মুকসুদপুর    বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
দৈনিক নতুন আলো

হাওরে মা মাছ রক্ষা ও প্রজনন নিশ্চিতকরণ: খালিয়াজুরীতে ৩১ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ

ডিমওয়ালা মা মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং পোনামাছ নিধন বন্ধে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৩১ দিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (২৯ মে) থেকে আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে বলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।​মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে উপজেলার সব নদ-নদী, বিল ও হাওরের উন্মুক্ত জলাশয়ে যেকোনো ধরনের মাছ শিকার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে। আইন অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত কঠোর অভিযান চালানো হবে।​স্থানীয় ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, শুকনো মৌসুমে এই উপজেলায় জলাভূমির আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর থাকলেও বর্ষা মৌসুমে তা এক বিশাল জলরাশিতে রূপ নেয়। বর্ষায় বিস্তীর্ণ এই হাওরাঞ্চলের আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ২৮০ হেক্টরে, যা দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র (Breeding Ground) হিসেবে পরিচিত।​খালিয়াজুরী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, মাছের নিরাপদ প্রজনন ও দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে এই নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, এই উপজেলায় বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১০ হাজার ২১১ জন। তবে এর বাইরেও মৌসুমি জেলেসহ অন্তত ১৫ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।​সরকারি প্রণোদনার বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা জানান, এবার এই নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে সরকারিভাবে জেলেদের জন্য কোনো বিশেষ প্রণোদনা বা খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা নেই। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের কিছু মানবিক সহায়তা দেওয়ার মৌখিক ঘোষণা দিয়েছেন। এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থানীয়ভাবে জেলেদের একটি নতুন তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।[TECHTARANGA-POST:756]​এদিকে নিষেধাজ্ঞা শতভাগ কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ। উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ঘাট ও বাজারগুলোতে সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে এবং মাইকিং করে জেলেদের সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন মৎস্যজীবী সমিতির মাধ্যমে মুঠোফোনে সরাসরি জেলেদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। মৎস্য সম্পদের টেকসই সুরক্ষায় হাওরাঞ্চলের সব মৎস্যজীবীকে এই আইনি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

হাওরে মা মাছ রক্ষা ও প্রজনন নিশ্চিতকরণ: খালিয়াজুরীতে ৩১ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