মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৯০ শিশু, আতঙ্কে অভিভাবকরা

কুষ্টিয়ায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৯০টি শিশু। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত জেলায় মোট ১৬৩ জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে আজ মঙ্গলবার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশ শিশুর বয়স ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে। জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে কুমারখালী ও দৌলতপুর উপজেলাকে সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১১ জন রোগীর শরীরে হামের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম রোগীটি ঢাকা থেকে এসেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।আজ দুপুরে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। ওয়ার্ড ছাড়িয়ে বারান্দায় ঠাঁই নিয়েছে অসুস্থ শিশুরা। হামের উপসর্গ থাকা রোগীদের জন্য দোতলায় পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হলেও সেখানেও শয্যা সংকট প্রকট। অনেক বিছানায় দুটি করে শিশুকে রাখা হয়েছে।হাসপাতালে ভর্তি থাকা শিশুদের স্বজনরা চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছেন। সদর উপজেলার ঝাউদিয়া থেকে আসা মিতু খাতুন জানান, সিরিঞ্জ থেকে শুরু করে জ্বরের সিরাপ—সবই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে। নার্সরা জানিয়েছেন, স্টোরে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তারা রোগীদের ওষুধ দিতে পারছেন না।[TECHTARANGA-POST:264]কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, "রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সব হাসপাতালে ‘হাম আইসোলেশন কর্নার’ খোলা হয়েছে এবং বিশেষ নজরদারিতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এলাকায় এলাকায় মাইকিং করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুষ্টিয়ায় হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৯০ শিশু, আতঙ্কে অভিভাবকরা