মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

বিশ্বের সর্ববৃহৎ শোকযাত্রা: ৪ কোটিরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে দাফন হলেন খামেনি

মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর অবশেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। সপ্তাহব্যাপী চলা এই নজিরবিহীন জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানি গণমাধ্যম।ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম 'প্রেস টিভি' খামেনির এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও দাফন প্রক্রিয়াকে ‘বিশ্বের দেখা সর্ববৃহৎ শোকযাত্রা’ বলে অভিহিত করেছে।গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির সপ্তাহব্যাপী চলা বিভিন্ন জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ায় সব মিলিয়ে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন। গত শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর শিয়াদের ধর্মীয় ভাবাবেগ জড়িত এমন ৫টি ঐতিহাসিক শহর—তেহরান, কোম, নাজাফ, কারবালা এবং মাশহাদে পর্যায়ক্রমে জানাজা ও শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সবশেষে দেশটির পবিত্রতম শিয়া মাজারে তাকে সমাহিত করা হয়।তেহরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার ছায়া দেখা গেছে এই শেষকৃত্যেও। খামেনিকে শেষ বিদায় জানাতে গাজা থেকে ইরানের আঞ্চলিক মিত্র হামাস ও ইসলামিক জিহাদ, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেন থেকে হাউছি বিদ্রোহীদের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সশরীরে উপস্থিত ছিল। এছাড়া বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরাও এই ঐতিহাসিক জানাজায় শরিক হন।[TECHTARANGA-POST:978]গত চার মাস ধরে খামেনির মরদেহ কোথায় এবং কীভাবে রাখা হয়েছিল তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা গুঞ্জন তৈরি হলেও, ইরান সরকার জানায়—নিরাপত্তা সংকট এবং যুদ্ধের কারণে মরদেহ বিশেষ শীতল সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছিল। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সব রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে গতকাল তাকে মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশাল জনসমাগম প্রদর্শন করে ইরান সরকার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও প্রতিরোধের বার্তাই দিতে চেয়েছে।

বিশ্বের সর্ববৃহৎ শোকযাত্রা: ৪ কোটিরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণে দাফন হলেন খামেনি