লেবাননে স্থায়ীভাবে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী উপস্থিত থাকার যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চলে’ ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করবে বলে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওয়াশিংটন নিজেদের এই শক্ত অবস্থানের কথা জানায়।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তৈরি যুদ্ধবিরতি কাঠামো অনুযায়ী, লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনাদের পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের কথা বলা হয়েছে।এর আগে সোমবার দক্ষিণ লেবানন সফরের সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছিলেন, ইসরায়েলি সেনারা সেখানে থাকার জন্যই এসেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি—এই নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে আমরা সরে যাচ্ছি না।তবে কাটজের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়াকে জানান, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে যে কাঠামোগত চুক্তি হয়েছে, সেটি মেনে চলবে—এমনটাই ওয়াশিংটন সব পক্ষের কাছে প্রত্যাশা করে।ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, সব পক্ষই সম্মত কাঠামো অনুযায়ী কাজ করবে। ইসরায়েল স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, লেবাননের ভূখণ্ড নিয়ে তাদের কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার জন্যও উপযোগী নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় ওয়াশিংটন লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার একটি শর্তভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে ইসরায়েলি সেনাদের ধাপে ধাপে পুনর্বিন্যাস এবং হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের বিষয়টি যাচাই করার কথা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।তবে ইসরায়েল বারবার অভিযোগ করে আসছে যে, হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ধ্বংসে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অন্যদিকে লেবানন সরকারের (বৈরুত) দাবি, তাদের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি ও চলমান সামরিক অভিযান দেশটির পূর্ণ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে আরও কঠিন করে তুলছে।চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দক্ষিণ লেবাননে কয়েকটি পরীক্ষামূলক এলাকা বা ‘পাইলট জোন’ তৈরি করা হয়েছে। আগে এসব এলাকায় ইসরায়েলি সেনা বা হিজবুল্লাহর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ থাকলেও এখন সেখানে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।[TECHTARANGA-POST:1104]এ বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী প্রথম পর্যায়ের পাইলট জোনগুলো বাস্তবায়ন করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এই প্রক্রিয়ার পূর্ণ বাস্তবায়নে লেবাননকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।