কপোতাক্ষের স্রোতে ভাঙল সাঁকো: ২০ গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা!
ভারী বৃষ্টি, প্রবল স্রোত আর কচুরিপানার প্রচণ্ড চাপে যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি এলাকায় কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত কাঠ ও বাঁশের একটি সাঁকো ভেঙে গেছে। গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) রাত ১১টার দিকে সাগরদাঁড়ি-সারসা সংযোগকারী প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ এই সাঁকোটি ভেঙে নদে বিলীন হয়ে যায়। এর ফলে নদের দুই পাড়ের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বর্তমানে দুই পাড়ের মানুষের নদ পারাপারে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে নৌকা।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর, রেজাকাটি এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সারসা, সরুলিয়া, সেনেরগাতি, ধানদিয়াসহ আশপাশের অন্তত ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সাঁকো ব্যবহার করে যাতায়াত করতেন। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে নদ পারাপার হতে হচ্ছে।সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নদের ওপারের শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হয়ে তাদের বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে।সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় দুই পাড়ের যোগাযোগের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সাগরদাঁড়ি কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন ওপার থেকে অনেক ক্রেতা ও কৃষক এই বাজারে আসতেন। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতা একবারে কমে গেছে, ওপার থেকে মালামাল আনতেও সমস্যা হচ্ছে। আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও তা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জনদুর্ভোগ দূর করতে তাঁরা দ্রুত কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন জানান, ওই স্থানে আগে কাঠের ব্রিজ ছিল, কিন্তু কপোতাক্ষ নদের কচুরিপানার প্রচণ্ড ও প্রবল চাপে ব্রিজটি ভেঙে গেছে।[TECHTARANGA-POST:994]তিনি আরও বলেন, গত বছরও এখানে ব্রিজ ভেঙে গিয়েছিল। তখন উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় নতুন করে আবার কাঠের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। যেহেতু প্রায় প্রতিবছরই এখানে ব্রিজ ভাঙে এবং নতুন করে তৈরি করতে হয়, সে জন্য এই স্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর একটি অফিসিয়াল পত্র পাঠানো হয়েছে।