বিশ্ববরেণ্য ও 'মাটি-মানুষের চিত্রশিল্পী' এস এম সুলতানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর জন্মভূমি নড়াইলে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে দু’দিনব্যাপী ‘সুলতান উৎসব’-এর শুভ সূচনা হয়েছে। এ উপলক্ষে দিনব্যাপী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, চিত্রপ্রদর্শনী ও নানা সাংস্কৃতিক উদ্যোগের আয়োজন করা হয়।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শহরের ঐতিহাসিক সুলতান মঞ্চ চত্বরে কচি-কাঁচাদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উৎসবের পর্দা ওঠে। এই প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪০০ শিশু স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।শিশুদের রংতুলির স্পর্শে ক্যানভাসে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা, ফুল-ফল, রূপসী বাংলার প্রকৃতি, গ্রামীণ জীবনের শ্রমজীবী মানুষ, ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ এবং শিল্পী সুলতানের ঐতিহাসিক প্রতিকৃতি। চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও শৌখিন আলোকচিত্রীদের তোলা সেরা সব ছবি নিয়ে এক বিশেষ ‘আলোকচিত্র প্রদর্শনী’রও আয়োজন করা হয়।এস এম সুলতান শিশু চারু ও চারুকলা ফাউন্ডেশন এবং বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার সকালে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও বেলুন উড়িয়ে এই উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান আলেক।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়দার আলী দেওয়ান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শেখ হানিফ, সদস্য সচিব সসীম সরকার, সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদ রহমান ও নাজমুল হাসান লিজাসহ বহু সুলতানপ্রেমী অনুরাগী।উৎসবের দু’দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে বিখ্যাত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং স্থানীয় শিল্পীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।[TECHTARANGA-POST:1182]উল্লেখ্য, কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী এস এম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে নড়াইল শহরের কুড়িগ্রাম এলাকায় স্মৃতি সংগ্রহশালা চত্বরে এই কালজয়ী শিল্পীকে সমাহিত করা হয়।