বাজেটের হিসাব-নিকাশ আর ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনের জোড়া উত্তেজনায় আজ সকাল থেকেই বুঁদ হয়েছিল গোটা দেশ। তবে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ব্যস্ততম এই দিনে সব আলো নিজেদের দিকে কেড়ে নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুরের চেনা চত্বরে পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয়টিতেও দাপুটে জয় তুলে নিয়ে, ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের মহাকাব্য লিখল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘ ৩৮ বছরের পথচলায় অজিদের বিপক্ষে এই সিরিজের আগে মাত্র একটি ম্যাচে (২০০৫ সালে কার্ডিফে) জয়ের রেকর্ড ছিল টাইগাদের। এবার ঘরের মাঠে এক সিরিজেই টানা দুই ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ,সেই সাথে দেশের মাটিতে নিশ্চিত হলো টানা ৫ম ওয়ানডে সিরিজ জয়।
আজ দুপুরে মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন-মোস্তাফিজের আগুনে বোলিংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় অজিদের টপ অর্ডার। দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই (০ রানে) টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন!
নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সুদীর্ঘ ১,০২৪টি ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম শূন্য রানে ৩ উইকেট হারানোর চরম লজ্জার রেকর্ডের মুখোমুখি হলো জশ ইংলিসের দল।
তাসকিনের তোপ: প্রথম ওভারেই ম্যাথু শর্টকে আউট করে ব্রেকথ্রু দেন তাসকিন আহমেদ।
মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত: দ্বিতীয় ওভারে এসে কুপার কনোলিকে লিটনের ক্যাচ বানানোর পর, একই ওভারে ম্যাট রেনশকেও শূন্য রানে ফেরান কাটার মাস্টার।
৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলেন জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। সপ্তম উইকেটে তাদের ১০৩ রানের লড়াকু জুটির ওপর ভর করে ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে সফরকারীরা। এরপরই মিরপুরের আকাশে শুরু হয় তীব্র বৃষ্টি। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি করে এবং তানভীর ইসলাম ২টি উইকেট নেন।
বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকার পর ম্যাচ নামিয়ে আনা হয় ৪১ ওভারে। ডিএলএস (DLS) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে নতুন সংশোধিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ওপেনার তানজিদ তামিম শূন্য রানে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৬ রানের দুর্দান্ত জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়। সৌম্য ৪২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন।
সহ-অধিনায়ক শান্তও ৪২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে আউট হওয়ার আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন শান্ত, যা যৌথভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম। মাঝপথে লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৪) দ্রুত বিদায় নিলে ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল টাইগাররা।
আচমকা চেপে বসা চাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে ব্যাট করতে থাকেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অজি বোলারদের ভালো বলকে সমীহ আর খারাপ বলকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান এই দুই তরুণ।
শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৪০ এবং মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের উল্লাসে মাতে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম।
সংক্ষেপে ম্যাচের স্কোরকার্ড :
অস্ট্রেলিয়া: ১৮৭/৮ (৪২ ওভার)
বাংলাদেশ: ১৯৫/৫ (৩৫ ওভার)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী (১ ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়)।
ম্যাচ সেরা: তাসকিন আহমেদ।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
বাজেটের হিসাব-নিকাশ আর ফুটবল বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনের জোড়া উত্তেজনায় আজ সকাল থেকেই বুঁদ হয়েছিল গোটা দেশ। তবে দেশের ইতিহাসের অন্যতম ব্যস্ততম এই দিনে সব আলো নিজেদের দিকে কেড়ে নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মিরপুরের চেনা চত্বরে পরাশক্তি অস্ট্রেলিয়াকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে ইতিহাস গড়ল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয়টিতেও দাপুটে জয় তুলে নিয়ে, ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের মহাকাব্য লিখল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ডাকওয়ার্থ–লুইস–স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘ ৩৮ বছরের পথচলায় অজিদের বিপক্ষে এই সিরিজের আগে মাত্র একটি ম্যাচে (২০০৫ সালে কার্ডিফে) জয়ের রেকর্ড ছিল টাইগাদের। এবার ঘরের মাঠে এক সিরিজেই টানা দুই ম্যাচ জিতে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ,সেই সাথে দেশের মাটিতে নিশ্চিত হলো টানা ৫ম ওয়ানডে সিরিজ জয়।
আজ দুপুরে মিরপুরে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন-মোস্তাফিজের আগুনে বোলিংয়ের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যায় অজিদের টপ অর্ডার। দলীয় স্কোরবোর্ডে কোনো রান যোগ করার আগেই (০ রানে) টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন!
নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসের সুদীর্ঘ ১,০২৪টি ম্যাচ খেলে এবারই প্রথম শূন্য রানে ৩ উইকেট হারানোর চরম লজ্জার রেকর্ডের মুখোমুখি হলো জশ ইংলিসের দল।
তাসকিনের তোপ: প্রথম ওভারেই ম্যাথু শর্টকে আউট করে ব্রেকথ্রু দেন তাসকিন আহমেদ।
মোস্তাফিজের জোড়া আঘাত: দ্বিতীয় ওভারে এসে কুপার কনোলিকে লিটনের ক্যাচ বানানোর পর, একই ওভারে ম্যাট রেনশকেও শূন্য রানে ফেরান কাটার মাস্টার।
৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলেন জেভিয়ার বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। সপ্তম উইকেটে তাদের ১০৩ রানের লড়াকু জুটির ওপর ভর করে ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রান তোলে সফরকারীরা। এরপরই মিরপুরের আকাশে শুরু হয় তীব্র বৃষ্টি। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান ৩টি করে এবং তানভীর ইসলাম ২টি উইকেট নেন।
বৃষ্টির কারণে দীর্ঘ সময় খেলা বন্ধ থাকার পর ম্যাচ নামিয়ে আনা হয় ৪১ ওভারে। ডিএলএস (DLS) পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে নতুন সংশোধিত লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই ওপেনার তানজিদ তামিম শূন্য রানে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরলে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য সরকার ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৬ রানের দুর্দান্ত জুটি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এনে দেয়। সৌম্য ৪২ রান করে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন।
সহ-অধিনায়ক শান্তও ৪২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে আউট হওয়ার আগে ওয়ানডে ক্রিকেটে দেশের ১১তম ব্যাটার হিসেবে ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন শান্ত, যা যৌথভাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম। মাঝপথে লিটন দাস (২১) ও মোসাদ্দেক হোসেন (১৪) দ্রুত বিদায় নিলে ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল টাইগাররা।
আচমকা চেপে বসা চাপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাথা ঠান্ডা রেখে ব্যাট করতে থাকেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ। অজি বোলারদের ভালো বলকে সমীহ আর খারাপ বলকে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান এই দুই তরুণ।
শেষ পর্যন্ত হৃদয় ৪০ এবং মিরাজ ২২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের উল্লাসে মাতে মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়াম।
সংক্ষেপে ম্যাচের স্কোরকার্ড :
অস্ট্রেলিয়া: ১৮৭/৮ (৪২ ওভার)
বাংলাদেশ: ১৯৫/৫ (৩৫ ওভার)
ফলাফল: বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী (১ ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়)।
ম্যাচ সেরা: তাসকিন আহমেদ।

আপনার মতামত লিখুন