মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

দেশজুড়ে অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী করে তুলতে সারা দেশের অব্যবহৃত সরকারি পুকুর, হাওর-বাঁওড় এবং অন্যান্য জলাশয় সংস্কার করে স্থানীয় তরুণদের মাঝে বণ্টনের বড় নীতিগত ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব সংস্কারকৃত জলাশয়ে সরকারিভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করে স্থানীয় বেকার তরুণদের মাধ্যমে আধুনিক উপায়ে মাছ চাষের সুযোগ তৈরি করা হবে বলে জানান তিনি।আজ রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভৌগোলিক সুবিধার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমাদের নদী, পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও বিভিন্ন জলাশয়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কিংবা স্বল্প জমিতে বিজ্ঞানসম্মতভাবে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক সম্ভাবনাময় সরকারি জলাশয় অযত্নে পড়ে রয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসব জলাশয় দ্রুত সংস্কার করে সেখানে মাছের পোনা ছাড়বে।তিনি আরও যোগ করেন, "যে পুকুর, হাওর-বিল বা জলাশয়গুলো যে নির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থিত, সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় তরুণদের মাঝেই এগুলো সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে সুন্দরভাবে বণ্টন করা হবে, যাতে তাঁদের স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।" এ বিষয়ে ইতোমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মৎস্য খাত কেবল সাধারণ মানুষের আমিষ ও পুষ্টির চাহিদাই মেটাচ্ছে না, বরং বিশাল জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। মাছ চাষ, রেনু আহরণ, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে দেশের বহু মানুষের রুটিরুজি জড়িত।বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের অর্জনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের ৫২টি দেশে উন্নতমানের মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। এই সাফল্য অর্জনের মূল কৃতিত্ব দেশের প্রগতিশীল মৎস্য উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও পরিশ্রমী চাষিদের।আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা টেনে তারেক রহমান বলেন, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ জুনে প্রকাশিত বিশ্ব প্রতিবেদনে মৎস্য ও জলজ প্রাণী উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৫ম অবস্থান অর্জন করেছে। আর অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় থেকে সরাসরি মাছ আহরণে বাংলাদেশের অবস্থান ২য়। সঠিক ও পরিকল্পিত কৌশল গ্রহণ করতে পারলে এই খাত থেকে কর্মসংস্থান দ্বিগুণ করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হার আরও বাড়ানো সম্ভব।উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমের খুলনা অঞ্চলে ৩০০টি নির্দিষ্ট ক্লাস্টার গঠন করে সমন্বিত চিংড়ি চাষের আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এর ফলে ৭ হাজার ৫০০টি ঘেরে প্রতি একরে উৎপাদন গড়ে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কক্সবাজারের চকরিয়া অঞ্চলে ৭ হাজার একর জমিতে আধুনিক সুবিধা সংবলিত ‘শ্রিম্প সিটি মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।জাতীয় সম্পদ ইলিশ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইলিশ কেবল দেশের জাতীয় মাছ বা অর্থনৈতিক সম্পদই নয়, এটি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের একটি অনন্য জিআই (GI) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। দেশের মোট মাছ উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে, যা জাতীয় জিডিপিতে ১ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখছে।বর্তমানে দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এই খাতকে শতভাগ নিরাপদ রাখতে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও বিস্তৃত হাওর অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ে মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধকালীন প্রান্তিক জেলেদের মানবিক সহায়তা হিসেবে ভিজিএফ (VGF) কার্ডের আওতায় আনা হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1121]উক্ত কেন্দ্রীয় উদযোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

দেশজুড়ে অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী