তিস্তার বালুচরে সবুজের বিপ্লব: ঘুরে দাঁড়িয়েছে হাজারো ভূমিহীন কৃষকের ভাগ্য
একসময়ের ধূ-ধূ বালুচর এখন ফসলের সবুজ গালিচা। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীবেষ্টিত বিস্তীর্ণ অনাবাদি চরভূমি এখন সবজি ও নানা ফসলের উপযোগী মাঠে পরিণত হয়েছে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও নীলফামারী—এই পাঁচ জেলার তিস্তা অববাহিকায় জেগে ওঠা চরাঞ্চল এখন হাজারো ভূমিহীন কৃষকের জীবনে নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।নদী অববাহিকার ১৩টি উপজেলা ও ৪৫টি ইউনিয়নের কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ফসলের পরিচর্যায়। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তার ১১৫ কিলোমিটার নদীভূমি জুড়ে প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে চলতি বছরই প্রায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমি চাষের আওতায় আনা হয়েছে। যেখানে প্রায় ৬০ হাজার প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষক দিনরাত কাজ করছেন।একসময় নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে এসব এলাকার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু পলি জমে নদীর তলদেশ থেকে বিশাল বালুচর জেগে ওঠায় তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (DAE) ও বিভিন্ন এনজিও-র উৎসাহে কৃষকেরা এখন এই বালুমাটিতেই ধান, গম, ভুট্টা, কুমড়া, আলু, সরিষা ও সূর্যমুখীর মতো লাভজনক ফসল ফলাচ্ছেন।[TECHTARANGA-POST:496]বাজারে সবজির দাম চড়া থাকায় চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। অনেক চাষি এখন মূল ফসল তোলার আগেই কচি সবজির চারা ও গাছ বিক্রি করে দ্রুত আয় করছেন। বিশেষ করে সরিষা ও সূর্যমুখীর মতো তেলবীজ চাষে খরচ কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন প্রান্তিক চাষিরা।লালমনিরহাট সদর উপজেলার চর রাজপুর গ্রামের কৃষক আতাউর রহমান বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। আবহাওয়ার কারণে ফলন খুব ভালো হয়েছে। অন্যদিকে, গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুর চরের কৃষক মতিয়ার রহমান জানান, তেলবীজ চাষ এখন এ অঞ্চলে বেশ লাভজনক হয়ে উঠছে।রংপুর আঞ্চলিক ডিএই-এর অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা কৃষকদের বালুময় চরভূমি ব্যবহার করতে নিয়মিত উদ্বুদ্ধ করছি। উন্নত চাষপদ্ধতির ফলে তিস্তার এই অনুর্বর জমি এখন উৎপাদনশীল ভূমিতে পরিণত হচ্ছে, যা দেশের সার্বিক খাদ্য উৎপাদনে বড় অবদান রাখবে।