ভাঙ্গায় ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণের পর মারধর ও ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রাইভেট কারে তুলে মিডল্যান্ড ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে মারধর করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।অপরাধের শিকার ওই ব্যাংক কর্মকর্তার নাম বাহাউদ্দিন শেখ (৩৪)। তিনি মিডল্যান্ড ব্যাংকের মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর শাখার কর্মকর্তা এবং ভাঙ্গা পৌরসভার ছিলাধরচর গ্রামের বাসিন্দা।পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল সাতটার দিকে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন বাহাউদ্দিন। এ সময় একটি প্রাইভেট কার তাঁর সামনে এসে থামে। চালক তাঁকে ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তাব দিলে গাড়িতে আগে থেকেই বসা অন্য তিনজনকে সাধারণ যাত্রী মনে করে তিনি ভেতরে উঠে পড়েন।ভুক্তভোগী বাহাউদ্দিন শেখ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, গাড়িতে ওঠার ঠিক দুই মিনিটের মধ্যে আমার মুখ বেঁধে ফেল শুরু হয় মারধর। হাতুড়ি দিয়ে পেটানোর পাশাপাশি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে ঢাকার দিকে কিছুদূর যাওয়ার পর গাড়িটি আবার ইউটার্ন নিয়ে ভাঙ্গা হয়ে ফরিদপুরের দিকে যায়। এ সময় বিভিন্ন গ্রামীণ কাঁচা সড়কেও গাড়ি ঘোরানো হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের মোবাইলে ফোন করে তাদের দেওয়া নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে এক লাখ টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। টাকা পাওয়ার পর আমার মুঠোফোনের সিম খুলে নিয়ে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা।হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান জানান, বাহাউদ্দিন শেখের বুক, হাত ও পায়ে লাঠিসোটা ও ভারি বস্তু দিয়ে পেটানোর একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:1480]এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, ব্যাংক কর্মকর্তাকে অপহরণ ও টাকা আদায়ের এই ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ মাঠে নেমেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে আইনগত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।