মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

মহেশখালীতে ভিড়ল কার্গো, শুরু গ্যাস সরবরাহ: কাটার মুখে তীব্র সংকট

অবশেষে বৈরী আবহাওয়া ও নানা কারিগরি জটিলতা কাটিয়ে মহেশখালীর বন্ধ থাকা এলএনজি টার্মিনালে ভিড়েছে এলএনজিবাহী কার্গো। ইতিমধ্যেই টার্মিনালটি থেকে জাতীয় গ্রিডে শুরু হয়েছে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ। এর মধ্য দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে দেশজুড়ে চলা তীব্র গ্যাসের স্বল্পতা ও সংকটের তীব্রতা কিছুটা হলেও হ্রাস পেতে শুরু করেছে।বৈরী আবহাওয়াসহ নানান জটিলতায় গত সোমবার থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালে কার্গো ভেড়ানো যাচ্ছিল না। এ সময় অভ্যন্তরীণ মজুদ থেকে দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ করে কোনোমতে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছিল টার্মিনালটি।আজ সামিটের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে ১১০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে পুনর্প্রক্রিয়াজাত গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ শুরু হয়েছে। আজ গভীর রাত ২টার নাগাদ এটি সর্বোচ্চ সক্ষমতা অর্থাৎ ৫৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হবে।এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে সামিটের এই টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেবল আংশিক চালু থাকা এক্সিলারেট এনার্জির অপর টার্মিনাল থেকে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। এতে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ রেকর্ড পরিমাণে কমে যায়।জাতীয় গ্রিডে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে আসায় সারা দেশের শিল্প কারখানা, টেক্সটাইল মিল ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। একদিকে তীব্র গ্যাস-সংকট অন্যদিকে চরম বিদ্যুতের লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ায় বেশ চাপে পড়ে সরকার। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিল্প কারখানায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িক কমিয়ে দিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস বরাদ্দ করা হয়।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, সাগর উত্তাল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টার্মিনালে সময়মতো এলএনজি কার্গো ভিড়ানো সম্ভব হয়নি। তবে খাত-সংশ্লিষ্ট ও বিভিন্ন সংবাদসূত্রে জানা যায়, সরকার সৌদি আরামকো থেকে যে এলএনজি কার্গোটি এনেছিল, সেটি বাংলাদেশের এফএসআরইউর সঙ্গে সংযুক্ত করার শতভাগ উপযুক্ত ছিল না। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে অনুপযুক্ত কার্গো বার্থিং করার অনুমোদন দেয়নি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি। ফলে সংকট আরও ঘনীভূত হয়।[TECHTARANGA-POST:1114]জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্টদের মতে, সামিটের ঘোষণা অনুযায়ী টার্মিনালটি পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে এবং এক্সিলারেট এনার্জির অর্ধেক সক্ষমতা সচল থাকলে রাতের মধ্যেই দেশের তীব্র গ্যাস-সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। এতে দৈনিক ২৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে যুক্ত হবে, যা সংকটকালে ২০০০ মিলিয়ন ঘনফুটের নিচে নেমে গিয়েছিল। ফলে শনিবার সকাল থেকেই শিল্প ও সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মহেশখালীতে ভিড়ল কার্গো, শুরু গ্যাস সরবরাহ: কাটার মুখে তীব্র সংকট