মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে গতির ঝড়, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল চালক ও পথচারীর

ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত গতির বলি হয়ে মোটরসাইকেলচালক ও এক পথচারী মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। বেপরোয়া গতিতে ছুটে চলা মোটরসাইকেলের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ওই দুই যুবকের করুণ মৃত্যু হয়।বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঢাকা-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকাগামী লেনের ভাঙ্গা পৌরসভার ছিলাধরচর সংলগ্ন এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে।দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো দুই যুবক হলেন— পথচারী হৃদয় শেখ (২০) এবং মোটরসাইকেলচালক সাকিব শেখ (২২)। নিহত হৃদয়ের বাড়ি ভাঙ্গা পৌরসভার ছিলাধরচর গ্রামে, তিনি ওই গ্রামের ইলিয়াস শেখের ছেলে। অন্যদিকে, নিহত মোটরসাইকেলচালক সাকিব ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পৌরসদরের এনায়েত শেখের সন্তান হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে নগরকান্দা এলাকা থেকে সাকিব তাঁর স্পোর্টস মোটরসাইকেলটি নিয়ে ঢাকা-ভাঙা এক্সপ্রেসওয়ে ধরে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় রাস্তার ঢাকাগামী লেনে মোটরসাইকেলটির গতি ছিল অত্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত ও বেপরোয়া। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাইকটি ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার বা তারচেয়েও বেশি গতিতে ছুটে চলছিল।ঠিক সেই মুহূর্তে ভাঙ্গা পৌরসভার ছিলাধরচর এলাকার লেনে স্থানীয় যুবক হৃদয় শেখ হেঁটে সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। মোটরসাইকেলের গতি অতিরিক্ত বেশি থাকায় চালক সাকিব কোনোভাবেই ব্রেক চেপে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। চোখের পলকে দ্রুতগতির বাইকটি সজোরে পথচারী হৃদয়কে ধাক্কা দেয়। বিকট শব্দে ধাক্কা লাগার পর মোটরসাইকেলসহ দুজনই দুমড়েমুচড়ে গিয়ে সড়কের ওপর ছিটকে পড়েন। ঘাতক বাইকের প্রচণ্ড আঘাত ও ছিটকে পড়ার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই দুজন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান।ঘটনার আকস্মিকতায় এক্সপ্রেসওয়েতে সাময়িক সময়ের জন্য যান চলাচলে আতঙ্ক ও বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা-পুলিশের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় দুই যুবকের লাশ উদ্ধার করে এবং সড়ক থেকে চূর্ণবিচূর্ণ দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি সরিয়ে নিয়ে হাইওয়ে থানায় হেফাজতে রাখে।দুর্ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহান জানান, প্রাথমিকভাবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতামত ও আলামত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। মোটরসাইকেলটির গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২০ কিলোমিটার ছিল। অতিরিক্ত গতির কারণে চালক পথচারীকে দেখেও তাৎক্ষণিক গাড়ি থামানো বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।[TECHTARANGA-POST:1131]তিনি আরও জানান, নিহত দুই যুবকের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ দুটি মরদেহ উদ্ধার করে বর্তমানে থানা হেফাজতে রেখেছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর স্বজনদের লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে মরদেহ দুটি তাঁদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু বা সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে গতির ঝড়, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল চালক ও পথচারীর