মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

ভোলায় বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন, মানুষের ঢল

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা তাঁর প্রিয় জন্মভূমি ভোলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সাবেক এই সংসদ সদস্যকে শেষবারের মতো দেখতে ও বিদায় জানাতে হাজারো মানুষের ঢল নামে।​জানাজার আগে ভোলার এই কৃতি সন্তানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে বিশেষ হেলিকপ্টার যোগে তোফায়েল আহমেদের মরদেহ ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে একটি ফ্রিজিং ভ্যানে করে তাঁর মরদেহ জানাজার স্থান ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনা হলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।​পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আজ বিকেলেই সদর উপজেলার কোড়ালিয়া গ্রামের বাড়িতে তোফায়েল আহমেদের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মায়ের পাশে এই বর্ষীয়ান রাজনীতিককে দাফন করা হবে।[TECHTARANGA-POST:779]দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানাবিধ জটিলতায় ভুগছিলেন তোফায়েল আহমেদ। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর নিউমোনিয়াজনিত শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও তীব্র শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে জীবনের শেষ আট মাসেরও বেশি সময় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অবশেষে গতকাল সোমবার (১ জুন) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।​গতকাল সোমবার বাদ মাগরিব ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে তোফায়েল আহমেদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বহু গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সাক্ষী ছিলেন তিনি। ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ৬৯-এর ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেন।​পরবর্তীতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি মোট ৯ বার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং একাধিকবার অত্যন্ত সফলতার সাথে সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম শীর্ষ সদস্য ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে ভোলার আপামর জনতাসহ দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ভোলায় বর্ষীয়ান রাজনীতিক তোফায়েল আহমেদের দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন, মানুষের ঢল