মুকসুদপুরে জ্বালানি তেল বিতরণে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর তদারকি, দায়িত্বে ট্যাগ অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশিক কবিরের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি নির্ধারিত ফিলিং স্টেশনের জন্য একজন করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে “ট্যাগ অফিসার” হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান শুভকে মুকসুদপুর ফিলিং স্টেশনের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অনিয়ম প্রতিরোধে এই তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই রাকিবুল হাসান শুভ নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত থেকে তেল বিতরণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করছেন।তার তদারকিতে ভোক্তাদের মাঝে সুশৃঙ্খল পরিবেশে তেল বিতরণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রাহকরা নির্ধারিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মজুতদারি, কালোবাজারি বা অন্য কোনো অনিয়ম রোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।ট্যাগ অফিসার রাকিবুল হাসান শুভ বলেন, “সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি মোটরসাইকেল আরোহী বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেটসহ উপস্থিত হলে ২০০ টাকার তেল পাচ্ছেন। এছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের অনুমোদিত স্লিপ থাকলে সেচ কাজের জন্য সর্বোচ্চ ২০ লিটার পর্যন্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।”[TECHTARANGA-POST:249]তবে সরেজমিনে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও তারা সেচ পাম্পের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছেন না। এতে সেচনির্ভর জমিতে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, দিনের বেলায় তেল সরবরাহ সীমিত রাখা হলেও রাতের বেলায় পরিবহন খাতে ব্যবহৃত যানবাহনে নিয়মিত তেল দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের বৈষম্যমূলক সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং খাদ্য সংকটের আশঙ্কাও দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে বিষয়টি দ্রুত সমাধানে প্রশাসনের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।