোনো রাজপ্রাসাদ না,
কোনো বিলাসী জীবন না,
কোনো অসম্ভব স্বপ্নও না।
আমি শুধু চাই,
একদিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙলে
তুমি আমার দিকে ফিরে বলবে—
আরেকটু ঘুমাও,
এত তাড়াতাড়ি উঠতে হবে না।
আমি চাই,
অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরলে
তুমি জিজ্ঞেস করবে—
আজ সারাদিন খুব কষ্ট হয়েছে?
আমি চাই,
আমার এলোমেলো গল্পগুলো শুনতে শুনতে
তুমি বিরক্ত না হয়ে
আরও একটু কাছে সরে আসবে।
মেয়েটি তখন মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিল।
— শুধু এতটুকুই?
ছেলেটা মাথা নেড়ে বলল—
— না, আরও আছে।
আমি চাই,
বৃষ্টির দিনে একটা ছাতা।
তবে ছাতার চেয়ে বেশি চাই
তার নিচে তোমাকে।
আমি চাই,
লাল চায়ের কাপ।
তবে চায়ের চেয়ে বেশি চাই
কাপটা হাতে নিয়ে তোমার সাথে গল্প করতে।
আমি চাই,
একটা ছোট্ট ঘর।
যেখানে সন্ধ্যা হলে
তুমি জানালার পাশে দাঁড়াবে,
আর আমি চুপচাপ তোমাকে দেখব।
মেয়েটি হেসে ফেলল।
— তুমি না,
ভীষণ পাগল।
— হ্যাঁ,
তোমার জন্য।
বাতাসে তখন কদম ফুলের গন্ধ।
ছেলেটি মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল—
— জানো,
তোমাকে দেখার পর থেকে
আমি আর বড় কোনো স্বপ্ন দেখি না।
কারণ আমার সব স্বপ্ন
তোমার মাঝেই এসে থেমে গেছে।
তোমার হাসিতে একটা সংসার দেখি,
তোমার চোখে দেখি শান্তির ঠিকানা,
তোমার কণ্ঠে শুনি
আমার ভবিষ্যতের শব্দ।
তুমি যখন পাশে থাকো,
তখন পৃথিবীটাকে খুব সহজ মনে হয়।
আর যখন থাকো না,
তখন হাজার মানুষের ভিড়েও
একটা শূন্যতা আমাকে ঘিরে রাখে।
মেয়েটি এবার ধীরে ধীরে ছেলেটির হাতটা ধরল।
— যদি কোনোদিন আমি হারিয়ে যাই?
ছেলেটি মৃদু হেসে বলল—
— তাহলে আমি বৃষ্টির কাছে তোমাকে খুঁজব।
— আর যদি বৃষ্টি না আসে?
— তাহলে সন্ধ্যার আকাশে খুঁজব।
— যদি সেখানেও না থাকি?
ছেলেটি এবার মেয়েটির হাতটা আরও শক্ত করে ধরল।
— তাহলে চোখ বন্ধ করব।
কারণ তুমি কোথাও না কোথাও নও,
তুমি তো আমার ভেতরে আছো।
আমার প্রতিটি প্রার্থনায়,
প্রতিটি অপেক্ষায়,
প্রতিটি স্বপ্নে।
মেয়েটির চোখ ভিজে উঠল।
সে আস্তে করে মাথাটা ছেলেটির কাঁধে রেখে বলল—
— আমিও খুব বেশি কিছু চাই না।
তোমার নামের পাশে
নিজের নামটা চাই।
তোমার সুখের মধ্যে
নিজের ঠিকানাটা চাই।
আর জীবন যখন শেষ বিকেলের দিকে হাঁটবে,
তখনও যেন তোমার হাতটা
আমার হাতেই থাকে।
বৃষ্টিটা তখনও পড়ছিল।
চায়ের কাপের ধোঁয়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিল বাতাসে।
কিন্তু সেই সন্ধ্যায়,
দুটি মানুষের ভালোবাসা
আরও গভীর হয়ে উঠছিল—
ঠিক যেমন নদী
ধীরে ধীরে,
নিঃশব্দে,
তার সবচেয়ে প্রিয় সাগরের কাছে পৌঁছে যায়।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুন ২০২৬
— আচ্ছা, তুমি আমাকে এত ভালোবাসো কেন?
মেয়েটি প্রশ্নটা করেছিল এক বর্ষার সন্ধ্যায়।
জানালার কাঁচ বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা নেমে আসছিল ধীরে ধীরে।
দূরে কোথাও মাগরিবের আজান ভেসে আসছিল,
আর ছোট্ট টং দোকানের বেঞ্চে বসে আছে ছেলেটি
চায়ের কাপে ঠোঁট ছুঁইয়ে শুধু হাসছিল।
— হাসছো কেন?
উত্তর দাও।
মেয়েটি একটু অভিমান নিয়েই বলল।
ছেলেটি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীর স্বরে বলল—
— কারণটা বলতে পারি না।
— কেন?
