ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কার (ইঞ্জিন সংলগ্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বগি) লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ময়মনসিংহ-জামালপুর রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেন উদ্ধারে যাওয়ার পথে খোদ রিলিফ ট্রেনের একটি বগিও লাইনচ্যুত হওয়ায় উদ্ধারকাজে সাময়িক নজিরবিহীন জটিলতার সৃষ্টি হয়।আজ বুধবার (১০ জুন) সকাল সোয়া ৯টার দিকে ময়মনসিংহ নগরীর তিনকোনা পুকুরপাড় এলাকায় জামালপুর থেকে ঢাকাগামী ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কারের চারটি চাকা লাইনচ্যুত হলে এই বিপত্তি ঘটে।রেলওয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার খবর পেয়ে লোকোশেড থেকে একটি উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছামাত্রই রিলিফ ট্রেনটির নিজেরই একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।পরে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ক্ষতিগ্রস্ত বগিটি লাইনে রেখে বাকি অংশ নিয়ে মূল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের পাওয়ার কারটি উদ্ধার করা হলে ওই রুটে পুনরায় রেলযোগাযোগ সচল হয়।দীর্ঘ সময় মাঝপথে ট্রেন আটকে থাকায় প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে সাধারণ যাত্রীদের। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অবস্থা ছিল নাজেহাল।ট্রেনে আটকে পড়া যাত্রী শারমিন সুলতানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন—নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রার কথা ভেবে সন্তানকে নিয়ে ট্রেনে উঠেছিলাম। কিন্তু মাঝপথে লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে থাকতে হলো। এই তীব্র গরমে শিশুকে নিয়ে যে কী কষ্ট হয়েছে, তা বোঝানো যাবে না।আরেক যাত্রী শফিকুল ইসলাম জানান, এই রুটে ট্রেন চলাচলে প্রায়ই নানারকম কারিগরি ত্রুটি বা সমস্যা দেখা যায়। দ্রুত এই সেকশনে ডাবল রেললাইন নির্মাণ করা হলে যাত্রীদের নিয়মিত এই ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসত।[TECHTARANGA-POST:847]দুর্ঘটনার পর পরই রেলওয়ে পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ ব্যানার্জি জানান, ঘটনার পর যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছেন। সাড়ে তিন ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।এদিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান আমাদের জানান—ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেসের পাওয়ার কারের চারটি চাকা লাইনের বাইরে চলে গিয়েছিল। সেটি উদ্ধারের সময় রিলিফ ট্রেনের একটি বগিও লাইনচ্যুত হয়, যা বেশ আকস্মিক ছিল। পুরো ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।