কোক স্টুডিও বাংলার দ্বিতীয় সিজনে ‘বনবিবি’ গানটি গেয়ে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা কুড়িয়েছিল দেশের জনপ্রিয় অলটারনেটিভ রক ব্যান্ড ‘মেঘদল’। ২০২৩ সালে গানটি প্রকাশের ঠিক তিন বছর পর চা-শিল্পীদের শতবর্ষের পুরোনো লোকগানের নতুন সুর ও আবেগ নিয়ে আবার কোক স্টুডিও বাংলার প্ল্যাটফর্মে ফিরল দলটি। গতকাল রাতে তাদের পরিবেশনায় কোক স্টুডিও বাংলা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি পেয়েছে ‘মুল্লুক’ শিরোনামের একটি গান।কোক স্টুডিও বাংলা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, ‘মুল্লুক’ গানটি মূলত বাংলাদেশের চা-শ্রমিকদের মুখে মুখে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকা একটি পুরোনো লোকগাথা ও লোকগানের ভিত্তি ওপর তৈরি। মূলত তরুণ প্রজন্মের সামনে শতবর্ষের পুরোনো ইতিহাস, আত্মপরিচয়, নিজস্ব আবাসভূমির সন্ধান এবং নিজ মাটিতে ফিরে যাওয়ার চিরন্তন আকুলতাকে তুলে ধরতেই এই প্রয়াস। হারিয়ে যেতে বসা একটি প্রান্তিক সম্প্রদায়ের জীবনসংগ্রামকে আধুনিক সুর ও সংগীতের আবহে এই গানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।বিগত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা বিকল্পধারার সংগীতে স্বতন্ত্র ভাবধারা নিয়ে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে মেঘদল। সাহিত্য ও ঐতিহ্যবাহী লোক উপাদানকে আধুনিক রকসংগীতের সাথে মেশানোর যে ধারা তাদের রয়েছে, এই গানেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। ‘পিঞ্জিরাকে পুষল ময়না’ শিরোনামের একটি ঐতিহ্যবাহী পঙ্ক্তি ও সুরকে উপজীব্য করে গানটি সাজানো হয়েছে। ঐতিহাসিক ‘মুল্লুক চলো আন্দোলন’ এবং চা-বাগান শ্রমিকদের জীবনগাথা ছিল গানটির মূল অনুপ্রেরণা।শিবু কুমার শীলের মূল কথা ও সুরের এই গানে মেঘদলের ব্যান্ডের শিল্পীদের পাশাপাশি সরাসরি কণ্ঠ দিয়েছেন দুই চা-শিল্পী রনজু তাঁতি এবং রঞ্জিত তাঁতি। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ঢোলের ছন্দ ও স্থানীয় শিল্পীদের আবেগঘন কণ্ঠের উপস্থিতি গানটিকে এক অনন্য মাত্রা ও গভীরতা এনে দিয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1140]উল্লেখ্য, ‘মুল্লুক’ কোক স্টুডিও বাংলার চতুর্থ সিজনের চতুর্থ পরিবেশনা। এর আগে গত জুলাই মাসে ঈশান মজুমদার ও সুনিধি নায়েকের দ্বৈত কণ্ঠে ‘পাতার বাঁশরী’ গানটি প্রকাশিত হয়েছিল। অদিত রহমানের সংগীত প্রযোজনায় ‘পাতার বাঁশরী’ গানটির কথা ও সুরও করেছিলেন ঈশান নিজেই।