— কারণ ভালোবাসার কোনো কারণ থাকলে,
একদিন সেই কারণ ফুরিয়ে যায়।
কিন্তু আমি তো তোমাকে কোনো কারণ ছাড়াই ভালোবেসে ফেলেছি।
মেয়েটি চুপ করে থাকলো।
বৃষ্টিটা যেন আরও একটু জোরে নামতে লাগল।
ছেলেটি আবার বলল—
— জানো,
আমি তোমার কাছে খুব বড় কিছু চাই না।
কোনো রাজপ্রাসাদ না,
কোনো বিলাসী জীবন না,
কোনো অসম্ভব স্বপ্নও না।
আমি শুধু চাই,
একদিন খুব ভোরে ঘুম ভাঙলে
তুমি আমার দিকে ফিরে বলবে—
আরেকটু ঘুমাও,
এত তাড়াতাড়ি উঠতে হবে না।
আমি চাই,
অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরলে
তুমি জিজ্ঞেস করবে—
আজ সারাদিন খুব কষ্ট হয়েছে?
আমি চাই,
আমার এলোমেলো গল্পগুলো শুনতে শুনতে
তুমি বিরক্ত না হয়ে
আরও একটু কাছে সরে আসবে।
মেয়েটি তখন মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে ছিল।
— শুধু এতটুকুই?
ছেলেটা মাথা নেড়ে বলল—
— না, আরও আছে।
আমি চাই,
বৃষ্টির দিনে একটা ছাতা।
তবে ছাতার চেয়ে বেশি চাই
তার নিচে তোমাকে।
আমি চাই,
লাল চায়ের কাপ।
তবে চায়ের চেয়ে বেশি চাই
কাপটা হাতে নিয়ে তোমার সাথে গল্প করতে।
আমি চাই,
একটা ছোট্ট ঘর।
যেখানে সন্ধ্যা হলে
তুমি জানালার পাশে দাঁড়াবে,
আর আমি চুপচাপ তোমাকে দেখব।
মেয়েটি হেসে ফেলল।
— তুমি না,
ভীষণ পাগল।
— হ্যাঁ,
তোমার জন্য।
বাতাসে তখন কদম ফুলের গন্ধ।
ছেলেটি মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে বলল—
— জানো,
তোমাকে দেখার পর থেকে
আমি আর বড় কোনো স্বপ্ন দেখি না।
কারণ আমার সব স্বপ্ন
তোমার মাঝেই এসে থেমে গেছে।
তোমার হাসিতে একটা সংসার দেখি,
তোমার চোখে দেখি শান্তির ঠিকানা,
তোমার কণ্ঠে শুনি
আমার ভবিষ্যতের শব্দ।
তুমি যখন পাশে থাকো,
তখন পৃথিবীটাকে খুব সহজ মনে হয়।
আর যখন থাকো না,
তখন হাজার মানুষের ভিড়েও
একটা শূন্যতা আমাকে ঘিরে রাখে।
মেয়েটি এবার ধীরে ধীরে ছেলেটির হাতটা ধরল।
— যদি কোনোদিন আমি হারিয়ে যাই?
ছেলেটি মৃদু হেসে বলল—
— তাহলে আমি বৃষ্টির কাছে তোমাকে খুঁজব।
— আর যদি বৃষ্টি না আসে?
— তাহলে সন্ধ্যার আকাশে খুঁজব।
— যদি সেখানেও না থাকি?
ছেলেটি এবার মেয়েটির হাতটা আরও শক্ত করে ধরল।
— তাহলে চোখ বন্ধ করব।
কারণ তুমি কোথাও না কোথাও নও,
তুমি তো আমার ভেতরে আছো।
আমার প্রতিটি প্রার্থনায়,
প্রতিটি অপেক্ষায়,
প্রতিটি স্বপ্নে।
মেয়েটির চোখ ভিজে উঠল।
সে আস্তে করে মাথাটা ছেলেটির কাঁধে রেখে বলল—
— আমিও খুব বেশি কিছু চাই না।
তোমার নামের পাশে
নিজের নামটা চাই।
তোমার সুখের মধ্যে
নিজের ঠিকানাটা চাই।
আর জীবন যখন শেষ বিকেলের দিকে হাঁটবে,
তখনও যেন তোমার হাতটা
আমার হাতেই থাকে।
বৃষ্টিটা তখনও পড়ছিল।
চায়ের কাপের ধোঁয়া ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিল বাতাসে।
কিন্তু সেই সন্ধ্যায়,
দুটি মানুষের ভালোবাসা
আরও গভীর হয়ে উঠছিল—
ঠিক যেমন নদী
ধীরে ধীরে,
নিঃশব্দে,
তার সবচেয়ে প্রিয় সাগরের কাছে পৌঁছে যায়।

আপনার মতামত লিখুন