তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবসায়ীদের ওপর নানামুখী হয়রানি ও অযৌক্তিক জরিমানা আরোপের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার (১৫ ও ১৬ অক্টোবর ২০২৬) সারা দেশে সব এলপি গ্যাসের দোকান বন্ধ রাখার কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।আজ সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সমিতির ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী দুই দিন সারা দেশের খুচরা ও পাইকারি এলপি গ্যাসের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।সংবাদ সম্মেলনে সমিতির পক্ষ থেকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—পরিবেশকদের কমিশন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো, কোনো কোম্পানি যাতে ইচ্ছেমতো মাসে একাধিকবার এলপিজির দাম বাড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা করা, দাম পরিবর্তন করতে হলে অবশ্যই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) মাধ্যমে তা কার্যকর করা, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিলিন্ডারে গ্যাস রিফিলিংয়ের ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক জরিমানা আরোপ অবিলম্বে বন্ধ করা।উল্লেখ্য, গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি দেশের বাজারে এলপিজির দাম নতুন করে সমন্বয় করে। নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ক্রেতাদের ৫ থেকে ৬শ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্যে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এলপিজি পরিবেশকদের দাবি, যৌক্তিক কমিশন না বাড়ালে নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা অসম্ভব। এই প্রেক্ষাপটে প্রতি সিলিন্ডারে কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকায় উন্নীত করার দাবি জানিয়ে গত ৮ অক্টোবর বিইআরসিতে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন পরিবেশকরা।