মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

পকেট আছে, টাকা নাই

আমার এক ছোট ভাই আছে।ও এমন সব কথা বলে, মাঝে মাঝে বুঝতেই পারি না হাসব, না কাঁদব।সেদিন বিকেলে চায়ের দোকানে বসে আছি।হঠাৎ সে গভীর চিন্তিত মুখে বলল—— ভাইয়া, মোবাইল প্যান্ট মনে আছে?আমি বললাম—— ওই বহু পকেটওয়ালা প্যান্ট?যেটা পরে মানুষ মনে করত নিজেই একটা আলমারি?ছোট ভাই দীর্ঘশ্বাস ফেলল।— হ্যাঁ ভাইয়া… আগে কত পরতাম![TECHTARANGA-POST:681]আমি হেসে বললাম—— আরে ওসব তো ছাত্রজীবনের ফ্যাশন।এখন তুই বড় হয়েছিস, তাই আর পরিস না। এটা নিয়ে আবার এত আবেগ কিসের?ছোট ভাই মাথা নেড়ে বলল—— আপনি আসল ব্যাপারটাই বুঝলেন না।আমি বুঝলাম, এখন কোনো গভীর দার্শনিক আলোচনা আসছে।— আচ্ছা বল, আসল ব্যাপার কী?সে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলল—— আগে খরচ কম ছিল। বেতন থেকে সব খরচ করার পরও টাকা বেঁচে যেত। সেই টাকা রাখার জন্য অনেক পকেট লাগত। এখন বেতন হাতে পাওয়ার আধাঘণ্টার মধ্যেই পকেট খালি। যেখানে একটা পকেটই ভরে না, সেখানে দশটা পকেট দিয়ে কী করব?আমি চুপ।কারণ কথাটা কষ্টের হলেও সত্যি।সে আবার বলল—— আগে মোবাইল প্যান্ট পরলে মনে হতো আমি ধনী। এখন পরলে মনে হয় ফাঁকা গোডাউন নিয়ে ঘুরতেছি।আমি হেসে ফেললাম।বললাম—— তাহলে তুই এক কাজ কর। লুঙ্গি পরে অফিসে যাওয়া শুরু কর।সে অবাক—— কেন?— লুঙ্গিতে তো পকেটই নাই। যখন টাকাই নাই, তখন পকেট রেখে লাভ কী?ছোট ভাই এবার একটু রেগে গেল।— ভাইয়া, আমি সিরিয়াস কথা বলছি আর আপনি মজা করছেন! আপনার নিজের কি খরচ বাড়ে নাই নাকি?আমি একটু গম্ভীর হলাম।— খরচ তো বাড়ছেই। আয় আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। তবে একটা বুদ্ধি বের করেছি।ছোট ভাই চোখ বড় বড় করে তাকাল।— কী বুদ্ধি?আমি রহস্যময় ভঙ্গিতে বললাম—— আমি সবার কাছে টাকা ধার চাওয়া শুরু করেছি।— মানে?— বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, শ্বশুরবাড়ির লোক—যাকেই দেখি, বলি পাঁচ হাজার টাকা হবে?ব্যস! এখন কেউ আর কাছে আসে না।আড্ডার ডাক কমে গেছে, দাওয়াত কমে গেছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনও হুটহাট আসে না।মাসের খরচ অর্ধেক কমে গেছে।ছোট ভাই মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।— ভাইয়া… আপনি তো জিনিয়াস![TECHTARANGA-POST:675]আমি গর্বের হাসি দিলাম।ঠিক তখনই সে গলা নামিয়ে বলল—— আচ্ছা ভাইয়া… আমাকে দুই হাজার টাকা ধার দিতে পারবেন? সামনের মাসেই দিয়ে দেব।আমি সঙ্গে সঙ্গে চায়ের কাপ নামিয়ে রাখলাম।তারপর কোনো কথা না বলে দোকান থেকে উঠে হাঁটা দিলাম।পেছন থেকে ছোট ভাই চিৎকার করছে—— আরে ভাইয়া! কথা তো শেষ করেন!আমি হাঁটছি।

পকেট আছে, টাকা নাই