মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

সরকারি পে-স্কেল বাস্তবায়ন: মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের কী হবে?

দীর্ঘ এক যুগ পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া নতুন বেতনকাঠামোর উদ্যোগটি বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় কার্যকর করেছে। প্রশাসনিক স্তরে এটিকে একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হলেও, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক টানাটানি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার চরম দুর্ভোগের দিনে এই সিদ্ধান্ত বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এতে সরাসরি উপকৃত হলেও, সার্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব ও বৈষম্য নিয়ে সচেতন মহলে তৈরি হয়েছে গভীর ক্ষোভ।২৪ লাখ কর্মরত বেসামরিক ও সামরিক সদস্য এবং প্রায় সাড়ে ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর পেছনে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকার এই বড় বরাদ্দ এমন এক সময়ে নিশ্চিত করা হলো, যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের কড়া দামে সাধারণ মানুষ দিশেহারা। সরকারের এই বিশাল অংকের নতুন ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে ব্যাংকঋণ ও অনাবশ্যক আর্থিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক খাতকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলতে পারে।একটি দেশের চালিকাশক্তি কেবল সরকারি কর্মচারীরা নন, বেসরকারি খাতের কোটি কোটি কর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের ঘামে-রক্তেই সচল থাকে রাষ্ট্রের অর্থনীতির চাকা। অথচ বেসরকারি খাতের সিংহভাগ কর্মীর কোনো মহার্ঘ ভাতা, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তার ন্যূনতম সুব্যবস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর বেতন-ভাতা দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত সমাজে একধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত অসামঞ্জস্য ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি করছে—যা সংবিধানে উল্লেখিত প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ভাবমূর্তির সঙ্গে মেলানো কঠিন।অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে একবারে বিপুল পরিমাণ নতুন অর্থের প্রবাহ ঘটলে তা পরোক্ষভাবে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। যদিও সরকার এটি কয়েক দফায় বাস্তবায়নের কথা ভাবছে, তবুও এর অভিঘাতে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়লে দিনশেষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সীমিত ও স্থির আয়ের সাধারণ মানুষ ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা।প্রশাসনকে চাঙ্গা রাখা বা দুর্নীতির প্রবণতা কমানোর জন্য জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর যুক্তি দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সাধারণ জনগণের ওপর পরোক্ষ কর ও মূল্যস্ফীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়ে একাংশের সুবিধা নিশ্চিত করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হতে পারে না। আমরা মনে করি , সরকারের উচিত অবিলম্বে সামষ্টিক অর্থনীতির এই নাজুক চিত্র গভীরভাবে অনুধাবন করা, অহেতুক রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন করা এবং কেবল একটি বিশেষ গোষ্ঠীর দিকে না তাকিয়ে দেশের প্রতিটি নাগরিকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও বাজারদর নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখা।

সরকারি পে-স্কেল বাস্তবায়ন: মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের কী হবে?