বাইরে দুটি গাড়ি এসে থামল।
জানালার ফাঁক দিয়ে নীলা স্পষ্ট দেখল—
প্রথম গাড়ি থেকে নামলেন করিম চাচা।
দ্বিতীয় গাড়ি থেকে নামলেন তার মা।
রওশন আরা বেগম।
নীলার বুকের ভেতরটা হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেল।
— মা এখানে কেন?
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
বৃদ্ধ লোকটা কাঁপতে শুরু করলেন।
— তারা জেনে গেছে...
— কী জেনে গেছে?
— তোমরা আমার কাছে এসেছো।
বাইরে তখন দরজায় ধাক্কা পড়ছে।
ধাপ!
ধাপ!
ধাপ!
করিম চাচার গলা শোনা গেল—
— দরজা খোলো!
কেউ কোনো কথা বলল না।
আরিয়ান দ্রুত ঘরের পেছনের দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
— আমাদের বের হতে হবে।
— কিন্তু মা?
— এখন না।
— আমি মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই।
— নীলা, এখন আবেগ দেখানোর সময় নয়।
ঠিক তখনই বৃদ্ধ লোকটা নীলার হাতে চাবিটা তুলে দিলেন।
— এটা রক্ষা করো।
— কিন্তু—
— তোমার বাবা বলেছিলেন, একদিন তুমি আসবে।
তার চোখে জল।
— আর তিনি ঠিকই বলেছিলেন।
পেছনের দরজা দিয়ে তারা বেরিয়ে পড়ল।
অন্ধকার গলি।
ভাঙা রাস্তা।
আরিয়ান দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
নীলার মাথায় তখন একটাই প্রশ্ন—
মা কেন সেখানে এসেছিলেন?
তিনি কি সব জানেন?
নাকি তিনিও এই রহস্যের অংশ?
সেই রাতেই তারা পুরনো বাড়িতে পৌঁছাল।
বাড়িটা বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত।
এখানেই নীলার দাদা থাকতেন।
চাঁদের আলোয় বাড়িটাকে ভৌতিক লাগছে।
পেছনের উঠোনে একটি পুরনো কুয়ো।
কুয়োর চারপাশে আগাছা।
আরিয়ান ফিসফিস করে বলল,
— চাবিটা বের করো।
নীলা ওড়নার ভাঁজ থেকে চাবিটা বের করল।
কুয়োর পাশে মাটি খুঁড়তে শুরু করল তারা।
প্রায় আধঘণ্টা পর লোহার কিছু একটা ঠেকল।
দু'জনে মিলে টেনে তুলল।
একটি পুরনো লোহার বাক্স।
মরিচা ধরা।
কিন্তু তালাটা এখনো অক্ষত।
চাবি ঘোরাতেই ক্লিক করে খুলে গেল।
নীলার বুক ধকধক করছে।
ভেতরে কী আছে?
টাকা?
দলিল?
উইল?
না।
ভেতরে ছিল তিনটি জিনিস।
একটি ফাইল।
একটি ডায়েরি।
আর একটি ভিডিও ক্যাসেট।
ফাইল খুলতেই প্রথম পাতায় বড় করে লেখা—
নিচে তিনটি নাম।
প্রথম নাম—
করিম উদ্দিন।
দ্বিতীয় নাম—
কাদের মিয়া।
তৃতীয় নাম দেখে নীলা জমে গেল।
কারণ সেখানে লেখা—
রওশন আরা বেগম।
তার নিজের মা।
— না...
নীলার মুখ থেকে শব্দ বের হলো।
— এটা মিথ্যা।
আরিয়ান চুপ।
সে জানত না কী বলবে।
নীলার চোখ ভিজে উঠেছে।
— মা এটা করতে পারেন না।
— হয়তো পুরো সত্যটা অন্যরকম।
— তাহলে বাবা কেন তার নাম লিখবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে নেই।
ঠিক তখনই ডায়েরির ভেতর থেকে একটি ভাঁজ করা কাগজ মাটিতে পড়ে গেল।
কাগজটা খুলতেই দেখা গেল—
এটি একটি হাসপাতালের রিপোর্ট।
তারিখ সাত বছর আগের।
রোগীর নাম দেখে নীলা অবাক হয়ে গেল।
কারণ সেখানে লেখা—
রিপোর্টের নিচে বড় অক্ষরে লেখা—
রোগী জীবিত অবস্থায় ভর্তি হয়েছিলেন।
নীলার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।
যদি বাবা জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকেন—
তাহলে তার মৃত্যু হলো কীভাবে?
আর কে মিথ্যা বলেছিল?
ঠিক তখনই পেছনে কারও কণ্ঠ ভেসে এলো।
— কারণ তোমার বাবা সেদিন মারা যাননি।
দু'জন একসঙ্গে ঘুরে দাঁড়াল।
চাঁদের আলোয় একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন।
মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু কণ্ঠস্বরটা কেমন যেন পরিচিত।
মানুষটি ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলেন।
তারপর বললেন—
— তোমার বাবা এখনও বেঁচে আছেন।
বিষয় : উপন্যাস

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুন ২০২৬
বাইরে দুটি গাড়ি এসে থামল।
জানালার ফাঁক দিয়ে নীলা স্পষ্ট দেখল—
প্রথম গাড়ি থেকে নামলেন করিম চাচা।
দ্বিতীয় গাড়ি থেকে নামলেন তার মা।
রওশন আরা বেগম।
নীলার বুকের ভেতরটা হঠাৎ ফাঁকা হয়ে গেল।
— মা এখানে কেন?
