ঈদের আনন্দ ম্লান করে দিল এক ভয়াবহ ট্রেন-বাস দুর্ঘটনা। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষে ঝিনাইদহের একই পরিবারের মা ও দুই শিশু সন্তানসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতদের গ্রামে এখন শোকের মাতম চলছে।নিহতরা হলেন— ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৬), তাঁদের দুই মেয়ে খাদিজা (৮) ও মরিয়ম (৪)। এ ছাড়া একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পানামি গ্রামের মুক্তার বিশ্বাসের ছেলে জোয়াদ বিশ্বাস (২৬)।নিহত লাইজু আক্তারের চাচাতো শ্বশুর শাহাজাহান মিয়া অশ্রুশিক্ত কণ্ঠে জানান, ঈদের আগে পিন্টু তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। ঈদের দিন বিকেলে লাইজু তাঁর বাবার বাড়ি যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, কাকা, দেড় বছর বাবার বাড়ি যাই না, কয়েক দিনের জন্য ঘুরে আসি। সেই আকুতি থেকেই পিন্টু তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে পিন্টু গাড়ি থেকে নেমে গেলেও তাঁর পরিবার বাসে করে গন্তব্যে যাচ্ছিল। সকালে আসা একটি ফোন কলেই তছনছ হয়ে যায় পিন্টুর পুরো পৃথিবী।[TECHTARANGA-POST:154]অন্যদিকে, নিহত জোয়াদ বিশ্বাসের আত্মীয় রমজান জানান, জোয়াদ ঝিনাইদহ শহরে মাংসের ব্যবসা করতেন। তাঁর স্ত্রী-সন্তান ঈদের আগে থেকেই নোয়াখালীতে শ্বশুরবাড়িতে ছিল। ঈদের দিন সন্ধ্যায় তাঁদের কাছে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই ওই বাসে উঠেছিলেন জোয়াদ। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি পৌঁছানোর আগেই ঘাতক ট্রেন তাঁর প্রাণ কেড়ে নেয়। আজ রাতে তাঁর লাশ গ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের দুটি গ্রামে এখন শুধু কান্নার রোল। স্বজনদের হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।