ইউরোপের দল হলেও বিশ্ব ফুটবলে সান মারিনোর অবস্থান একেবারে তলানিতে। তবে সান মারিনোর বিপক্ষে আজ রাত ১১টায় শুরু হতে যাওয়া প্রীতি ম্যাচটি বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এবং এক ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপিয়ান কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে এর আগে কখনো খেলার সুযোগ পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ঐতিহাসিক এই ম্যাচটি সান মারিনো স্টেডিয়াম (স্টাডিও অলিম্পিকো দি সেরাভালে) থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে স্পোর্টস চ্যানেল টি স্পোর্টস।
অচেনা কন্ডিশন ও নতুন প্রতিপক্ষ হলেও আন্তর্জাতিক এই প্রীতি ম্যাচে জয় পাওয়া নিয়ে দারুণ আশাবাদী বাংলাদেশ দল। ম্যাচের আগের দিন গোলরক্ষক সুজন হোসেন প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ভালো খেলেই আমরা জিতব ইনশা আল্লাহ। একই সুর শোনা গেল দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, উপভোগ্য একটা ম্যাচ হবে, আর আশা করি আমরা ভালো কিছু করে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারব।
ইতালির পেটের মধ্যে থাকা পুঁচকে দেশ সান মারিনোর ফিফা র্যাঙ্কিং বর্তমানে ২১১তম, যা সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবার নিচে। অন্যদিকে বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে ৩০ ধাপ এগিয়ে ১৮১ নম্বরে অবস্থান করছে। তবে র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধানকে বড় করে দেখছেন না ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। তাঁর মতে, ইউরোপের দল হওয়ায় ওদের সব সময় বড় বড় দলের সঙ্গে খেলতে হয়, সে কারণেই হয়তো ওদের র্যাঙ্কিং তলানিতে। তবে খাতা-কলমের হিসাব নয়, দেখতে হবে ফিজিক্যালি মাঠে ওরা কেমন করে। দলের সহকারী কোচ হাসান আল মামুনও একই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, এখানে র্যাঙ্কিং কোনো ব্যাপার নয়। দিন শেষে যারা ভালো খেলবে এবং পরিকল্পনাকে মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারবে, জিতবে তারাই।
ম্যাচটি সান মারিনোতে হলেও বাংলাদেশ দল সেখানে এক টুকরো বাংলাদেশকেই পাশে পাচ্ছে। ৫ থেকে ৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামের সব টিকিট ইতিমধ্যেই সোল্ড আউট বা শেষ হয়ে গেছে। জানা গেছে, মোট টিকিটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কিনেছেন ইতালিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। প্রবাসী দর্শকদের এই উপস্থিতি মাঠে বড় সহায়তক শক্তি হবে উল্লেখ করে গোলরক্ষক সুজন হোসেন বলেন, সমর্থকেরা যত বেশি সমর্থন দেয় ভালো খেলার জন্য আমরা তত বেশি উৎসাহিত হই। সহকারী কোচ মামুনও যোগ করেন, মাঠে অনেক সমর্থক থাকবে আমাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য। কাজেই সন্দেহ নেই, উজ্জীবিত হয়েই খেলবে আমাদের খেলোয়াড়েরা।
বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমরা স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে খেলে অভ্যস্ত। যদিও হামজা চৌধুরী গত মঙ্গলবার কিছুটা বিলম্বে দলে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁর যোগ দেওয়ার পর দল মাত্র দুটি অনুশীলন সেশন করতে পেরেছে। তবে সফরকারী দলের টিম ম্যানেজমেন্ট একে কোনো সমস্যা মনে করছে না।
অন্যদিকে, নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলির অধীনে এটাই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের প্রথম ম্যাচ। দায়িত্ব নেওয়ার পর দল এবং খেলোয়াড়দের শক্তি-দুর্বলতা পরখ করার খুব একটা সময় তিনি পাননি। তবে এই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সহকারী কোচ হাসান আল মামুন বলেন, টমাসের অধীনে আমরা ঢাকায় থাকতেই অনুশীলন শুরু করেছি এবং অনেকগুলো সেশন হয়ে গেছে। তিনি সিম্পল ফুটবল এবং বল পজেশন রাখতে পছন্দ করেন, পাশাপাশি নিখুঁত ও একসঙ্গে প্রেসিংয়ের ওপর জোর দেন। খেলোয়াড়রা তাঁর এই গেম প্ল্যানের সাথে বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে।
এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, ইউরোপের মাটিতে লাল-সবুজের এই ঐতিহাসিক যাত্রা শেষ পর্যন্ত জয়ে রূপ নিয়ে আরেকটি নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারে কি না!
বিষয় : খেলা বাংলাদেশ ফুটবল বাফুফে ফুটবল

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুন ২০২৬
ইউরোপের দল হলেও বিশ্ব ফুটবলে সান মারিনোর অবস্থান একেবারে তলানিতে। তবে সান মারিনোর বিপক্ষে আজ রাত ১১টায় শুরু হতে যাওয়া প্রীতি ম্যাচটি বাংলাদেশ ফুটবল দলের জন্য সম্পূর্ণ নতুন এবং এক ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। ইউরোপের মাটিতে ইউরোপিয়ান কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে এর আগে কখনো খেলার সুযোগ পায়নি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ঐতিহাসিক এই ম্যাচটি সান মারিনো স্টেডিয়াম (স্টাডিও অলিম্পিকো দি সেরাভালে) থেকে সরাসরি সম্প্রচার করবে স্পোর্টস চ্যানেল টি স্পোর্টস।
অচেনা কন্ডিশন ও নতুন প্রতিপক্ষ হলেও আন্তর্জাতিক এই প্রীতি ম্যাচে জয় পাওয়া নিয়ে দারুণ আশাবাদী বাংলাদেশ দল। ম্যাচের আগের দিন গোলরক্ষক সুজন হোসেন প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ভালো খেলেই আমরা জিতব ইনশা আল্লাহ। একই সুর শোনা গেল দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, উপভোগ্য একটা ম্যাচ হবে, আর আশা করি আমরা ভালো কিছু করে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারব।
ইতালির পেটের মধ্যে থাকা পুঁচকে দেশ সান মারিনোর ফিফা র্যাঙ্কিং বর্তমানে ২১১তম, যা সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবার নিচে। অন্যদিকে বাংলাদেশ র্যাঙ্কিংয়ে ৩০ ধাপ এগিয়ে ১৮১ নম্বরে অবস্থান করছে। তবে র্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধানকে বড় করে দেখছেন না ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। তাঁর মতে, ইউরোপের দল হওয়ায় ওদের সব সময় বড় বড় দলের সঙ্গে খেলতে হয়, সে কারণেই হয়তো ওদের র্যাঙ্কিং তলানিতে। তবে খাতা-কলমের হিসাব নয়, দেখতে হবে ফিজিক্যালি মাঠে ওরা কেমন করে। দলের সহকারী কোচ হাসান আল মামুনও একই কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, এখানে র্যাঙ্কিং কোনো ব্যাপার নয়। দিন শেষে যারা ভালো খেলবে এবং পরিকল্পনাকে মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারবে, জিতবে তারাই।
ম্যাচটি সান মারিনোতে হলেও বাংলাদেশ দল সেখানে এক টুকরো বাংলাদেশকেই পাশে পাচ্ছে। ৫ থেকে ৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামের সব টিকিট ইতিমধ্যেই সোল্ড আউট বা শেষ হয়ে গেছে। জানা গেছে, মোট টিকিটের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কিনেছেন ইতালিতে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। প্রবাসী দর্শকদের এই উপস্থিতি মাঠে বড় সহায়তক শক্তি হবে উল্লেখ করে গোলরক্ষক সুজন হোসেন বলেন, সমর্থকেরা যত বেশি সমর্থন দেয় ভালো খেলার জন্য আমরা তত বেশি উৎসাহিত হই। সহকারী কোচ মামুনও যোগ করেন, মাঠে অনেক সমর্থক থাকবে আমাদের সমর্থন দেওয়ার জন্য। কাজেই সন্দেহ নেই, উজ্জীবিত হয়েই খেলবে আমাদের খেলোয়াড়েরা।
বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো তারকা ফুটবলার হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমরা স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে খেলে অভ্যস্ত। যদিও হামজা চৌধুরী গত মঙ্গলবার কিছুটা বিলম্বে দলে যোগ দিয়েছেন এবং তাঁর যোগ দেওয়ার পর দল মাত্র দুটি অনুশীলন সেশন করতে পেরেছে। তবে সফরকারী দলের টিম ম্যানেজমেন্ট একে কোনো সমস্যা মনে করছে না।
অন্যদিকে, নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলির অধীনে এটাই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলের প্রথম ম্যাচ। দায়িত্ব নেওয়ার পর দল এবং খেলোয়াড়দের শক্তি-দুর্বলতা পরখ করার খুব একটা সময় তিনি পাননি। তবে এই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে সহকারী কোচ হাসান আল মামুন বলেন, টমাসের অধীনে আমরা ঢাকায় থাকতেই অনুশীলন শুরু করেছি এবং অনেকগুলো সেশন হয়ে গেছে। তিনি সিম্পল ফুটবল এবং বল পজেশন রাখতে পছন্দ করেন, পাশাপাশি নিখুঁত ও একসঙ্গে প্রেসিংয়ের ওপর জোর দেন। খেলোয়াড়রা তাঁর এই গেম প্ল্যানের সাথে বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে।
এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা, ইউরোপের মাটিতে লাল-সবুজের এই ঐতিহাসিক যাত্রা শেষ পর্যন্ত জয়ে রূপ নিয়ে আরেকটি নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারে কি না!

আপনার মতামত লিখুন