চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি উঁচিয়ে ধরার উদ্যাপন এখন অতীত। ক্রিকেটের ব্যাকরণ বলে, ফরম্যাট বদলে গেলে নতুন করে শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। ওয়ানডেতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরে ব্যাকফুটে থাকা অস্ট্রেলিয়া যেমন টি-টোয়েন্টিতে তাদের চেনা আগ্রাসী রূপে ফিরতে মরিয়া, ঠিক তেমনি বাংলাদেশ দলের লক্ষ্য ওয়ানডের সেই জয়ের মনস্তাত্ত্বিক সুবিধাকে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটেও কাজে লাগানো।আগামীকাল বুধবার (১৭ জুন) সাগরের কোল ঘেঁষে থাকা বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি। যেখানে একদিকে থাকছে অজিদের চেনা দাপট পুনরুদ্ধারের লড়াই, আর অন্যদিকে থাকছে লিটন দাসের দলের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার মিশন।টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিয়মিত ওপেনার ট্রেভিস হেডকে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া। তবে ওয়ানডের ধাক্কা সামলে এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে পাওয়ার-হিটিংয়ের প্রদর্শনী দেখাতে প্রস্তুত তারা। বিশেষ করে মিডল অর্ডারে টিম ডেভিডের অন্তর্ভুক্তি অজিদের ব্যাটিং লাইন-আপকে এক লাফে অনেকখানি শক্তিশালী করে তুলেছে।দলের প্রতিনিধি হয়ে অজি অধিনায়ক মিচেল মার্শ সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, দলে কিছুটা বদল এসেছে এবং ছেলেরা এই সিরিজের জন্য মুখিয়ে আছে। সফরটা কঠিন ছিল সন্দেহ নেই, তবে আমরা আমাদের চেনা ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলে এই সিরিজ জিততেই মাঠে নামব। বিশেষ করে টিম ডেভিডকে বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডল অর্ডার ব্যাটার আখ্যা দিয়ে তাঁর ওপর বাড়তি ভরসা রাখছেন মার্শ।অস্ট্রেলিয়ার এই ঘুরে দাঁড়ানোর তীব্র তাড়না এবং আগ্রাসী মানসিকতা নিয়ে বেশ সচেতন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। তবে প্রতিপক্ষের বড় নাম নিয়ে ভেবে নিজেদের ওপর বাড়তি চাপ নিতে চান না তিনি। মাঠের ক্রিকেট এবং নির্দিষ্ট দিনের সঠিক প্রয়োগকেই আসল মনে করছেন টাইগার অধিনায়ক।লিটন দাস তাঁর গেম-প্ল্যান নিয়ে বলেন, ছোট ফরম্যাটের খেলায় সব দলই আক্রমণাত্মক মাইন্ডসেট নিয়ে খেলে। অস্ট্রেলিয়া অনেক বড় নাম, তারা তাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করবে। আমরাও আমাদের সেরা ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব। অতীত নিয়ে পড়ে থাকার সুযোগ নেই, যেকোনো দলের বিপক্ষে জিততে হলে ওই নির্দিষ্ট দিনে মাঠে আমাদের সেরাটা দিতে হবে।২০২১ সালের মিরপুরের সেই মন্থর ও অতিমাত্রায় স্পিন সহায়ক উইকেটের চেয়ে চট্টগ্রামের কন্ডিশন যে সম্পূর্ণ আলাদা, তা ওয়ানডে সিরিজেই টের পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এবার স্পিনের চেয়েও অজি ব্যাটারদের মূল ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পেস ইউনিট।[TECHTARANGA-POST:890]বাংলাদেশের পেসারদের সমীহ করে মিচেল মার্শ বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটা দারুণ রোমাঞ্চকর যে তাদের কিছু ভালো মানের পেসার আছে। তারা এখন খুব গোছানো একটা দল এবং ওয়ানডেতে আমাদের কঠিন সময় উপহার দিয়েছে।বাংলাদেশ দলের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা হলো— ফরম্যাট বদলে গেলেও স্কোয়াডের বেশিরভাগ ক্রিকেটার এক হওয়ায় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের চনমনে ভাব ও আত্মবিশ্বাসটা ড্রেসিংরুমে অক্ষুণ্ন রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, কুড়ি ওভারের এই প্রথম চাল চালতে গিয়ে সাগরিকায় শেষ হাসি হাসে কারা।