ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে টালমাটাল বিশ্ববাজার: তেলের দাম ১১৫ ডলার ছাড়াল, এশিয়ায় শেয়ারবাজারে বড় ধস
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আজ সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়ার বড় বড় শেয়ারবাজারগুলোতে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে।বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৫ ডলার (৮৬.৭৭ পাউন্ড) ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও তেলের দাম ৩.৫ শতাংশ বেড়ে ১০৩ ডলারে পৌঁছেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ৭২ ডলার, তা মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উত্তেজনা না কমলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।তেলের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৪.৫ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৪ শতাংশ পর্যন্ত নেমে গেছে। বিনিয়োগকারীদের মাঝে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আতঙ্ক এই ধসের প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:255]মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের কোনো শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র সহজেই দেশটির তেল শিল্প দখল করতে পারে। এই পদক্ষেপকে তিনি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন।বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ইরান এই পথে চলাচলকারী জাহাজে আক্রমণের হুমকি দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এছাড়া ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়েও তেল পরিবহন বন্ধ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তাদের বাহিনী মার্কিন সেনাদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বাসভবন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালাবে।