সন্ধ্যার পর থেকেই বৃষ্টি পড়ছে।
টিনের চালের ওপর বৃষ্টির শব্দ শুনতে নীলার ভালো লাগে। ছোটবেলায় বাবা বলতেন, বৃষ্টি হলো আকাশের গল্প বলার সময়।
বাবা নেই সাত বছর হলো।
তবুও বৃষ্টি নামলেই কথাটা মনে পড়ে।
বারান্দার কাঠের চেয়ারে বসে নীলা দূরের অন্ধকারে তাকিয়ে ছিল।
হঠাৎ তার মা এসে পাশে বসলেন।
— কী রে, এত চুপচাপ কেন?
— কিছু না।
— মিথ্যা বলছিস।
নীলা হেসে ফেলল।
তার মা পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ মানুষ।
এই মানুষটাই বাবার মৃত্যুর পর সংসারটাকে আগলে রেখেছেন।
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
এত রাতে কেউ আসে না।
রওশন আরা বেগম অবাক হয়ে বললেন,
— দেখ তো কে এসেছে।
নীলা দরজা খুলতেই অবাক হয়ে গেল।
একজন বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন।
ভেজা ছাতা হাতে।
চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা।
লোকটা কোনো কথা না বলে একটি নীল রঙের খাম বাড়িয়ে দিল।
— এটা আপনার জন্য।
— কে পাঠিয়েছে?
— জানি না।
— আপনি কোথা থেকে এসেছেন?
বৃদ্ধ মৃদু হাসলেন।
— সব প্রশ্নের উত্তর একদিন পাবেন।
কথা শেষ করেই তিনি চলে গেলেন।
নীলা কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
খামের গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা—
নীলা রহমানের হাতে পৌঁছাবে।
তার বুকের ভেতর কেমন যেন ধকধক করতে লাগল।
খাম খুলতেই ভেতর থেকে একটি চিঠি বের হলো।
হাতে লেখা মাত্র কয়েকটি লাইন।
যাকে তুমি মৃত বলে জানো, সে আসলে হারিয়ে গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় পুরনো রেলস্টেশনে এসো।
সত্য জানতে চাইলে একা আসবে।
চিঠিটা পড়ে নীলার হাত কাঁপতে শুরু করল।
যাকে তুমি মৃত বলে জানো...
মানে কি তার বাবা?
কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব?
সাত বছর আগে সারা গ্রাম তো বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছিল।
তাহলে?
ঠিক তখনই খামের ভেতর থেকে একটা পুরনো ছবি মেঝেতে পড়ে গেল।
নীলা ছবিটা হাতে নিল।
ছবিতে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন।
তার পাশে আরেকজন মানুষ।
প্রথমে চিনতে পারেনি।
তারপর হঠাৎ বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
লোকটাকে সে খুব ভালো করেই চেনে।
কারণ মানুষটা প্রতিদিন তাদের বাড়িতে আসে।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—
এই মানুষটিই সেদিন বাবার মৃত্যুর খবর নিয়ে এসেছিল।
নীলা অনুভব করল, সাত বছর ধরে তার পরিবার যে গল্প বিশ্বাস করে এসেছে, সেই গল্পের কোথাও একটা ভয়ংকর মিথ্যা লুকিয়ে আছে।
বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছে।
কিন্তু নীলার মনে হলো—
আসল ঝড়টা এখন শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুন ২০২৬
সন্ধ্যার পর থেকেই বৃষ্টি পড়ছে।
টিনের চালের ওপর বৃষ্টির শব্দ শুনতে নীলার ভালো লাগে। ছোটবেলায় বাবা বলতেন, বৃষ্টি হলো আকাশের গল্প বলার সময়।
বাবা নেই সাত বছর হলো।
তবুও বৃষ্টি নামলেই কথাটা মনে পড়ে।
বারান্দার কাঠের চেয়ারে বসে নীলা দূরের অন্ধকারে তাকিয়ে ছিল।
হঠাৎ তার মা এসে পাশে বসলেন।
— কী রে, এত চুপচাপ কেন?
— কিছু না।
— মিথ্যা বলছিস।
নীলা হেসে ফেলল।
তার মা পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ মানুষ।
এই মানুষটাই বাবার মৃত্যুর পর সংসারটাকে আগলে রেখেছেন।
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
এত রাতে কেউ আসে না।
রওশন আরা বেগম অবাক হয়ে বললেন,
— দেখ তো কে এসেছে।
নীলা দরজা খুলতেই অবাক হয়ে গেল।
একজন বৃদ্ধ দাঁড়িয়ে আছেন।
ভেজা ছাতা হাতে।
চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা।
লোকটা কোনো কথা না বলে একটি নীল রঙের খাম বাড়িয়ে দিল।
— এটা আপনার জন্য।
— কে পাঠিয়েছে?
— জানি না।
— আপনি কোথা থেকে এসেছেন?
বৃদ্ধ মৃদু হাসলেন।
— সব প্রশ্নের উত্তর একদিন পাবেন।
কথা শেষ করেই তিনি চলে গেলেন।
নীলা কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
খামের গায়ে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা—
নীলা রহমানের হাতে পৌঁছাবে।
তার বুকের ভেতর কেমন যেন ধকধক করতে লাগল।
খাম খুলতেই ভেতর থেকে একটি চিঠি বের হলো।
হাতে লেখা মাত্র কয়েকটি লাইন।
যাকে তুমি মৃত বলে জানো, সে আসলে হারিয়ে গেছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় পুরনো রেলস্টেশনে এসো।
সত্য জানতে চাইলে একা আসবে।
চিঠিটা পড়ে নীলার হাত কাঁপতে শুরু করল।
যাকে তুমি মৃত বলে জানো...
মানে কি তার বাবা?
কিন্তু সেটা কীভাবে সম্ভব?
সাত বছর আগে সারা গ্রাম তো বাবার জানাজায় অংশ নিয়েছিল।
তাহলে?
ঠিক তখনই খামের ভেতর থেকে একটা পুরনো ছবি মেঝেতে পড়ে গেল।
নীলা ছবিটা হাতে নিল।
ছবিতে তার বাবা দাঁড়িয়ে আছেন।
তার পাশে আরেকজন মানুষ।
প্রথমে চিনতে পারেনি।
তারপর হঠাৎ বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
লোকটাকে সে খুব ভালো করেই চেনে।
কারণ মানুষটা প্রতিদিন তাদের বাড়িতে আসে।
আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়—
এই মানুষটিই সেদিন বাবার মৃত্যুর খবর নিয়ে এসেছিল।
নীলা অনুভব করল, সাত বছর ধরে তার পরিবার যে গল্প বিশ্বাস করে এসেছে, সেই গল্পের কোথাও একটা ভয়ংকর মিথ্যা লুকিয়ে আছে।
বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছে।
কিন্তু নীলার মনে হলো—
আসল ঝড়টা এখন শুরু হলো।

আপনার মতামত লিখুন