আরিয়ান কোনো উত্তর দিল না।
বৃদ্ধ লোকটা কাঁপতে শুরু করলেন।
— তারা জেনে গেছে...
— কী জেনে গেছে?
— তোমরা আমার কাছে এসেছো।
বাইরে তখন দরজায় ধাক্কা পড়ছে।
ধাপ!
ধাপ!
ধাপ!
করিম চাচার গলা শোনা গেল—
— দরজা খোলো!
কেউ কোনো কথা বলল না।
আরিয়ান দ্রুত ঘরের পেছনের দরজার দিকে এগিয়ে গেল।
— আমাদের বের হতে হবে।
— কিন্তু মা?
— এখন না।
— আমি মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চাই।
— নীলা, এখন আবেগ দেখানোর সময় নয়।
ঠিক তখনই বৃদ্ধ লোকটা নীলার হাতে চাবিটা তুলে দিলেন।
— এটা রক্ষা করো।
— কিন্তু—
— তোমার বাবা বলেছিলেন, একদিন তুমি আসবে।
তার চোখে জল।
— আর তিনি ঠিকই বলেছিলেন।
পেছনের দরজা দিয়ে তারা বেরিয়ে পড়ল।
অন্ধকার গলি।
ভাঙা রাস্তা।
আরিয়ান দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
নীলার মাথায় তখন একটাই প্রশ্ন—
মা কেন সেখানে এসেছিলেন?
তিনি কি সব জানেন?
নাকি তিনিও এই রহস্যের অংশ?
সেই রাতেই তারা পুরনো বাড়িতে পৌঁছাল।
বাড়িটা বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত।
এখানেই নীলার দাদা থাকতেন।
চাঁদের আলোয় বাড়িটাকে ভৌতিক লাগছে।
পেছনের উঠোনে একটি পুরনো কুয়ো।
কুয়োর চারপাশে আগাছা।
আরিয়ান ফিসফিস করে বলল,
— চাবিটা বের করো।
নীলা ওড়নার ভাঁজ থেকে চাবিটা বের করল।
কুয়োর পাশে মাটি খুঁড়তে শুরু করল তারা।
প্রায় আধঘণ্টা পর লোহার কিছু একটা ঠেকল।
দু'জনে মিলে টেনে তুলল।
একটি পুরনো লোহার বাক্স।
মরিচা ধরা।
কিন্তু তালাটা এখনো অক্ষত।
চাবি ঘোরাতেই ক্লিক করে খুলে গেল।
নীলার বুক ধকধক করছে।
ভেতরে কী আছে?
টাকা?
দলিল?
উইল?
না।
ভেতরে ছিল তিনটি জিনিস।
একটি ফাইল।
একটি ডায়েরি।
আর একটি ভিডিও ক্যাসেট।
ফাইল খুলতেই প্রথম পাতায় বড় করে লেখা—
নিচে তিনটি নাম।
প্রথম নাম—
করিম উদ্দিন।
দ্বিতীয় নাম—
কাদের মিয়া।
তৃতীয় নাম দেখে নীলা জমে গেল।
কারণ সেখানে লেখা—
রওশন আরা বেগম।
তার নিজের মা।
— না...
নীলার মুখ থেকে শব্দ বের হলো।
— এটা মিথ্যা।
আরিয়ান চুপ।
সে জানত না কী বলবে।
নীলার চোখ ভিজে উঠেছে।
— মা এটা করতে পারেন না।
— হয়তো পুরো সত্যটা অন্যরকম।
— তাহলে বাবা কেন তার নাম লিখবেন?
এই প্রশ্নের উত্তর কারও কাছে নেই।
ঠিক তখনই ডায়েরির ভেতর থেকে একটি ভাঁজ করা কাগজ মাটিতে পড়ে গেল।
কাগজটা খুলতেই দেখা গেল—
এটি একটি হাসপাতালের রিপোর্ট।
তারিখ সাত বছর আগের।
রোগীর নাম দেখে নীলা অবাক হয়ে গেল।
কারণ সেখানে লেখা—
রিপোর্টের নিচে বড় অক্ষরে লেখা—
রোগী জীবিত অবস্থায় ভর্তি হয়েছিলেন।
নীলার মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল।
যদি বাবা জীবিত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকেন—
তাহলে তার মৃত্যু হলো কীভাবে?
আর কে মিথ্যা বলেছিল?
ঠিক তখনই পেছনে কারও কণ্ঠ ভেসে এলো।
— কারণ তোমার বাবা সেদিন মারা যাননি।
দু'জন একসঙ্গে ঘুরে দাঁড়াল।
চাঁদের আলোয় একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন।
মুখটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু কণ্ঠস্বরটা কেমন যেন পরিচিত।
মানুষটি ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলেন।
তারপর বললেন—
— তোমার বাবা এখনও বেঁচে আছেন।

আপনার মতামত লিখুন