মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন: রাজধানীতে সবজি ও মাছের দামে ক্রেতারা দিশেহারা, সামান্য কমেছে মুরগি

লাগামহীন মূল্যস্ফীতির জাঁতাকলে পিষ্ট রাজধানীর সাধারণ ক্রেতারা। সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার কাঁচাবাজারে বেশিরভাগ সবজি ও মাছের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় সীমিত আয়ের মানুষের বাজার করা দিন দিন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগের মতোই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে রয়েছে গরুর মাংসের দাম। তবে এই অস্থির বাজারের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ব্রয়লার ও সোনালী মুরগির দামে।আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের মূল্যের এমন ঊর্ধ্বমুখী চিত্র দেখা গেছে।বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় টমেটো, গাজর, ফুলকপি, আলু ও লাউয়ের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। সপ্তাহের শুরুতে প্রতি কেজি টমেটো ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ তা ১০০ টাকায় ঠেকেছে। একইভাবে ১০০ টাকার গাজর বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। ফুলকপিও ৮০-৯০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ১০০ টাকার নিচে মিলছে না।সবচেয়ে বেশি চটেছে লাউয়ের বাজার; গত সপ্তাহে ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া প্রতিটি লাউ কিনতে আজ ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা। এমনকি নিম্ন আয়ের মানুষের শেষ ভরসা আলুর দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ টাকায়।তবে দু-একটি সবজির দামে সামান্য পতন ঘটেছে। লম্বা বেগুনের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে এখন ১০০ টাকায় এবং মুলার দাম ৮০ টাকা থেকে কমে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া বাজারে প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ও পটল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।[TECHTARANGA-POST:713]বাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে সবজি বিক্রেতা রাসেল বলেন, অনেক সবজির মৌসুম এখন শেষের দিকে। আড়তে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম চড়া। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই কম দামে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই।সবজির বাজারে অস্থিরতা থাকলেও মুরগির মাংসের দামে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন মধ্যবিত্তরা। এক সপ্তাহ আগে ১৯০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি আজ ১৭৫-১৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সোনালী মুরগির দামও কেজিতে ২০ টাকা কমে ৩৭০ থেকে ৩৫০ টাকায় নেমেছে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে পাকিস্তানি লেয়ার মুরগির বাজারে; সপ্তাহখানেক আগের ৩২০-৩৩০ টাকার এই মুরগি এখন এক লাফে কেজিতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।এদিকে ডিমের বাজারে প্রতি ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা, এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের মাছ চেনার ও কেনার উপায় প্রায় বন্ধ। আকার ও জাতভেদে প্রতি কেজি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। ১ কেজি ওজনের একেকটি ইলিশের দাম ঠেকেছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় এবং ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।[TECHTARANGA-POST:710]অন্যান্য মাছের মধ্যে প্রতি কেজি রুই ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২৩ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, দেশি টেংরা ও বাইন ৬০০ টাকা এবং কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।মাছ ব্যবসায়ী রহমত বলেন, মাছের দাম মূলত সরবরাহের ওপর নির্ভর করে। বাজারে মাছ বেশি আসলে দাম কিছুটা কমে। আজ পাঙাশ বেশি এসেছে, তাই ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে পারছি।বাজারে আসা ক্ষুব্ধ ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সাধারণ মানুষের আয় সেই হারে বাড়ছে না। ফলে অনেক পরিবারই এখন বাধ্য হয়ে খাবারের তালিকা ছোট করছে এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম বাজার নিয়ে ঘরে ফিরছে। সবজি, মাছ ও মাংসের এই বাড়তি দামে সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দেওয়া মধ্য ও নিম্নবিত্তদের জন্য এখন এক মহাসংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন: রাজধানীতে সবজি ও মাছের দামে ক্রেতারা দিশেহারা, সামান্য কমেছে মুরগি